Alexa শুধু ভিআইপি আসলেই খোলে বিশ্রামাগার

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন

শুধু ভিআইপি আসলেই খোলে বিশ্রামাগার

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫২ ৩ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথের দ্বিতীয় বৃহত্তর রেলওয়ে জংশন আখাউড়া। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত জংশনটির অবকাঠামোগত পরিবর্তন হলেও আগের মতোই রয়েছে টিকেট কালোবাজারিদের প্রভাব। এছাড়া যাত্রীদের নেই কোন বসায় স্থান। স্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার খোলা হয় শুধু ভিআইপিদের জন্য।

একটি সংঘবদ্ধ চক্র রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগ-সাজসে টিকেট কালোবাজারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাউন্টারে গেলেই বলা হয় টিকেট নেই। তবে বাড়তি টাকায় টিকেট মেলে স্টেশনের চা-পানের দোকানে।

উপজেলার মোগড়া এলাকার ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম বলেন,  স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে এসেছি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কিন্তু ঢাকা যেতে রেলওয়ে স্টেশন কাউন্টারে আসনযুক্ত টিকেট না পেয়ে দালালদের কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকায় ক্রয় করতে হয়েছে। ট্রেন যাত্রী শিক্ষক মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, স্টেশনে হকার ও পকেটমার চক্রের উৎপাত বেড়ে গেছে। ট্রেনে ওঠা-নামা করতে প্রায় সময় পকেট মারের ঘটনা ঘটছে।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন

মো. বিল্লাল হোসেন নামে অপর এক যাত্রী বলেন, এ স্টেশনে টিকেট পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে পকেটমার চক্র সক্রিয় থাকায় ট্রেনে উঠা-নামা করার সময় সুকৌশলে টাকাসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে যাচ্ছে।

পৌর শহরের দূর্গাপুর এলাকার মো. কাউছার মিয়া বলেন, ঢাকা যেতে ১ সপ্তাহ আগে চেষ্টা করেও আসনযুক্ত টিকেট পাওয়া যায় না। কিন্তু চা-পানের দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।

আখাউড়া উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এখানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে টিকেট কালোবাজারি। চাহিদানুযায়ী টিকেট না পাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপার মো. খলিলুর রহমান জানান সঙ্কটের কথা। মূলত লোকবল সঙ্কটের কারণেই কালোবাজারী চক্রের সঙ্গে পেরে উঠতে পারছেন না বলে জানান তিনি। এই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাফিক (পরিবহন) ও বাণিজ্যিক বিভাগে স্টেশন সুপার, ফ্লাট ফরম স্টেশন মাস্টার, কেবিন স্টেশন মাস্টার, ইয়ার্ড মাস্টার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, হেড টিকেট কালেক্টর, বুকিং ক্লার্কসহ বিভিন্ন পদে ১৪৮ জনের মধ্যে বর্তমানে ৪৬ জন কর্মরত আছে। ট্রাফিক সেক্টরে ৮৩টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে মাত্র ৩৪ জন। আর বাণিজ্যিক বিভাগে ৬৫টি পদের মধ্যে আছেন ১২ জন। অবসরে চলে যাওয়াসহ নানা কারনে এ দুই বিভাগে ১০২টি পদ শূন্য হয়ে আছে দীর্ঘ বছর ধরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর ২২টি ট্রেন আখাউড়ায় যাত্রা বিরতি করে। সেই সঙ্গে আছে মেইল ও লোকাল ট্রেনের বিরতি।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন

সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশন প্লাটফর্মে ২০-২৫টি বসার চেয়ার থাকার কথা থাকলেও তা নেই। ৪ থেকে ৫টা ভাঙাচোরা চেয়ার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্লাটফর্মে। যাত্রীরা ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। এতে নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। তাছাড়া প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের বিশ্রামাগার থাকলেও তা থাকে সার্বক্ষণ তালাবদ্ধ। দুরাবস্থা টয়লেটেরও। নেই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা। দুর্গন্ধে যাত্রীরা পরেন না।

দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে প্লাট ফরমের টিউবওয়েলটিও। স্টেশন দলখ করে আছে ফলের দোকান, চা স্টল, আর স্টেশনারির দোকান। যাত্রীদের হাটাচলা করতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাছাড়া মাদক, জুয়া, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ দিনে দিনে বেড়েই চলছে।

ট্রেন যাত্রী মো. মোবারক হোসেন বলেন, এই স্টেশনে নাম মাত্র সেবাও পাওয়া যায় না। স্টেশনে অফিসে লোকজন না থাকায় ট্রেনের খোঁজ নেয়া যায় না। ফলে ট্রেনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

রেলওয়ের কর্মচারী মো. মঙ্গল মিয়া বলেন, লোকবলের অভাবে নিজ দায়িত্বের বাইরে এখন অনেক কাজ করতে হয়। কাজের চাপের কারনে অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজ পর্যন্ত করতে পারছি না। যেভাবে একের পর এক লোকবল অবসরসহ বিভিন্ন কারনে পদ শূন্য হচ্ছে নতুন লোক নিয়োগ না হলে রেল সেবা এক সময় বন্ধ হয়ে পড়বে।
 
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ স্টেশনে অপরাধ নির্মূলে পুলিশ তৎপর রয়েছে। যাত্রীদের নিরপত্তা দিতে রেলওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া বিনা টিকেটে ট্রেন ভ্রমণ পূর্বের থেকে অনেক কমে এসেছে। পাশাপাশি ট্রেনের ছাদে যাতে যাত্রী ভ্রমণ করতে না পারে সেদিকে খুবই তৎপর রয়েছে পুলিশ।

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপার মো. খলিলুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার সব সময় খোলা রাখলে সাধারণ যাত্রীরা এসে নোংরা করে রাখে, তাই বন্ধ রাখা হয়। তবে কোনো ভিআইপি লোকজন এলে খুলে দেয়া হয়। স্টেশন চত্বরে টিকেট কালোবাজারি রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন  তৎপর রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস