মৃত্যুর পূর্বেই হোক পরকালের প্রস্তুতি (পর্ব-২)
প্রতিটি মানুষকে মরতে হবে। এটা যতটা সুনিশ্চিত এবং সর্বসম্মত, পৃথিবীতে এরচেয়ে সুনিশ্চিত ও সর্বসম্মত দ্বিতীয় কোনো বিষয় নেই। এই কথা শুধু মুসলমানই না, বরং প্রতিটি মানুষই বিশ্বাস করে।
আরো দেখুন >>> মৃত্যুর পূর্বেই হোক পরকালের প্রস্তুতি (পর্ব-১)
বুদ্ধিমান কে :
হজরত বাহলুল রহ. যে কথাটি বলেছেন তা মূলত একটি হাদিসের বক্তব্য। হাদিস শরিফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ، وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ
‘বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই যে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে’
এ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিয়েছেন, প্রকৃত বুদ্ধিমান কে? আজকের দুনিয়ায় যে ব্যক্তি অনেক সম্পদ উপার্জন করতে পারে, টাকা খাটিয়ে টাকা বানানো যে ভালো পারে এবং মানুষকে খুব বেকুব বানাতে পারে তাকে বুদ্ধিমান বলা হয়। কিন্তু হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই যে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, মানের যে কোনো খায়েশের পেছনে ছোটে না বরং নফসকে আল্লাহ তায়ালার হুকুমের অনুগত বানায় এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
আমরা সবাই নির্বোধ :
হজরত বাহলুল রহ. হারুনুর রশিদকে যে কথা বলেছেন একটু চিন্তা করলে দেখব, তা আমাদের সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। আমাদের মধ্য থেকে প্রতিটি ব্যক্তির সার্বক্ষণিক চিন্তা হলো, কীভাবে এবং কোথায় বাড়ি বানাবো? ডিজাইন কি হবে? তাতে কি কি আরাম ও শান্তির উপরকণ সংগ্রহ করব? যদি আমরা কোথাও সফরে যাই, কয়েকদিন পূর্বেই প্লেন বা ট্রেনের সিট বুকিং দিই। কয়েকদিন পূর্ব থেকেই সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। যেখানে যাব সেখানে পূর্ব থেকেই জানানো হয়। হোটেল বুকিং করা হয়। অথচ সফর মাত্র তিনদিনের। কিন্তু যেখানে আমাদের চিরকাল থাকতে হবে, যেখানকার জীবনের শেষ নেই, তার জন্য আমাদের কোনো চিন্তা নেই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই, যে মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আর যে তা করে না, সে যত বড় ধনী ও সম্পদশালী কিংবা ক্ষমতাশালীই হোক কেন, সে বোকা।
মৃত্যু ও পরকালের ধ্যান করার পন্থা :
হাকিমুল উম্মত হজরত মাওলানা আশরাফ আলি থানবি রহ. বলেন, দিনের বেলা একটি সময় বের করে নির্জন স্থানে বস। এরপর ধ্যান কর যে, আমার শেষ সময় উপস্থিত হয়েছে। ফেরেশতা রুহ কবজ করার জন্য পৌঁছে গেছেন। তিনি আমার রুহ কবজ করেছেন। আমার আত্মীয়-স্বজনরা আমার গোসল ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থায় লেগে গেছে। এরপর আমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে কবরস্থানে নিয়ে গেছে। জানাযার নামাজ পড়ে আমাকে একটি কবরে রেখেছে। এরপর কবরকে বন্ধ করেছে এবং উপর থেকে মাটি দিয়ে তারা বিদায় নিয়েছে। এখন আমি অন্ধকার কবরে একা আছি। ক্ষণকাল পরে সাওয়াল-জবাবের জন্য ফেরেশতা এলেন। তিনি আমাকে সাওয়াল করছেন।
