প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তথ্যানুসারে, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য মোট গবাদি পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৪৮ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫২টি গরু-মহিষ, ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং ২ হাজার ৫৮১টি অন্যান্য প্রজাতির গবাদি পশু।
জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারও কোরবানি দিতে হবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানেই। তাই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি ছাড়াও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি।
.png)

আরো জানা গেছে, গত ১৪ জুন সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সভায় কোরবানির পশুর বর্জ্য সূর্যাস্তের আগেই সংগ্রহ করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কমিটি করা হয়েছে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির কার্যালয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে।

ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি সূত্র জানায়, নগরবাসীর সুবিধায় কোরবানির যাবতীয় কাজ সহজ করতে পরিবহন ব্যবস্থা করবে দুই সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া কোরবানি পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএনসিসি। প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার লক্ষ্যে ঈদ এবং ঈদ পরবর্তী দুইদিন অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে পরদিন ভোর ৪টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দিন ভোর ৪টা থেকে তৃতীয় দিন ভোর ৪টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। আর ঈদের তৃতীয় দিন ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। জরুরি প্রয়োজনে ০২-৫৫০৫২০৮৪/০৯৬০-২২২২ ৩৩৩/১৬১০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, পশু কোরবানি শেষে ৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে। ১১ হাজার পরিচ্ছন্নতাকমী বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ১১ হাজার কর্মীর মধ্যে ডিএনসিসির ২৮টি ওয়ার্ডে নিজস্ব ৩০০০ কর্মী কাজ করবেন। এছাড়া ২৬টি ওয়ার্ডে বেসরকারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে ৩১০০ জন থাকবেন এবং ৩৬টি ওয়ার্ডে পিডাব্লিউসিএসপির ৪৭৫০ জন কর্মী কাজ করবেন। আর স্পেশাল ক্লিনার হিসেবে কাজ করবেন ১৫০ জন।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ঈদুল আজহায় ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ কাজে ভাড়ায় নিয়োজিত পিকআপের কর্মী থাকবে ৩২৪ জন। সেই সঙ্গে নিজস্ব যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ডাম্প ট্রাক, খোলা ট্রাক ১৫০টি, ভারী যন্ত্রপাতি ৪৭টি ও ১০টি পানির গাড়ি থাকবে। আর প্রথমদিন ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ কাজে ভাড়ায় নিয়োজিত পিকআপ থাকবে ১০৮টি ও দ্বিতীয় দিনে থাকবে ৫৪টি।

দক্ষিণ সিটির প্রস্তুতি
ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জনস্বার্থে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইজারা প্রদত্ত হাটসমূহে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সরেজমিন তদারকির জন্য ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য ৫ সদস্য হলেন- প্রধান প্রকৌশলী, পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে। কাউন্সিলরদেরও কোরবানির স্থান ও বাসাবাড়ি থেকে পশুর বর্জ্য সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ঈদের দিন রাত থেকে সীমিত পরিসরে পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, কোরবানির পশু ও হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদন করতে ৯ হাজার কর্মী নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার পচনশীল ব্যাগ, ২৮ টন ব্লিচিং পাউডার ও ২০৫ গ্যালন স্যাভলন সরবরাহ করা হবে। ১৩ ধরনের ৩৫৩টি যান-যন্ত্রপাতি (গাড়ি) বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে- ডাম্প ট্রাক ৯২টি, হুইল লোডার (পে-লোডার) ১৩টি, হুইল ডোজার (টায়ার ডোজার) ৮টি, স্কিড লোডার ৮টি,লং ট্রেইলর ৩টি,বেক-হো লোডার ৪টি,স্কেভেটর ৮টি, বুলডোজার ৫টি, কম্পেক্টর ৪০টি, কন্টেইনার ক্যারিয়ার ৪৯টি,খোলা ট্রাক (বড়) ৭৭টি, ছোট ট্রাক ৩৫টি এবং পানির গাড়ি ১১টি।