হট ইমো কল গার্ল নামে প্রতারণা, গ্রেফতার আরো এক
রাজশাহীর বাঘায় নারী কণ্ঠে প্রতারণার অভিযোগে ছয় প্রতারককে গ্রেফতারের পর ওই চক্রের আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে উপজেলার গাওপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে প্রতারক চক্রের অপর সদস্য শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। শফিকুল গাওপাড়া গ্রামের আসলাম আলীর ছেলে।
.png)
দুই দিন আগে উপজেলার সুলতানপুর-করারি নওশারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তারা হলেন উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাদশার ছেলে রুবেল,আরমানের ছেলে পল্লব,মানিকের ছেলে মনি,সুলতানপুর পূর্বপাড়ার শরিফলের ছেলে আল আমিন, সুলতানপুর দক্ষিন পাড়ার রাজ্জাকের ছেলে পারভেজ হাসান পিয়াস ও লালপুর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের ইনতাদুল হকের ছেলে বিপ্লব হোসেন ডলটন।
করারি-নওশারা রাস্তার ইসরাইলের বন্ধ চায়ের দোকান থেকে প্রথমে তিনজনকে দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর অপরাধ চক্রের সন্ধান পেয়ে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত ৫টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
চক্রটি প্রতারণা, অর্থ-আত্মসাৎ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা নিজ নিজ এলাকায় ইমো পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচিত। চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। প্রবাসী নামে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, গ্রুপ খুলে প্রবাসীদের অ্যাড করে তারা। পরে সেসব পেজ কিংবা গ্রুপে কিছু মেয়েকে লাইভে এ্যাড করে। ফেক ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে একে অপরের মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান করে। ওই পেজে সুন্দরী নারীদের, মেয়ে কণ্ঠে ছবি দেখিয়ে থাকে।
মোবাইল ফোনে ম্যাজিক ভয়েস এর মাধ্যমে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে দেখা করার কথা বলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন জনের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এ চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে জিম্মি হয়েছেন হাজারো প্রবাসী, হারিয়েছেন বিপুল অর্থ। সম্মান ও লোকলজ্জার ভয়ে এসব বিষয়ে মুখ খুলছেন না ভুক্তভোগী অনেকেই। তাদের প্রধান টার্গেট প্রবাসী বাংলাদেশি। সম্প্রতি একটি মামলায় অভিযান চালাতে গিয়ে বিষয়টি নজরে নিয়ে অনুসন্ধান চালায় পুলিশ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে অনেকেই জড়িত রয়েছে।
বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ আইনসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পৃথক পৃথক হয়েছে। প্রতারক চক্রটি বাঘা-লালপুর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে বিডি কল গার্ল, হট ইমো কল গার্ল, বিডি কিউট গার্ল প্রভৃতি নামে প্রতারণা করে আসছিল।