এরপর আখেরাতের ধ্যান কর যে, আমাকে পুনরায় কবর থেকে উঠানো হলো। হাশরের ময়দান কায়েম হয়েছে। সব মানুষ হাশরের ময়দানে উপস্থিত হয়েছে। সেখানে প্রচণ্ড গরম লাগছে। ঘাম বেয়ে পরছে। সূর্য একেবারে মাথার উপর। প্রত্যেকেই খুব পেরেশানিতে আছে। এরপর লোকেরা নবীদের কাছে যেয়ে সুপারিশের জন্য বলছে যে, আল্লাহর কাছে হিসাব-কিতাব শুরুর জন্য আবেদন করুন। এরপর এভাবে হিসাব-কিতাব, পুলসিরাত এবং জান্নাত ও জাহান্নামের ধ্যান কর। প্রত্যহ ফজর নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত, মুনাজাতে মকবুল এবং স্বীয় জিকির-আজকার থেকে অবসর হওয়ার পর কিছুক্ষণ ধ্যান করে নাও যে, শেষ সময় আসন্ন। কবে যে আসবে, জানা নেই। আজই আসে কিনা কে জানে।
এ ধ্যান করার পর দোয়া কর যে, হে আল্লাহ, আমি দুনিয়ার কাজ-কারবার এবং আয়-রোজগারের জন্য বের হচ্ছি। আমি যেন এমন কোনো কাজ করে না ফেলি যা আমার পরকালকে ধ্বংস করে দেবে। প্রত্যহ এ ধ্যান কর। একবার যদি মৃত্যুর ধ্যান ও ধারণা দিলে বসে যায় তাহলে ইনশাআলাহ নিজের ইসলাহ করার ভাবনা ও ফিকির পয়দা হবে।
হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবি নুয়ুম রহ. :
হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবি নুয়ুম রহ. অনেক বড় বুজুর্গ ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তার যুগে এক ব্যক্তির মনে, বিভিন্ন মুহাদ্দিস, আলেম, ফকীহ এবং বুজুর্গদের কাছে একটি প্রশ্ন করার খেয়াল জাগল। প্রশ্নটি হলো, ধরুন আগামীকাল আপনার মৃত্যু হবে, আপনার জীবনের আর একদিন বাকি আছে, এ দিনটি আপনি কিভাবে অতিবাহিত করবেন, এ দিনে আপনি কি কি কাজ করবেন? প্রশ্নের উদ্দেশ্য ছিল, বড় বড় মুহাদ্দিস, আলেম ও বুজুর্গরা যে সব উত্তম কাজের কথা বলবেন আমি সেগুলো জানবো এবং আমার ভবিষ্যৎ জীবনে সে আমলগুলো করব। এই ইচ্ছায় তিনি অনেক বুজুর্গকেই এই প্রশ্নটি করলেন। প্রশ্নের জবাব একেক জন একেক রকম উত্তর দিলেন। লোকটি যখন হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবি নুয়ুম রহ. এর কাছে এলেন এবং প্রশ্নটি করলেন। তিনি উত্তরে বলেন, আমি প্রত্যহ যা করি, সেদিনও তাই করবো। কারণ আমি অনেক আগে থেকেই এই চিন্তা করেই আমার প্রাত্যহিক রুটিন সাজিয়েছি যে, হতে পারে এ দিনটিই আমার জীবনের শেষ দিন এবং আজই আমি মৃত্যুবরণ করব। আমার প্রাত্যহিক এ কাজের তালিকায় এতটুকু সুযোগ নেই যে, আমি আরেকটি আমলকে এর সঙ্গে যুক্ত করব। প্রত্যহ যে আমল করি শেষ দিনেও সেই আমলই করব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের موتوا قبل ان تموتوا এ হাদিসের মর্ম এটিই তিনি মৃত্যুর ধ্যান করে নিজের জিন্দেগীকে এভাবে সাজিয়েছেন যে, প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর জন্য তৈরি হয়ে বসে আছেন। মৃত্যুর যখন ইচ্ছা হয় আসবে।
আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে সাক্ষাতের আকাক্সক্ষা :
এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ، أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ
যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের আকাক্সক্ষা করে আল্লাহ তায়ালাও তার সঙ্গে সাক্ষাতের আকাক্সক্ষা করেন। এরূপ ব্যক্তিরা প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে থাকেন। যেন তারা বলেন,
غدا نلقي الاحبة+محمدا وصحبه
কাল আমি স্বীয় বন্ধুদের সঙ্গে অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে মিলিত হব।
এরূপ মৃত্যুর ধ্যানের ফলেই শরীয়ত ও সুন্নতের অনুকরণে জিন্দেগী গড়ে উঠে এবং প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর জন্য তৈরি থাকে। মোটকথা কিছু সময় প্রতিদিন বের করে মৃত্যুর ধ্যান কর যে, মৃত্যু আসন্ন, আমি তার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছি?
