মার্কেটের উল্টোপাশে ফায়ার সার্ভিস অধিদফতরের বারান্দায় বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোহেল। তিনি বলেন, ঈদের জন্য দোকানে সব নতুন মাল তুলেছিলাম। দোকান-গোডাউন মিলে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাল ছিল। গতকাল রাত হয়ে যাওয়ায় মাল কেনার নগদ ৩০ লাখ টাকা ক্যাশে রেখে গেছিলাম। আজ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমার সব শেষ হয়ে গেল।
শেষ বিকেলের ভারী হয়ে ওঠা বাতাসে ছাইয়ের স্তূপে দাঁড়িয়ে নিজের দোকান খুঁজছিলেন ইউনিক কালেকশনের মালিক মিরাজ পাটোয়ারি। গুলিস্তান মার্কেটের নিচ তলায় দোকান এবং দোতলায় ছিল তার গোডাউন। পুরোটাই পরিণত হয়েছে জ্বলন্ত অঙ্গারে।
.png)
প্যান্ট ব্যবসায়ী মিরাজ ঈদ সামনে রেখে এক সপ্তাহ আগে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার পিছ মাল তুলেছিলেন। ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার সেসব মাল পুড়ে ছাই হতে দেখে বারবার কেঁদে উঠছিলেন তিনি। মিরাজ বলেন, আমি যখন এসে পৌঁছাই তখনো আগুন গুলিস্তান মার্কেটে লাগেনি। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস নিরাপত্তা দেখিয়ে গেট বন্ধ করে দেয়, কত করে অনুনয় করেছি কিন্তু ভিতরে যেতে পারিনি। আমার এখন কি হবে?
দোকান পোড়ার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন এসবিএস গার্মেন্টসের মালিক মনির হোসেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব মনির হোসেন। ১৯৯৫ সালের অগ্নিকাণ্ডেও ছিলেন ভুক্তভোগী। দ্বিতীয়বারের এমন ক্ষতিতে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন তিনি। চোখের পানি বাঁধ মানতে না চাইলেও ছেলের হাত ধরে বারবার সামলে নিচ্ছেন নিজেকে। তিনি বলেন, ১৫ রোজা থেকে বেচাকেনা ভালো হবে এমন একটা আশা নিয়ে আমরা দোকানে মালামাল ভর্তি করেছিলাম। এটা পনেরো রোজার পর ঘটলেও হয়তো এতো ক্ষয়ক্ষতি হতো না। প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকার মাল ছিল আমার দোকানে। সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে ১৯৯৫ সালে একবার দোকান পুড়েছিল। তখন শুনেছিলাম সরকার অনেক টাকা সহযোগিতা করেছে। কিন্তু আমরা যারা ভাড়ার দোকানি তারা পেয়েছিলাম ৩ হাজার টাকা করে। এবারও যদি এমন হয় তাহলে কি লাভ হবে? আমরা ছোট ব্যবসায়ীরা কখনো কিছু পাই না।