বিস্ময়কর এক সুর বাজছে মরুভূমির বুকে, উৎস জানা নেই বিজ্ঞানীদেরও!
এ যেন ভুতুড়ে এক সুর! যার উৎপত্তি কোথা থেকে তা সবারই অজানা। কখনও জোরে ভেসে ওঠে সুরটি আবার কখনও ধীর পায়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। মরুভূমির ছোট ছোট ঢিবি থেকেই নাকি এই শব্দগুলো ভেসে আসে বলে ধারণা অনেকের।
আরো পড়ুন: রহস্যময় জমজ, দূরে বাস করেও স্বামী-সন্তানের নাম একই
বিখ্যাত পর্যটক মার্কো পোলো যখন এটি চীনে শুনেছিলেন, তখন তিনি মন্দ আত্মার কাজ বলে মনে করেন। তিনি খুবই স্পষ্টভাবে সুরের শব্দ শুনেছিলেন বলে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তখন তো আর বিজ্ঞানের অগ্রগতি এতোটা ছিল না, এজন্যই এই বিষয়টি নিয়ে তখন আর কেউই মাথা ঘামায়নি। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা রহস্যময় এই বিষয়টির উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
আরো পড়ুন: মৃত্যুর ৭৫ বছর পরও ছিলেন ধ্যানমগ্ন
বিজ্ঞানীরা মরুভূমির বুকে এমন বিস্ময়কর বিষয়কে ‘সিংগিং স্যান্ড’ বলে অভিহিত করছেন। তবে এই সিংগিং স্যাণ্ড কি? আর কীভাবেই বা রহস্যময়ভাবে মরুভূমির ছোট ছোট ঢিবি থেকে সুর বেরিয়ে আসে?
প্যারিসের বায়োফিজিসিস্টদের তিন সদস্যের একটি দল এর কারণ জানেন বলে দাবি করেছেন। গবেষকরা প্রথমে মরক্কোর ও পরে ওমানের মরুভূমির দুটি বালির ঢিবি বেছে নেন। তারা যখন সেই স্থানে যান, দেখতে পান মরোক্কোর মরুভূমির ওই ঢিবি থেকে ১০৫ হার্জ শব্দাঙ্কের একটি জি নোটের সুর বেরিয়ে আসছে।
আরো পড়ুন: রহস্যময় এসব জাহাজ সমুদ্রে হয়েছে উধাও, কখনো ডুবেছে আবার পুড়েছে
বিজ্ঞানীরা তো সেই শব্দ শুনে অবাক! ওমানের মরুভূমির বালিয়াড়ি থেকে যে সুর শোনা যায়, সেই সুরের সঙ্গে কাঁকড়া-বিছের শব্দও আলাদা সুরের নোটে পাওয়া যায়। যার শব্দাঙ্ক ছিল ৯০-১৫০হার্জ।
শব্দগুলো রেকর্ড করার পর, দলটি তাদের সঙ্গে ১১০ পাউন্ড (৫০ কেজি) মরক্কো মরুভূমির বালি এবং ২২০ পাউন্ড (১০০ কেজি) ওমান মরুভূমির বালি প্যাকেটে করে প্যারিস ডিডেরট বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ল্যাবে ফিরে আসেন।
আরো পড়ুন: আজব সব পানীয়! রয়েছে কুমারীর থুতু, গোমূত্রসহ ব্যাঙের জুসও
এই দলের প্রধান গবেষক সায়মন ডাগয়িস বোহি বলেন। ল্যাবে কৃত্রিমভাবে সিংগিং স্যান্ড পরীক্ষা করতে প্রচুর পরিমাণে বালির প্রয়োজন। কেন এটি ঘটে এবং শব্দটি কীভাবে নিজে থেকে তৈরি হয় তা এখনও অনিশ্চিত!
তবে প্যারিসের গবেষক দলটি ধারণা করে, বালিঝড়ের সময় প্রচুর বালিকণা একসঙ্গে নিচের দিকে নামতে থাকে। বালিকণাগুলো এভাবে নামার সময় একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় যার প্রত্যেকটির জন্য একটি শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। ‘লাখো বালুকণা ঘর্ষণের শব্দ’ হওয়ার কারণেই উৎপন্ন হয় ওই রহস্যময় সুর বলে জানিয়েছেন গবেষক স্টাফেন ডুয়াদি।
আরো পড়ুন: বাংলার ‘মোগলি’, যার কাহিনী কাঁদায় বিশ্ববাসীকে
এসব শব্দ তরঙ্গ যদি কাছাকাছি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের হয় তাহলে একটি সুরের উৎপত্তি হওয়া সম্ভব। তবে এ নিয়ে এখনও গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। আজও অবধি পৃথিবীতে মোট ৩০ টি স্থানে এই সিংগিং স্যান্ড এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়াও কিছু সমুদ্রতটের বালিতেও এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।