বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মো. সরওয়ার বলেন, বরাবরের মতো এবারো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল সাতটায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
.png)
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার অন্যান্য সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঈদে নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কা নেই, তারপরেও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। যদি কিছু হয় আমাদেরকে জানাবে। সেই অনুযায়ী আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য।
জাতীয় ঈদগাহে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।
তিনি বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারী বা মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে। আমাদের ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরা এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় থাকবে। সমন্বয় অনুযায়ী আমাদের ডিএমপির পুলিশ সদস্যরা কাজ করবে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে এবং মেডিকেল থেকে ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম থাকবে। বায়তুল মোকাররম কেন্দ্রিক আলাদা কিন্তু প্রায় কাছাকাছি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহ কেন্দ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা জানাতে গিয়ে কমিশনার বলেন, জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেস ক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের গলি, ইউবিএল বা পল্টন ক্রসিং, পুলিশ কন্ট্রোল রুম গ্যাপ, মৎস্যভবন ক্রসিং এলাকায় পুলিশের ডাইভারশন থাকবে। এসব এলাকা থেকে মুসল্লিদেরকে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে। নির্ধারিত পার্কিং স্থানের বাইরে গাড়ি নিয়ে আশেপাশে ঢোকার চেষ্টা না করতে সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।
জাতীয় ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করতে হবে। গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, ব্যাগ বা কোনো কিছু আনা যাবে না। অন্যান্য যে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুরোধ সেটা রাখতে হবে। সন্দেহজনক কোনো কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশকে বা ৯৯৯-এ জানাতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ইভেন যেসব রাস্তায় ওভার স্পিডিং করে সেখানে আমাদের পুলিশ সার্জেন্টরা কাজ করবে।