জানা গেছে, সহযাত্রী হয়ে এসব যানবাহনে ওঠা মানেই নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। রাজধানী এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্তত ১৫টি স্পটে এসব বাহন নিয়ে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। কম টাকায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার নামে গাড়িতে তুলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় তারা।
এদিকে যাত্রীসাধারণকে এক্ষেত্রে সচেতন থাকার কথা বলছেন প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিশেষজ্ঞরা।
.png)
ঈদের আগের রাতে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে চন্দ্রা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন আবিদুর রহমান নামের একজন গণমাধ্যমকর্মী। ঐ প্রাইভেটকারে আগে থেকেই আরো তিনজন যাত্রী ছিলেন। গাড়িতে ওঠার মিনিট দশেকের মধ্যে সহযাত্রীরা জিম্মি করে ফেলে আবিদুরকে। শুরু হয় নির্যাতন।
আবিদুররের পরিবারের কাছে দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকার মুক্তিপণ। পরে এক লাখ টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয় আবিদুরকে। এ ঘটনায় জড়িতদের এরই মধ্যে ধামরাই থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
গাড়িতে যাত্রী হিসেবে তুলে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক সময় ভুক্তভোগীর কাছে টাকা পেলে কিংবা কোনো রকম বাধা দিলে মেরে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটছে।
এ ধরনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে অন্তত ১৫টি স্পটের সন্ধান পাওয়া গেছে। সাধারণত হাইওয়ে সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডগুলোতে কখনো প্রাইভেটকার, কখনো মাইক্রোবাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ছদ্মবেশী ছিনতাইকারীরা। শুধু রাতে নয়, দিনেও তৎপর চক্রগুলো। ঢাকা থেকে পূবার্চলমুখী ৩০০ ফিট সড়ক, নারায়ণগঞ্জের ভুলতা, গাউছিয়া, রূপগঞ্জ এলাকার কয়েকটি স্পট।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া আসে করেন- এমন যাত্রীদের টার্গেট করে বেশকয়েকটি চক্র কাজ করে। প্রায়ই এই রুটে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর আমিনবাজার থেকে সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, চন্দ্রা- এই রুটেও তৎপর একাধিক চক্র। কম টাকায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার নামে তারা মূলত টোপ ফেলে টার্গেট যাত্রীকে তাদের গাড়িতে তোলে। ঈদের মতো বিভিন্ন উৎসবে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এরা।
পুলিশ বলছে, যাত্রী সাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে নানারকম ক্যাম্পেইন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সময় কিংবা টাকা বাঁচানোর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের পরিবহন বেছে নেয় তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বাবরার সতর্ক করি। কিন্তু কিছু যাত্রী লোভে পড়ে এ ধরনের চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারায়। আমরা বলি, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড বা নির্দিষ্ট যানবাহন ছাড়া না উঠতে। কিন্তু কিছু কিছু যানবাহন একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায়, যাত্রীরাও দৌড়ে গিয়ে ঐসব যানবাহনে উঠে যায়। আমরা দেখেছি, এসব ক্ষেত্রে অপহরণ-ছিনতাইয়ের ঘটনাই বেশি ঘটে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শেখ তৌহিদুল হক বলেন, সহজে জামিন পাওয়ার কারণে অপরাধীরা বারবার একই অপরাধ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই চক্রকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এদের পেছনে লোকবল আছে। কীভাবে জামিনে বের করে নিয়ে আসতে হয় তারা সে পথ জানে। এজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগের উপর জোর দেন এ অপরাধ বিশ্লেষক।