আব্দুল হক বলেন, ‘রোজা রাখছি। সারাদিন সত্য কথা বলছি। পারলে কারোর উপকার করিছি, ক্ষতি করিনি। তাই এই ভালো কাজের কথা বইলা এখান থেকে বিনামূল্যে ইফতারি ও খাবার খাইতে পারতেছি।’
অসুস্থ এক রোগীকে রাস্তা পারাপারে সহায়তা করেন তেলু বেপারী। এই ভালো কাজটির কথা উল্লেখ করে তিনি খেতে এসেছেন ‘ভালো কাজের হোটেলে’।
.png)
চল্লিশোর্ধ্ব নাসিমা বেগম। তিনি কাজ করেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে। দিনমজুর এই নারী প্রায়ই ‘ভালো কাজের হোটেলে’ খেতে আসেন। এখানে তিনি কখনো কোনো ভালো কাজের কথা উল্লেখ করে খাবার খান। কখনো ভালো কাজের কথা উল্লেখ করতে না পারলেও তাকে হতাশ করে না ‘ভালো কাজের হোটেলে’ কর্তৃপক্ষ। তবে খাবার দিয়ে শর্ত দেওয়া হয়- আগামীকাল একটি বা দুটি ভালো কাজ করতে হবে।
নাসিমা বেগম বলেন, ‘দিন আনি দিন খাই। অনেকদিন ঠিকঠাক খাওন জোটাতেও কষ্ট হয়। তাইতো প্রায়ই এইখানে আইসা খাই। এমন ভালো একটা উদ্যোগের লাইগা আমাগো মতো গরিবের পেটে একটু খাওন জোটে।’
নাসিমা বেগমদের মতো অনেক নিম্নবিত্ত ও পথশিশুদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এই ব্যতিক্রমী হোটেলের সামনে। তাদের পেটে খাবার জোগাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে ভালো কাজের হোটেল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ‘ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিচালনা করে থাকে এই ‘ভালো কাজের হোটেল’। সাড়ে তিন বছর ধরে তারা হোটেলের এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
রাজধানীর কমলাপুর, কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও, সাতরাস্তা, বনানী ও চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে রয়েছে তাদের ভিন্ন ভিন্ন শাখা। দিনে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে হোটেলে খাবার কার্যক্রম। তবে রমজানে তারা ইফতারি ও সেহরির ব্যবস্থা করছেন। রাজধানীর পাঁচটি শাখায় প্রতিদিন ৮০০ মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন তারা। এই ৮০০র বাইরে যানজটে গাড়িতে আটকে থাকা মানুষের হাতেও ইফতারি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এমন অন্তত ৫০০ পথচারীকে তারা ইফতার করাচ্ছেন।
এত মানুষকে খাওয়ানোর অর্থ কোথা থেকে আসে- এমন প্রশ্ন জানতে চাইলে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মো. ফারুক জানান, সংগঠনের সদস্যদের চাঁদা ও বিভিন্ন উচ্চবিত্তদের সহায়তা থেকেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান জানান, আমাদের মোট ২ হাজার ২০০ জন সদস্য আছেন। তারা প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা ধরে মাসে ৩০০ টাকা দেন। সে হিসাবে মাসে অন্তত ৬ লাখ টাকা হয়। এর বাইরে কিছু বিত্তবান ও মানবিক মানুষ সহায়তা করেন। এগুলো দিয়েই আমাদের কার্যক্রম চালানো হয়ে থাকে।