কাচকে কাজে লাগিয়েই বোহেমিয়া আজ বিখ্যাত
তুরস্ক কিংবা ইরানের কাচের শিল্প বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধ। এই দেশগুলোতে গেলে আপনার চোখের সামনেই দেখবেন কাচের বিভিন্ন কিছু তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আতরের বা পারফিউমের বোতলই বেশি তৈরি করা হয়। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কারুকার্য করা তৈজসপত্র।
তবে ইরান তুরস্কের এই জানা কথা নয়। জানাবো বোহেমিয়া কীভাবে কাচ শিল্পে বিখ্যাত হয়ে উঠল। বোহেমিয়ার কাচ শিল্প আজ বিশ্বখ্যাত। আজকের চেক প্রজাতন্ত্রের উত্তরে এই অঞ্চলে একটি কারখানায় বিখ্যাত ডিজাইনারদের সৃষ্টি বাস্তবে রূপান্তরিত করছেন দক্ষ কারিগররা। কঠিন পরিশ্রম সত্ত্বেও তাদের মন আবেগে ভরপুর।
আলো, গয়নাগাটি, জামাকাপড় অথবা শুধু শিল্পকর্ম সবকিছুতেই আজ শীর্ষে বোহেমিয়া। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাচ শিল্পের বৈচিত্র্য। এখানেও তাদের জাঁকজমকের অভাব নেই। চেক প্রজাতন্ত্রের উত্তরেই বেশিরভাগ কাচের কারখানা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে লাসভিট ব্র্যান্ড।
নভি বর নামের ছোট শহরের এই কাচের কারখানা। সেখানে কারিগররা হাতে করে নানা আকার ও রংয়ের সূক্ষ্ম কাজ করে চলেছেন। তবে এতে শ্রমিকদের মনে কোনো কষ্ট নেই। তারা খুব আনন্দ নিয়েই এই কাজগুলো করেন।
কারখানার প্রধান কারিগর ডাভিড শেভচিক মনে করেন, কাচের প্রতি ভালবাসা না থাকলে এটি নিয়ে আপনি কাজ করতে পারবেন না। অত্যন্ত কঠিন পরিশ্রম ও আবেগের কাজ বলে ভালোবেসে করতে হয়।
২০০৭ সালে এই কারখানায় কাজ শুরু হয়। অর্ডার অনুযায়ী বিলাসবহুল হোটেলের মতো বড় বড় জায়গায় কাজ করেছেন তারা। এমনকি ক্রেতাদের জন্য আধুনিক ডিজাইনের বিশেষ পণ্য তৈরি করে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করেছে এই কোম্পানি। ডিজাইনারদের তালিকায় রয়েছেন জাহা হাদিদ, কাম্পানা ব্রাদার্স এবং আরিক লেভি।
কোম্পানির সৃজনশীলতার মূলে রয়েছেন মাক্সিম ভেলচফস্কি। তিনি বলেন, কাচ নিয়ে কাজ করা মানে সেটির স্বচ্ছতা স্থির করা নয়। শুরুতে কাচ তরল থাকে, শেষে কঠিন হয়ে ওঠে। আমরা এই অ্যালকেমি ও জাদু নিয়ে কাজ করি।
তারা বিভিন্ন ধরনের শোপিস থেকে শুরু করে ভাস্কর্যও তৈরি করেন। এই ভাস্কর্য তৈরি করতে হয় কয়েকটি ধাপে। প্রক্রিয়ার শুরুতে হাতে আঁকা এক স্কেচ থাকে। তারপর সেই আইডিয়ার ভিত্তিতে কম্পিউটারের পর্দায় মডেল তৈরির চেষ্টা হয়। এরপর থ্রিডি প্রিন্টারে সেটির নমুনা নেয়া হয়। হাজার হাজার ছোট বুদবুদ দিয়ে প্রিন্ট হয় মডেল। এবার সেই মডেলকে বাস্তবে রূপ দেয়ার পালা। এই সময়টাতে বিশাল বুদবুদ ফোলাতে হয়। প্রযুক্তিবিদরাসেখানেই সেই বুদবুদকে চূড়ান্ত রূপ দেন।
এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৮,০০০ মুখে ফোলানো বুদবুদ দিয়ে ১৭ মিটার উঁচু ডুবুরির এক ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সৌলের এক বহুতল ভবনে ঢুকলে সেই ভাস্কর্য মানুষকে মুগ্ধ করছে।