ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

বড় হয়ে জজ হব’—শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করলেন ফাহিম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২৭, ১ অক্টোবর ২০২৬
বড় হয়ে জজ হব’—শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করলেন ফাহিম
ছবি: সংগৃহীত

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ৩০তম স্থান অর্জন করে সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকরামুল আলম ফাহিম। দ্বিতীয়বার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

নির্দিষ্ট লক্ষ্য, কৌশলভিত্তিক প্রস্তুতি, নিয়মিত পড়াশোনা ও পরিবারের অনুপ্রেরণাকে নিজের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ফাহিম। ছোটবেলার জজ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত তিনি।

Advertisement

ফল প্রকাশের মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ফাহিম বলেন, বিজেএসের ফল প্রকাশের সময় তিনি চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছিলেন। ফল দেখার আগে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে নিজের নামের পাশে ৩০তম স্থান দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। বিষয়টি বাবা-মাকে জানালে তারাও আনন্দে কেঁদে ফেলেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য শুরুতে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন তিনি। প্রথমবার প্রিলিমিনারিতে আশানুরূপ ফল না পেলেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে সহকারী জজ হওয়ার সুযোগ পান।

জুডিশিয়ারিতে আসার অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, মা-বাবার পাশাপাশি বিভাগের সিনিয়রদের কাছ থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। বিশেষ করে রাজীব নামের এক সিনিয়রের কারণে জুডিশিয়ারিতে আসার আগ্রহ তৈরি হয় তার।

শৈশবের একটি অভিজ্ঞতাও তাকে বিচার বিভাগে আসতে উৎসাহিত করেছে। ছোটবেলায় নিজেদের পারিবারিক বিষয়ে বিচারসংক্রান্ত নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তখন থেকেই বড় হয়ে জজ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয় বলে জানান তিনি।

কৌশলগত প্রস্তুতিতে গুরুত্ব

বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে দীর্ঘ সময় পড়ার চেয়ে পরিকল্পিতভাবে এগোনোর ওপর জোর দিয়েছেন ফাহিম। পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা তার ছিল না। তাই প্রথম সুযোগেই সফল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেন।

বই পড়ার ক্ষেত্রেও তিনি বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। ভালো ও প্রয়োজনীয় মনে হলে বিভিন্ন বই সংগ্রহ করে পড়তেন। তবে শুধু দীর্ঘ সময় পড়লেই জুডিশিয়ারিতে সফল হওয়া যায়—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।

প্রতিদিন দুই-তিনটি টিউশন থাকায় দীর্ঘ সময় পড়ার সুযোগ পেতেন না ফাহিম। সাধারণত রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সময় পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। দিনের অন্য সময় টিউশন ও অন্যান্য কাজ করতেন এবং প্রয়োজন হলে দিনে ঘুমিয়ে নিতেন।

লিখিত পরীক্ষায় ভিন্ন কৌশল

ফাহিমের মতে, বিজেএস পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো লিখিত পরীক্ষা। তাই উত্তরপত্র পরিষ্কার ও গোছানোভাবে উপস্থাপনের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন তিনি।

প্রচলিত দীর্ঘ প্যারাগ্রাফের পরিবর্তে পয়েন্ট আকারে উত্তর লেখার চেষ্টা করতেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তীর চিহ্নসহ বিভিন্ন উপায়ে তথ্য সাজিয়ে উপস্থাপন করতেন। কম লিখে প্রয়োজনীয় তথ্য বেশি দেওয়ার কৌশল অনুসরণ করেছেন তিনি।

ভাইবায় আত্মবিশ্বাস

লিখিত পরীক্ষার পর ভাইবার জন্য প্রায় সাড়ে চার মাস সময় পাওয়ায় প্রস্তুতির সুযোগও বেশি পেয়েছিলেন ফাহিম। ফলে ভাইবা বোর্ডে খুব বেশি নার্ভাস ছিলেন না তিনি।

ফাহিম জানান, বোর্ডে একটি-দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারার পর তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারায় পুরো সময়টা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই পার করেছেন।

লিখিত পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় নম্বরের চেয়ে ভালো করার প্রত্যাশা থাকায় ভাইবাতেও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছিলেন বলে জানান তিনি।

ফল প্রকাশে ছিল অনিশ্চয়তা

লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগায় একপর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ফাহিম। পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে সম্ভাব্য নম্বর হিসাব করেছিলেন। শুরুতে এতে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফল নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে।

সহপরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন আলোচনা ও ফল প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তাও তার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ফল প্রকাশের পর ৩০তম স্থান অর্জনের খবর তার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়।

টিউশনের অভিজ্ঞতা দিয়েছে বাড়তি সুবিধা

দীর্ঘদিনের টিউশনের অভিজ্ঞতাকেও নিজের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন ফাহিম। ১৫ বছর বয়স থেকে নিয়মিত টিউশন করিয়ে আসছেন তিনি। ভর্তি পরীক্ষা কিংবা জুডিশিয়ারির প্রস্তুতির সময়ও টিউশন ছাড়েননি।

কোনো চাকরিতে যোগ না দিয়ে শুরু থেকেই জুডিশিয়ারিকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি। নিয়মিত পড়াশোনা ও সাধারণ বিষয়গুলোর চর্চার পাশাপাশি টিউশনের অভিজ্ঞতা তাকে প্রস্তুতিতে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করেন ফাহিম।

তার মতে, সফলতার জন্য শুধু দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, কৌশলগত প্রস্তুতি, নিয়মিত চর্চা এবং সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনাই সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/চবি/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!