আজই নিজের মুহাসাবা করে নাও :
হাদিসের দ্বিতীয় অংশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
وحَاسِبُوا قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا
তোমার হিসাব নেয়ার পূর্বেই তুমি নিজেই তোমার হিসাব নাও। আখেরাতে তোমার প্রতিটি আমলের হিসাব নেয়া হবে।
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
যে ব্যক্তি সরিষার দানা পরিমাণ ভালো কাজ করে সেদিন সে তা দেখতে পাবে আর যে ব্যক্তি সরিষার দানা পরিমাণ মন্দ কাজ করে সেদিন সেও তা দেখতে পাবে।
কেয়ামতের দিন যে হিসাব নেয়া হবে, তোমরা এর পূর্বেই নিজের হিসাব নেয়া শুরু কর। প্রত্যহ রাতে হিসাব নাও, আজকে সারাদিন তোমার কি কি গুনাহ হয়েছে? আমি এমন কি কি আমল করেছি যার ব্যাপারে কিয়ামতের দিন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে? আমলটি আমি কেন করেছি, আমি এর কি জবাব দিব?
সকালবেলা নিজের সঙ্গে অঙ্গীকার করো :
ইমাম গাযালি রহ. ইসলাহের একটি আশ্চর্য পন্থার কথা বলেছেন। যদি আমরা পন্থাটির ওপর আমল করি তাহলে ইসলাহের জন্য সেটি হবে অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। এর চেয়ে উত্তম কোনো পন্থা পাওয়া মুশকিল। তিনি বলেন, প্রতিদিন কয়েকটি কাজ কর। সকালবেলা যখন ঘুম থেকে জাগ তখন নিজের সঙ্গে অঙ্গীকার কর যে, আজকে আমি সকাল থেকে নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো গুনাহ করব না, আমার জিম্মায় যতগুলো ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নত আছে তা পালন করব এবং আমার জিম্মায় আল্লাহর যে সব হক রয়েছে এবং হুকুকুল ইবাদ রয়েছে, তা পুরোপরিভাবে আদায় করব। যদি ভুলক্রমে অঙ্গীকারের পরিপন্থী কোনো কাজ হয়, তাহলে হে নফস, উক্ত কাজের জন্য আমি তোমাকে শাস্তি দেব। এটি একটি কাজ হল। এরূপ অঙ্গীকারের নাম মুশারতা অর্থাৎ পরস্পরে শর্তারোপ করা।
অঙ্গীকার করার পর দোয়া কর :
হজরত ডা. আবদুল হাই রহ. ইমাম গাযালি রহ. এর উপরিউক্ত কথার সঙ্গে সংযোজন করেন যে, অঙ্গীকার করার পর আল্লাহ তায়ালার কাছে বল যে, হে আলাহ, আমি নিজের সঙ্গে অঙ্গীকার করেছি যে, আজকে আমি কোনো গুনাহ করব না, সবগুলো ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নত আদায় করব, শরীয়ত মোতাবেক চলব, আল্লাহর হক এবং হুকুকুল ইবাদ যথাযথভাবে আদায় করব কিন্তু হে আল্লাহ! আপনার তাওফিক ছাড়া আমি এ অঙ্গীকার পুরা করতে পারব না, আমি যেহেতু অঙ্গীকার করে ফেলেছি, এখন আপনি আমার এ অঙ্গীকারের লাজ রাখুন। আমাকে এ অঙ্গীকারের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন এবং আমাকে অঙ্গীকার ভঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করুন।
সারাদিন নিজের কাজের মোরাকাবা কর :
দোয়া করার পর কাজ-কারবার ও আয়-উপার্জনের জন্য বের হও। যদি চাকরি কর তা হলে অফিসে যাও, যদি ব্যবসা কর তা হলে দোকানে যাও, সেখানে যেয়ে প্রতিটি কাজ শুরু করার পূর্বে একটু ভেবে নাও যে, কাজটি আমার অঙ্গীকারের পরিপন্থী নয় তো? যে কথাটি মুখ থেকে বের করছি এটি অঙ্গীকার পরিপন্থী নয় তো? যদি পরিপন্থী মনে হয় তাহলে তা থেকে বাঁচার চেষ্টা কর। একেই বলে মেরাকাবা। এটি হলো দ্বিতীয় কাজ।
শোয়ার পূর্বে সারাদিনের কাজের হিসাব নাও :
তৃতীয় কাজটি রাতে শোয়ার পূর্বে কর। সেটা হলো মুহাসাবা। মনকে বলো যে, তুমি অঙ্গীকার করেছিলে কোনো গুনাহর কাজ করব না, প্রতিটি কাজ শরীয়ত মোতাবেক করব, আল্লাহর হক এবং হুকুকুল ইবাদ সবগুলো যথাযথভাবে আদায় করব। এখন বলো, তুমি কোন কাজটি অঙ্গীকার অনুযায়ী করেছ আর কোন কাজটি অঙ্গীকার অনুযায়ী করনি। এভাবে সারাদিনের কাজের হিসাব নাও। সকালবেলা যখন আমি ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম তখন অমুক ব্যক্তির সঙ্গে কি কথা বলেছিলাম, যখন অফিসে গিয়েছি সেখানে আমার দায়িত্ব আমি কীভাবে পালন করেছি? ব্যবসা আমি কীভাবে করেছি? হালাল পন্থায় করেছি, না হারাম পন্থায় করেছি? যত লোকের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি তাদের হক কীভাবে আদায় করেছি? স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের হক কীভাবে আদায় করেছি? এভাবে সারাদিনের সব কাজের হিসাব নাও। এর নাম হলো ‘মুহাসাবা’।
এরপর শোকর আদায় কর :
মুহাসাবা করার পর যদি দেখা যায় সকালবেলা তুমি যে অঙ্গীকার করেছিলে তা পুরা হয়েছে। তাহলে আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় কর যে, হে আল্লাহ! আপনি আমার কৃত অঙ্গীকার পুরা করার তাওফিক দিয়েছেন এ জন্য আপনার শোকর আদায় করছি। আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু ওয়া লাকাশ শূকর। আল্লাহ তায়ালা কোরআন শরিফে ওয়াদা করেছেন,
لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ
‘যদি তোমরা নেয়ামতের শোকর আদায় করো, তাহলে আমি নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দেব’।
তাই যখন তুমি অঙ্গীকার পুরা হওয়াতে নেয়ামতের শোকর আদায় করবে, ভবিষ্যতে আল্লাহ তায়ালা এই নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দেবেন এবং এ জন্য সাওয়াব দান করবেন। আর যদি মুহাসাবা এর পর দেখা যায়, অমুক কাজে অঙ্গীকার রক্ষা হয়নি। তাহলে তৎক্ষণাত তওবা করো এবং বলো, হে আল্লাহ! আমি অঙ্গীকার করেছিলাম কিন্তু নফস ও শয়তানের কুমন্ত্রণায় পরে অঙ্গীকারের ওপর ঠিক থাকতে পারিনি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমি তওবা করছি, আমাকে মার্জনা করুন।
চলবে..