এই দ্বন্দ্ব থেকে ক্ষোভের কারণে গত ২০ জানুয়ারি উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে খোকন ছুরি দিয়ে মামুনের পেটে ও বুকের ডান পাশে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান তিনি। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ওরফে খোকনকে (৩৫) গতকাল রোববার রাতে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
.png)
তিনি বলেন, গত ২০ জানুয়ারি দুপুরে রাজশাহীর বাঘা থানার আড়ানী বাজারে ন্যায্যমূল্যে গরু মাংস বিক্রি করায় একজন মাংস ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অপর এক মাংস ব্যবসায়ী। পরে স্থানীয় জনগণ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঐ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রাজশাহীর বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র্যাব। পরে রোববার রাতে র্যাব-৫ ও র্যাব-৮ এর একটি যৌথ দল মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি মিজানুর রহমান ওরফে খোকনকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে খন্দকার আল মঈন বলেন, ভুক্তভোগী মামুন গ্রেফতার খোকনের নিকটআত্মীয়। তারা আড়ানী বাজারে একসঙ্গে গরু মাংস বিক্রির ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি ভোক্তা অধিদফতর, মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্মিলিত বৈঠকের পর ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার খোকন ও ভুক্তভোগী মামুনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। এ কারণে আলাদাভাবে মাংস বিক্রির ব্যবসা আলাদা করেন মামুন। নির্ধারিত ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি শুরুর পর মামুনের ক্রেতা বেড়ে যায়। অন্যদিকে বেশি দামে মাংস বিক্রির কারণে খোকনের ক্রেতা কমে যায়।
র্যাব মুখপাত্র বলেন, নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি করা নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি খোকন ও মামুনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে খোকন মাংস কাটার ছুরি দিয়ে মামুনকে প্রকাশ্যে পেটে ও বুকের ডান পাশে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান। গ্রেফতার এড়াতে খোকন প্রথমে রাজশাহীর তাহিরপুরে এক আত্মীয় বাড়িতে অবস্থান করেন। পরে মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় তার এক বন্ধুর মাধ্যমে ড্রেজার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে থাকেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে রোববার রাতে র্যাবের যৌথদল তাকে গ্রেফতার করে।
খন্দকার আল মঈন আরো বলেন, খোকন মাংস ব্যবসার পাশাপাশি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মের সঙ্গে জড়িত। খোকনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় মাদক মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।