ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত নবায়ন সুবিধা পাবে: মেয়র তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:১৭, ৬ জুলাই ২০২৩
ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত নবায়ন সুবিধা পাবে: মেয়র তাপস
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ব্যবসা সহজীকরণের দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের। ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। এই বিষয়টি তাদের (ব্যবসায়ীদের) অনেক সময় মনে থাকে না অথবা দেখা যায় যে বছরের শেষে করতে হয়।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা প্রথমবারের মতো ৫ বছর মেয়াদি ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের কার্যক্রম আজ থেকে শুরু করলাম। এখন থেকে যেকোনো ব্যবসায়ী বাণিজ্য অনুমতি নেয়ার পরে ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর বা ৪ বছর অথবা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত নবায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এর মিলনায়তনে আয়োজিত ২ সপ্তাহব্যাপী (৬-২০ জুলাই) ‘ট্রেড লাইসেন্স সেবা বুথ স্থাপন’ এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ৫ বছর মেয়াদি ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন সুবিধা কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

Advertisement

এ সেবা প্রথম ডিসিসিআই এর মাধ্যমে শুরু হলো জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, এই সেবা, এ সুযোগে এই অর্থ বছরের আজ থেকে আমরা শুরু করছি এবং এই অর্থ বছরের প্রথম সেবাদান কার্যক্রম ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্যদের দিয়েই  শুরু করছি। ঢাকা চেম্বার দিয়েই শুরু করছি, কারণ, আমি মনে করি, ঢাকা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঢাকা চেম্বার দীর্ঘদিন ধরে তারা অবস্থান করে নিয়েছে। ঢাকা চেম্বার ঢাকা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ ব্যাপী এখানে একটি বুথ দিয়ে রাজস্ব সেবা আমরা নিশ্চিত করবো।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্পোরেশনের সঙ্গে ব্যবসায়ী সমাজের সম্পর্ক সুসংহত হলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ঢাকা চেম্বারের সঙ্গে আমাদের যে নিবিড় সম্পর্ক তা আরো সুসংহত  হলো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ডিএসসিসির যে নিবিড় সম্পর্ক তা আরো সুসংহত হল। অংশীজন হিসেবে আমদের ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলতে হবে এবং পথ চলা উচিত- আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা আরো সমৃদ্ধ হলো।

কামরাঙ্গীরচরকে একটি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে গৃহীত পরিকল্পনা উল্লেখ করে তাপস বলেন, প্রত্যেক শহরের একটি সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ফাইন্যান্সিয়াল হাব থাকে। ঢাকা যখন স্থাপিত হয় তখন চকবাজার ফিনান্সিয়াল হাব হিসেবে  স্থাপিত হয়। কিন্তু ঢাকাকে নিয়ে কোনো সময় সুপরিকল্পিত নগরায়নের চিন্তা করা হয়নি। যে কারণে চকবাজারের সেই জৌলুস বা কার্যক্রম এখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, মতিঝিলকে ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে মতিঝিলও তার সেই জৌলুস হারিয়েছে। আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে শহর পরিকল্পনার লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি যার মাধ্যমে আমরা চকবাজারকে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে চাই। আমরা চাই সেটা ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

মেয়র তাপস বলেন, মতিঝিলকেও আমরা আবার পুনরুজ্জীবিত করতে চাই। সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা এ বছর থেকেই কার্যক্রমে যাবো। এছাড়াও স্মার্ট বাংলাদেশের যে রূপকল্প, তার আলোকে কামরাঙ্গীরচরকে একটি সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ডিসিসিআই এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং ডিসিসিআই এর সেক্রেটারি জেনারেল আনসারুল আরিফিন নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক ও ডিসিসিআইয়ের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস এর নেতারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: মেয়র তাপস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!