বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে অবস্থিত সদরঘাট, ওয়াইজঘাট, লালকুঠি ঘাটসহ আরো কয়েকটি ঘাট। এসব ঘাটে খেয়া নৌকা পার হয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কেরাণীগঞ্জ থেকে ঢাকা শহরে যাওয়া-আসা করেন। বুড়িগঙ্গার এ এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে অনেক বৃহদাকার লঞ্চ। ফলে বিভিন্ন সময়ে লঞ্চের ধাক্কায় ঐসব নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে নৌকার যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া রাখার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ঘাটে বেশিরভাগ নৌকায় কোনো লাইফ জ্যাকেট ও বয়া থাকে না।
২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাট অংশে বালুবাহী ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবাহী একটি খেয়া নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত হন। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর কামরাঙ্গীরচরের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় নৌকা ডুবে প্রাণ হারান চারজন। ২০১৯ সালের ৭ মার্চ বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত হন ছয় যাত্রী।
.png)
বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবির এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। যদিও পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর লঞ্চ সংখ্যা কমে যাওয়ায় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবির ঘটনা অনেকটা কমে গেছে বলে দাবি করেন সদরঘাটের মাঝিরা।

মাঝি মো. মিলন বলেন, পদ্মাসেতু চালু হওয়ার আগে অনেক বেশি লঞ্চ ছিল। তখন প্রায়ই দুইদিক থেকে লঞ্চ চেপে ধরতো। প্রচণ্ড ঢেউ হতো। এখন লঞ্চ কমে যাওয়ায় ঝুঁকি কমে গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, আকারভেদে একেকটি নৌকায় ৬ থেকে ১০ জন যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। অথচ বেশিরভাগ নৌকায় মাত্র একটি করে বয়ার দেখা মেলে। লাইফ জ্যাকেট আছে কিনা- এমন প্রশ্নে সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটের মাঝি মো. মহসিন বলেন, মালিক দুইটা লাইফ জ্যাকেট ও একটা বয়া দিয়েছে। লাইফ জ্যাকেট কোথায় রেখেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌকায় ভেতরের অংশে লাইফ জ্যাকেট রাখা আছে। অর্থাৎ, নৌকায় রাখা লাইফ জ্যাকেট দৃশ্যমান নয়। ফলে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে এসব ঘাটে পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা।
মাঝি মহসিন বলেন, নৌকা বা ট্রলারগুলোর মালিকরা পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট দেন না। আমাদের যা দিয়েছেন তা নিয়েই নৌকা চালাই।
নৌকার যাত্রী সজিব ইসলাম বলেন, নৌকা পারাপারে অনেক সময় লঞ্চ চলাচল করে। ভীষণ ঢেউ সৃষ্টি হয়। নৌকা দুলতে থাকে। সে সময় ভয়ও লাগে। আসলে লাইফ জ্যাকেট পরেই নৌকা পারাপার হওয়া উচিত।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাট দফতরের (নৌনিট্রা) যুগ্ম-পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, নৌকাগুলোয় বয়া বা লাইফ জ্যাকেট থাকে। হয়তো পর্যাপ্ত থাকে না। যদি এগুলোকে সার্ভে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা যায়, তাহলে কাজ করা সহজ হবে।
তিনি আরো বলেন, সার্ভে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার দায়িত্ব নৌপরিবহন অধিদফতরের। আমরা তাদের এসব বিষয়ে বলছি। আমরা এসব নিয়ে কাজও করছি। এছাড়া মানুষও আগের চেয়ে অনেক সচেতন।