শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে র্যাব সদর দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অধিক দামে সবজি বিক্রির বিষয়ে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় দেশব্যাপী আলোচিত হচ্ছে। মূলত পণ্য উৎপাদনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের সময় সড়ক-মহাসড়কে ধাপে ধাপে চাঁদাবাজির কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দামে ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়। এর মাশুল গুনতে হয় খুচরা ক্রেতাদের। এ সমস্যা সমাধানে চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব।
.png)
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাবুবাজার, গুলিস্তান, দৈনিক বাংলা মোড়, ইত্তেফাক মোড়, টিটিপাড়া, কাজলা, গাবতলী ও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পণ্যবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় ৫১ সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় চাঁদার ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৬ টাকা, ১টি লেজার লাইট, ৬টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যাকেট, ২টি অন্যান্য লাইট, ৪টি আইডি কার্ড, ৪১টি মোবাইল এবং বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা তথাকথিত ইজারাদারদের নির্দেশে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতি রাতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি করে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে গাড়ি ভাঙচুর, ড্রাইভার-হেলপারকে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকিও দেয় এ চক্রের সদস্যরা।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা প্রতিটি পণ্যবাহী গাড়ি থেকে ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করে। এরপর আদায়কৃত তাকা ইজারাদারদের কাছে পৌঁছে দেয়। এজন্য ইজারাদাররা তাদের একেক জনকে প্রতি রাতে ৬০০-৭০০ টাকা করে মজুরি দিতো। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে প্রতি রাতে পণ্যবাহী গাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলেও জানায় তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যারা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে পণ্য মজুত করে কারসাজির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে করবে, র্যাব তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
যারা কারসাজির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুত ও দাম বৃদ্ধির করে তাদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনগণকে অনুরোধ জানিয়েছে র্যাব। এক্ষেত্রে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে র্যাবের পক্ষ থেকে।