১০০ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করবে ঢাবি

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

১০০ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করবে ঢাবি

ঢাবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৬ ১৪ মে ২০২০  

১০০টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে কাজ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১০০টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে কাজ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কোভিড-১৯ এর জিনোম সিকোয়েন্সিং ও মানবদেহের ভিন্নমাত্রার প্রভাব নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে কাজ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ফান্ড পেলে এটি অব্যাহত রাখা হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাবির সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্চ ইন সায়েন্স (কার্স) ভবনে মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান ঢাবির করোনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জীববিজ্ঞান অনুষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকগণ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংসহ আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক্সোম (মােট জিনের সমন্বয়) সিকোয়েন্সিংয়ের একটি বিস্তৃত গবেষণা প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সংগৃহীত নমুনা থেকে প্রায় ১০০টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করা হবে। যেহেতু ভাইরাসটি ক্রমাগত মিউটেশনের মাধ্যমে তার জিনগত বৈশিষ্টের পরিবর্তন ঘটিয়েছে সেহেতু অধিক সংখ্যক ভাইরাসের জিনােম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমেই একমাত্র এর আচরণগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া সম্ভব।

এতে আরো বলা হয়, এর ফলে বাংলাদেশে কোন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে, সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি কী ছিল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণের যে হটস্পটগুলি তা কী ধরণের প্রভাব ফেলেছে, আরএনএ সিকোয়েন্সে কী ধরনের পরিবর্তন হলে এটি অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অথবা আমাদের দেশের আবহাওয়া এই ভাইরাসটি উপর আদৌ কোন প্রভাব ফেলেছে কি না ইত্যাদি জানা অনেক সহজ হবে। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স হয়তাে আমাদের আরো অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর দেবে। যেমন; কেন এই ভাইরাস কোন কোন দেশে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায়? কেন প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের আপাতদৃষ্টিতে কম সংবেদনশীল মনে হচ্ছে? এই ভাইরাস কি ভবিষ্যৎে আবারও আঘাত হানতে পারে? যদি তাই হয় তার তীব্রতা কেমন হবে? এই ভাইরাসের মিউটেশনের হার কেমন? অথবা ভাইরাসটির প্রকৃত উৎস কী?

সরকারি, বেসরকারি সংস্থাকে এই প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে কাজটি শুরু করার জন্য আংশিক ব্যয় নির্বাহের জন্য দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাইবৃন্দ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। তবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আরো আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হবে। এ ব্যাপারে সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, এই প্রকল্পে জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ইউজিসি অধ্যাপক ড. মাে. আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ, অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, অধ্যাপক ড, মামুন আহমেদ, জীন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মােহাম্মদ নাজমুল আহসান ও ড. এবিএম খামেদুল ইসলাম এবং অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ও কার্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. এ. মালেক গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত থাকবেন। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেবেন ঢাবির করােনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও জীন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন হয় মঙ্গলবার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম