গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আদনান আসিফ ও মো. শাকিল। শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৩ জানায়, পানির ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চেষ্টা করছিলেন যুবলীগ কর্মী রুবেল। স্থানীয় এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শাহজালাল নামে ব্যক্তির সঙ্গে তার শত্রুতা তৈরি হয়। এরপর উচিত শিক্ষা দিতে যুবলীগ কর্মীকে হত্যা করা হয়।
.png)
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, নিহত অলিউল্লাহ রুবেল রাজধানীর শাহজাহানপুরে সপরিবারে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। শান্তিবাগ এলাকায় ইন্টারনেট ও ডিমের পাইকারি ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি ঐ এলাকায় পানির ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চেষ্টা করছিলেন। মূলত এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শাহজালাল নামে ব্যক্তির সঙ্গে তার শত্রুতা তৈরি হয়।
এ কারণে ঘটনার একদিন আগে মালিবাগ পিডব্লিউডি সরকারি কলোনির মাঠে শাহজালালের নির্দেশে হাবিব, সানি, আলিফ, শাকিল, আসিফ ও আরো কয়েকজন মিলে রুবেলকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরে ২০ জুলাই রাত ১১টার দিকে রুবেল বাসায় ফেরার পথে তার গলির মুখে অবস্থান নেয় গ্রেফতার আসিফ ও শাকিল। সেখান থেকে আর একটু সামনে একই গ্রুপের বাকি সদস্য হাবিব, সানি, আলিফসহ অন্যরা রুবেলকে মারার জন্য দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অপেক্ষা করছিল।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, হাবিবকে প্রতিনিয়ত রুবেলের অবস্থানের আপডেট দিতে থাকে শাকিল ও আসিফ। এরপর রুবেল সামনে এগিয়ে গেলে হাবিব তার দলবল নিয়ে রুবেলের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। তখন রুবেল বাঁচার জন্য দৌড়াতে শুরু করে এবং হাবিব ও অন্যরা তার পেছনে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। কিছুদূর দৌড়ে আসার পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহজাহানপুর থানার ১৫৬ মালিবাগ বাজার রোড বিভাবরী বাড়ির সামনে এসে হাবিব ও তার দল রুবেলকে ধরে ফেলে এবং তাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি মাথা, হাত, পা, পিঠসহ সারা শরীরে কোপাতে থাকে। তারা যুবলীগ কর্মীর পায়ের পাতা কুপিয়ে শরীর হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ অবস্থায়ও বাঁচার জন্য রুবেল রক্তাক্ত শরীর নিয়েই এগিয়ে গিয়ে মালিবাগ সরলতা ভবনের সামনে রাস্তায় গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গ্রেফতার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, শাহজালালের পরিকল্পনাতেই এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। শাহজালালের সঙ্গে স্থানীয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রুবেলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এতে শাহজালাল ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেলকে হত্যার জন্য হাবিবকে দায়িত্ব দেয়। এরই জেরে তারা রুবেলকে হত্যার নীলনকশা সাজায়।
ঘটনার পর শাকিল ও আসিফ দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে নিজ নিজ বাসায় চলে যায়। পরদিন তারা টঙ্গিতে শাকিলের এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে গা ঢাকা দেয় এবং অন্যরা কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যায়।