ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

ভারমুক্তি

মূলঃ এলডোয়াস হাক্সলে (Aldous Huxley), উপন্যাস- Island,1963
অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: ২১:৫৭, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪
ভারমুক্তি
ছবিঃ অন্তর্জাল (লেখক ও প্রতীকী)

ওটা দুর্ভেদ্য কারণ 
তুমি কঠিনভাবে চেষ্টা করছ।
ধীরে বৎস, ধীরে।
সবকিছুই হালকাভাবে
করতে শেখো।

হালকাভাবে অনুভব করো
যদিও তুমি গভীরভাবে
অনুভব করছ।

ঘটনাগুলোকে ঘটতে দাও
এবং হালকাভাবে নিজেকে
তাদের সঙ্গে মানিয়ে নাও।

Advertisement

আমি খুবই অযৌক্তিক রকমের
একনিষ্ঠ ছিলাম সেই দিনগুলোতে,
ছিলাম রসকষহীন এক দাম্ভিক।
ধীরে বৎস, ধীরে - এটাই ছিল তখন
আমার জন্যে শ্রেষ্ঠ উপদেশ।

সুতরাং এমনকি যখন মৃত্যু আসবে
তখনও খুব চিন্তাশীল, পূর্ব-সচেতন 
অথবা  উদ্বেলিত হওয়ার দরকার নেই।

দরকার নেই কোনো বাগাড়ম্বর, মাধুর্যপূর্ণ কণ্ঠধ্বনি,  
অথবা আত্মসচেতন ব্যক্তিত্ব
যে বিখ্যাত যীশুর অনুকরণে ক্রুশবিদ্ধ হয়।

এবং অবশ্যই দরকার নেই ধর্মতত্ত্ব
বা অধিতত্ত্বের জ্ঞান।

তোমার কেবল দরকার মৃত্যু ও 
পরিষ্কার আলো সম্পর্কে 
সত্যজ্ঞান।

সুতরাং তোমার পোঁটলাকে
ছুড়ে ফেলে দাও এবং সামনে এগিয়ে যাও।

তোমার যাত্রাপথে ছড়িয়ে আছে চোরাবালিরা,
তারা তোমার পাগুলোকে টানছে,
চেষ্টা করছে তোমাকে শুষে নিতে 
ভয়,আত্ম করুণা ও হতাশার ভেতরে।

একারণেই তোমাকে চলতে হবে 
খুবই হালকা হয়ে।

হালকাভাবে প্রিয়,
এগিয়ে যাও সন্তর্পণ পদক্ষেপে 
মালামাল বা পোঁটলা ছাড়া
সম্পূর্ণ ভারমুক্ত হয়ে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!