নির্জন বিটপীর তলে
আবার কি আমাদের দেখা হতে পারে
আমরা কি অনেকটা দূর চলে গেছি
সায়াহ্ন কি হয়েছি পার
ফিরতে গেলে বেলাবেলি বড় কি দেরি হয়ে যাবে
বৃক্ষের নিচে কি নেমেছে ছায়া
পাতার আড়াল থেকে পারব কি চিনতে অবয়ব
আলো থেকে দূরে গেলে তুমি কি তেমনই থাক
পুনরপি ভাবতে গেলে নিশ্চিত সায়ংকাল
নদীও হয়েছে উত্তাল ভরপুর
মাঝি চলে গেছে পারে
অথৈ তটিনী আমি পাব কি সন্তরণে
এই ভর সন্ধ্যায় ফিরে গেলে তুমিও
নাকি আমারই মতো দ্বিধায়
নাকি বিপদ ঘনিয়েছে ঘনিষ্ঠতার দায়ে
এখনো প্রান্তরে বুড়ো বিটপীর নিচে
সাঁঝের অন্ধকারে খুঁজছ কোনো মুখ
প্রেতমূর্তি হয়তো একা একা কইছে কথা
এখানে এসেছে নেমে বিচ্ছেদের শূন্যতা।
.png)
ঘড়ি
আমি একটি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি কিনেছিলাম
ঘড়িটির নাম ঠিক মনে নেই,
হতে পারে, অ্যাংলো-সুইস ক্যাভারলি
এই ঘড়ি নির্মিত হয়েছিল
সুইজারল্যান্ডের নির্জন পর্বতচূড়ায়
সূর্যাস্তের শিশির ধোয়া রোদে
প্রবীণ কারিগড়গণের পরমযত্নে-
প্রতিটি ঘড়িরই ছিল আলাদা পরিচয়
একটির সঙ্গে ছিল না আরেকটির মিল
তাই দামও দিতে হয় বেশি
কিছুদিন আগে এক পার্টিতে গেছিলাম
এক ধনী-বন্ধুর বার্থডে পার্টি
সেই ঘড়িখানা হাতে পরে
আজকাল ঘড়ির প্রচলন যদিও নেই খুব বেশি
ঘড়ি এখন পুরষের অলঙ্কার বিশেষ
পার্টিতে ছিলাম মেতে অনেক হুল্লোড়ে
হাতে হাতে ঘুরছিল দামি পানীয় খাদ্যদ্রব্য
শিশুরা ছিল শিশুদের মতো
মেয়েরা গল্পচ্ছলে মাপছিল সহপার্টিদের
পোশাক ও অলঙ্কারের দাম
বন্ধুদের আড্ডায় সকলে মশগুল
জীবন এত আনন্দের-
মাঝে মাঝে বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে
এর মধ্যে কোথা থেকে ছুটে এলো কয়টি বালক
বলল, আঙ্কেল আপনার ঘড়িতে কয়টা বাজে
কখন যে ঘড়ির কাটা হয়েছে বন্ধ- পাইনি টের
হয়তো ফুরিয়ে গেছে ব্যাটারির দম
একজন বলে উঠল, কাকার ঘড়ির ১২টা বেজে গেছে
মেয়ে মহলে উঠল হাসির হুল্লোড়
ভদ্দরলোকেরা বহুকষ্টে গেলেন চেপে
কি আশ্চর্য! দুশো টাকার একটি ব্যাটারি নেই বলে
ঘড়িটির দামের কথা ভুলে গেল সবাই
আমিও সেই থেকে লজ্জায় নগ্ন-লাশ হয়ে
সবার সামনে ঠাণ্ডা মেঝের উপর রয়েছি শুয়ে।
সমাগত আড়াল
এখনো কিছু কাজ আছে বাকি
পানি শুকিয়ে গেলেও
নৌকাগুলো ঠিক কিনারে এসে ভিড়বে
জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি দেখে যাচ্ছি
দেখে যাচ্ছি বস্তুর পুনরাবর্তন
একই সূর্য প্রতিদিন উঠছে
পুব থেকে পশ্চিমে নিচ্ছে আড়াল
একই সূর্য ফিরে আসছে প্রতিদিন
পর্বত থেকে সমুদ্রে যাচ্ছে ডুবে
অস্থির সমীরণ ঝড়ের সৃষ্টি করছে
পৃথিবী মূলত মা বাবা শিশুর সংসার
শিশুরা বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে
আবার উঠে যাচ্ছে পর্বতে
বৃদ্ধরা সম্পন্ন করছে উত্তর-গোলার্ধে দৌড়
দক্ষিণ গোলার্ধে উঁকি দিচ্ছে লালিমা
এখন আমার সমাগত আড়াল
এখন নেমে আসছে রাত
সূর্য যেভাবে ডুবে যায় সমুদ্রে
আমারও বিশ্রাম ঠিক বিপুল জলরাশির নিচে
অশ্বের পিঠ থেকে সোয়ারি পড়ে গেলে
ঘোড়াগুলো ফিরে আসে আস্তাবলে
পুনরায় ভরে ওঠে যুদ্ধের মাঠ
ধান ও তৃণভূমি, সহযোদ্ধারা নেয় কেটে
শিষের নিচ থেকে কোমর অব্দি
এখানে আবার জেগে উঠছে ফসল
কুরঙ্গ শিশুরা খেলছে ঘাসের জমিতে
একটি ব্যাঘ্র শুয়ে আছে আয়েশি ভঙ্গিতে
রাত শেষ হলে গরুগুলো নিয়ে
আমিই ফিরে আসব জল-সিঞ্চনে।