শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে থানা ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ডাকাতির ঘটনার মামলা করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার নেপথ্যে কেউ আছে কিনা তা জানতে তিন আসামিকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হবে।
.png)
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ডাকাত দল ব্যাংকটিতে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাদের অভিযানের একপর্যায়ে আত্মসমর্পণ করেন তিন ডাকাত।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন- মো. লিয়ন মোল্লা নিরব (২২), মো. আরাফাত (১৬) ও সিফাত (১৬) তিনজনই স্থানীয় বাসিন্দা। নিরবের কাছে পাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে জানা যায়, তার নিজ জেলা গোপালগঞ্জ।
ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আহম্মদ মুঈদ।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া পাকাপুল এলাকায় রূপালী ব্যাংক পিএলসির জিনজিরা শাখায় কিছু দুষ্কৃতকারীরা প্রবেশ করে। ভিডিও গেম ও মুভি দেখে অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা করেন তিন কিশোর। একপর্যায়ে তারা ব্যাংকে কর্মরত ১০ কর্মকর্তা ও ৬ গ্রাহককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে তারা ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নগদ ১৫ লাখ টাকা লুট করে একটি ব্যাগে গচ্ছিত রাখেন। একইসঙ্গে আরও তিন লাখ টাকা তিনজনের প্যান্টের পকেটে রাখেন। আটক করার পর ১৮ লাখ নগদ টাকা ও চারটি খেলনা পিস্তল ও দুটি দেশীয় ছুরি পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, এক কিডনি রোগীকে সাহায্য করতে তাদের ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল। এ কারণে তারা ব্যাংকে ডাকাতি করতে যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। বাকি তিন লাখ টাকা দিয়ে আইফোন কেনার কথা জানান তারা।
এদিকে, ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী রতন বিশ্বাস। তিনি জানান, ডাকাতরা নিজের রক্ষায় বোমা বানানোর অভিনয় করেছিল, নানান হুমকি দিয়েছিল। মাথায় পিস্তল সাদৃশ্য তাক করে রেখেছিল।