বৃহস্পতিবার সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান এ তথ্য জানান। এর আগে বুধবার জয়দেবপুরের বানিয়ার চালা থেকে মো. ইনজামুল ইসলাম (২৬) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ওই যুবক যৌন নিপীড়নের দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো ফোনের স্টোরেজ ও গুগল ড্রাইভে সংরক্ষণ করে রাখতেন। সম্প্রতি ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনকে (এনসিএমইসি) এ তথ্য জানায়।
.png)
এরপর এনসিএমইসি সেটি বাংলাদেশ পুলিশ সদরদফতরে জানালে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ইনজামুলকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি বলছে, ২০১৯ সালে এক নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন ইনজামুল। একদিন তার ওই আত্মীয়ের মেয়ে বিষয়টি দেখে ফেলে। পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ১০ বছর বয়সের ওই শিশুটির সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে গুগল ড্রাইভে রেখে দেন। পরে ওই শিশুর মাধ্যমে তার আরেক বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে একইভাবে ভিডিও করে গুগল ড্রাইভে রেখে দেন ইনজামুল।
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে তার আরো নিকট আত্মীয়সহ অনেকের নগ্ন ছবি, ভিডিও এবং চাইল্ড পর্নোগ্রাফির প্রচুর কন্টেন্ট পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শিশুদের যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করেন।
এসব ঘটনায় আসামির নামে রাজধানীর পল্টন থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে বলে জানায় সিআইডি।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধ, শিশু পর্নোগ্রাফি নির্মূলসহ শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট তাদের নেটওয়ার্কে শিশুদের যৌনকাজে ব্যবহার, যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এনসিএমইসিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানায়। ২০২১ সাল থেকে এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হয় সিআইডি। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে শিশু যৌন নিপীড়নকারী শনাক্তকরণসহ আইনানুগ সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় সিআইডি।