ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

ঋণী

(পরম শ্রদ্ধেয় পিতৃতুল্য শিক্ষক কবি মোহাম্মদ রফিকের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি)
বিপ্লব সাহা
প্রকাশিত: ১৩:৪৪, ৭ আগস্ট ২০২৩
ঋণী
ফাইল ফটো

হিসাবের খাতাটা 
হারিয়ে ফেলেছি সেই কবে
আর কেনইবা 
যত্ন করে রাখবো বলো
সবাই যে আমার কাছে 
টুকটাক পাওনাদার!

তবুও একটা বড়সড় হিসাব
রয়েছে আমার
এক একান্ত গোপন খাতায় 
যার প্রতিটি পৃষ্ঠায়
জ্বলজ্বল করে নাম তোমার।

আজ থেকে বছর চল্লিশেক আগে
সংগঠনসুত্রে
একটি ঠিকানা সম্বল করে
প্রান্তিক গেট দিয়ে ঢুকেছিলাম আমি
সেদিনের সেই তরুণের কাছে
তুমি ছিলে বাস্তবেই এক মহীরুহ
তখন তোমার সে কি পসার
সামরিক জান্তার কাছে 
তুমি ছিলে এক জীবন্ত ত্রাস
তোমার খোলা কবিতা 
ছড়িয়ে পড়েছে
মানুষের হাতেহাতে
একটি বিপ্লবী লিফলেটের মতো।

Advertisement

তুমি চিনতে না আমায়
অথচ কী দারুণ আন্তরিকতায় 
আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলে
আর রেখেছিলে আমার আবদার
জেলা সম্মেলনে
প্রধান অতিথি করার প্রস্তাব নিয়ে
এসেছিলাম আমি
তুমি হেসে বলেছিলে
'ভালোই হলো, সেন্টুর সাথে 
কাটানো যাবে কিছুটা সময়।
তুমি চেন তাকে?'

তোমার সম্মতি পেয়ে ভুলে গিয়েছিলাম 
বাড়িতে ফেরার কথা
প্রান্তিক গেটে খোলা আকাশের নীচে
নড়বড়ে এক চায়ের টেবিলে 
তোমার গুণমুগ্ধ একদল অনুসারীর সাথে
মন্ত্রমুগ্ধের মতো কাটানো
সেদিনের সেই সন্ধ‍্যাটার মতো কাব‍্যময়
সময় আসেনি আর কখনও জীবনে।
 
তাই সে রাতটাও কাটিয়েছিলাম
আল-বেরুনী হলের এক রুমে
তোমার আবেশে জাহাঙ্গীরনগর যেন 
কব্জা করে নিয়েছিল আমাকে 
সেই থেকে তোমার প্রতি ভালোবাসার 
সমানুপাতিক হয়েছে 
আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন
জানিনা, কখনও তুমি মনে রেখেছ কিনা
তোমার প্রেরণায়ই আমি ভর্তি হয়েছিলাম
ইংরেজি বিভাগে সবার শেষে।

তারপর, তোমার আশ্রয়-প্রশ্রয়, 
আদর-আহ্লাদে
বখে গিয়েছিলাম একেবারেই শুরুতে
তবুও তোমার অভিভাবকত্বের ছায়ায়
অপত‍্য স্নেহ আর মায়ায়
কাটিয়েছি সারাটা জীবন।

আজ তুমি নেই, ভাবতেই
মনে পড়ে যায় কত কী যে
অসংখ্য বর্ণিল সব স্মৃতির ভারে 
নিজের অজান্তেই দুচোখ যাচ্ছে ভিজে
অনেক অভিমান নিয়ে গেলে জানি
আজ তোমাকে জানালাম
তোমার জীবদ্দশায় যে কথা কখনও বলিনি
তোমার কাছে আমি কতোটা যে ঋণী।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!