ঢাকা,  সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

বিপুল-প্রদীপের নেতৃত্বে চবির ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় ‘অস্তিত্বে৭১’

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ২৯ অক্টোবর ২০১৯
বিপুল-প্রদীপের নেতৃত্বে চবির ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় ‘অস্তিত্বে৭১’
ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। ভর্তিচ্ছুরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ করেই আরেকটি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সারারাত জেগে, দীর্ঘ ভ্রমণ করে পরের দিন সকালে যান অন্য শহরের আরেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গেলে থাকবে কোথায়, কিভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র চিনবে ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করতে হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। এতে বিরক্ত হয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবকরা।

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের ভোগান্তি নিরসনে কাজ করছে ‘অস্তিত্বে ৭১’ নামের সংগঠনটি।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাসিরউদ্দিনের নির্দেশে চবিতে ২০১৯-২০ সেশনের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে ‘অস্তিত্বে ৭১’। এরই ধারাবাহিকতায় ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষা কেন্দ্র দেখিয়ে দেয়া, শাটল ট্রেনের শিডিউল বলে দেয়া ছাড়াও নানামুখী সেবা দিচ্ছেন তারা।

অস্তিত্বে৭১

সরেজমিনে দেখা যায়, ভর্তিচ্ছুদের জন্য তথ্য প্রদান ও শিক্ষার্থী সহায়তা কেন্দ্র, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ক্যাম্পাসে বসার ব্যবস্থা করাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এই সংগঠনটি। এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা।

রংপুরের কুড়িগ্রাম থেকে আসা ভর্তিচ্ছু নাসরিন সুমী বলেন, বাড়ি থেকে অনেক দূরে পরীক্ষা দিতে এসে ভয় করছিলো। কিভাবে এসে পরীক্ষা কেন্দ্র, রাস্তা চিনবো। তবে ক্যাম্পাস এ প্রবেশ করে সেই ভুলটা ভাঙলো। প্রশাসনের হেল্প ডেস্ক ছাড়াও আরো অনেক ভাইবোনেরা আমাদের সহযোগিতা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ‘অস্তিত্বে ৭১’ পক্ষ থেকে পানি, কলম পেয়ে আরো ভালো লাগছে তার।

অস্তিত্বে একাত্তরের পুরো আয়োজনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল ও চবি ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়। চবির বুদ্ধিজীবী চত্বরে বসানো হেল্প ডেস্কের সামনে তাদের সঙ্গে কথা হয়।

অস্তিত্বে৭১

এসময় ডেইলি বাংলাদেশকে বিপুল বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সিটি মেয়রের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের পাশে সার্বক্ষণিক থাকবে ‘অস্তিত্বে একাত্তর’। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসে যাতে কোন ধরনের সমস্যায় না পড়ে যায় সেই লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক কাজ করেছে। 

তিনি আরো বলেন, এরইমধ্যেই আমরা আবাসিক হলগুলোতে ভর্তিচ্ছুদের থাকার ব্যবস্থাসহ পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মাঝে সুপেয় পানি সরবরাহ, কলম বিতরণসহ তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র দেখিয়ে দেয়া ছাড়াও নানা ধরনের সহযোগিতা করছি। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় পাশে থাকবে ‘অস্তিত্বে ৭১’।

চবি ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা ও কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করছে ছাত্রলীগ। এমনকি কোনো পরীক্ষার্থী যেন হয়রানি ও প্রতারণার শিকার না হয় সেদিকেও আমরা নজর রাখছি।

তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ অতীতেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে। যারাই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছেন আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!