Alexa ভয় কেন হয়?

ঢাকা, বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৬ ১৪২৬,   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

ভয় কেন হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১৯ ১৭ জানুয়ারি ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

অপ্রত্যাশিত কিছু হঠাৎ করে দেখলে বা শুনলেই ভয় পাই। মাকড়সা? সার্কাসের ক্লাউন? উঁচু ভবন? পড়ে থাকা রক্তাক্ত শরীর? হঠাৎ দেখে চমকে চিৎকার করে উঠতে পারেন অনেকে। কিন্তু মানুষ আসলে ভয় পায় কেন?

ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের মনোবিজ্ঞানী এবং ভীতি সংক্রান্ত এক বইয়ের লেখক ড. ওয়ারেন ম্যানসেল বলছেন, এটা অভিব্যক্তিমূলক, এটা জীববিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মূল ব্যাপার হচ্ছে টিকে থাকা। যে কোনো ধরনের ভীতি বা ঝুঁকির মুখে পালানো বা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের শরীরের একটা প্রস্তুতি থাকা দরকার।

সমাজবিজ্ঞানী ড. মারগী কের বলেছেন, ভয়ের কারণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং পরিত্রাণের উপায় বের করা জরুরি। এটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

বেশিরভাগ সময় মানুষ ভয় পেলে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অর্থাৎ ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে সেটা সামলানোর চেষ্টা করে অথবা সে পরিস্থিতির মুখে পালিয়ে যায় বা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায়। এ সময় মানুষের হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়, যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। তবে, অনেকেই ওই পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে। কেউ আবার ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে যান। লাফিয়ে ওঠেন।

এর কারণ মূলত যে ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে প্রস্তুতি নেয়ার মতো যথেষ্ট সময় পায়নি আপনার মস্তিষ্ক, কিন্তু আচমকা এবং বিকট ভাবেই সে পরিস্থিতির সামনে পড়েছেন আপনি।

লন্ডনের হরর মঞ্চনাটক ‘ঘোস্ট স্টোরিজে’র সহ-নির্মাতা অ্যান্ডি নাইম্যান বলছেন, প্রথমত: একদম লাফিয়ে ওঠার মতো ভীতি।

লাফিয়ে ওঠার মত প্রতিক্রিয়াকে মানুষ হাস্যকর ভাবে। কিন্তু বস্তুত এটা খুবই কঠিন এবং স্পর্শকাতর এক পরিস্থিতি।

অ্যান্ডি নাইম্যানবলেন, আপনি যদি ঠিক মতো বিষয়টা বোঝেন, তাহলে দর্শককে চমকে দিয়ে ভয় দেখানোর বিষয়টি অসাধারণ। কারণ তাদের কোনো প্রস্তুতিই থাকবে না ওই পরিস্থিতির মুখে পড়ার।

আরেক ধরনের ভয় হচ্ছে, আপনি তাতে ঠিক চমকে উঠবেন না, কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই যেন মেরুদণ্ড বেয়ে শিরশিরে একটা অনুভূতি নেমে আসা টের পাবেন।

হরর সিনেমা নিয়ে যুক্তরাজ্যেএকটি পডকাস্ট উপস্থাপনা করেন মাইক মান্সার। তিনি জানান, ভয়ের সিনেমার মধ্যেও সবচেয়ে খারাপ হচ্ছে যেটা মানুষের মাথার মধ্যে ঢুকে যায়। সিনেমা শেষ হওয়ার বহুক্ষণ পরেও থাকে সেই অনুভূতি। সবচেয়ে ভয়াল হচ্ছে, কোনো কিছু ঘটছে না নির্দিষ্ট দৃশ্যে। কিন্তু আপনি তবু ভয় পাবেন। যেমন ধরুন জনমানবহীন কোনো হোটেল করিডর বা ছোট্ট একটা ছেলে একা একা ট্রাই-সাইকেলে চড়ার চেষ্টা করছে- এসব দৃশ্য দেখে মানুষ নিশ্চিতভাবেই ভয় পায়।

অ্যান্ডি মনে করেন আসলে সিনেমার ওই বিশেষ দৃশ্য বা দৃশ্যমালা তৈরির জন্য আলোকসজ্জা বা লাইটিং থেকে শুরু করে মিউজিক এবং স্পেশাল এফেক্ট সব কিছুর ভূমিকা আছে। সব কিছু ঠিকঠাক দেখাতে পারলে, আপনি ভাবুন, হলরুমে একসঙ্গে ৯০০ মানুষ ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠছে! একজন নির্মাতার জন্য সেটা দারুণ এক অনুভূতি।

তবে একই ধরনের গল্পে প্রায় একই রকম দৃশ্য তৈরি করে দর্শককে ভয় পাওয়ানো সহজ কাজ না।

মনোবিজ্ঞানী ড. ম্যানসেল বলছেন, আপনি যদি খুব সহজেই চমকে যান, কিংবা বিশেষ কোনো ভীতি বা ফোবিয়া থাকে আপনার তাহলে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনি নিজে কিছু জিনিস চর্চা করতে পারেন। আবার প্রয়োজনে একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

এর প্রথম ধাপ হচ্ছে, নিজের মনকে প্রস্তুত করা। মানে আপনি জানেন বিশেষ কোন পরিস্থিতি আপনাকে বিব্রত করে। সুতরাং এখনই তার মুখোমুখি না হয়ে আপনার মন পুরোপুরি তৈরি হওয়ার পরই তার মোকাবিলা করুন। যেমন অনেকের উচ্চতা ভীতি রয়েছে, তাদের উচিত একটু একটু করে মনকে প্রস্তুত করা।

আর ড. কের মনে করেন, এজন্য প্রয়োজনে এক্সপোজার থেরাপি, কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি এবং ব্রিদ্রিং এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যায়ামও উপকার করে বলে তিনি মনে করেন।-বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই