বরিশালে ৪১৮ প্রবাসীর খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বরিশালে ৪১৮ প্রবাসীর খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৫:২৩ ২৬ মার্চ ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বিদেশফেরত ৫৪১ প্রবাসীর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মাত্র ১২৩ জন। অথচ গৌরনদী’র ঠিকানা পাসপোর্টে ব্যবহার করে বিদেশফেরত বাকি ৪১৮ প্রবাসীর সন্ধান পাচ্ছে না গৌরনদী থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তাদের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গৌরনদী বার্থী ইউপির জহের জাহান ফকির জানান, প্রতিবেশী প্রবাসী হাফিজুল ওরফে হাফিজ ফকির কয়েকদিন পূর্বে ওমান থেকে বাড়িতে এসে হাট-বাজার ও এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকেন। ১৮ মার্চ হাফিজ জ্বর, কাশি ও সর্দিতে আক্রান্ত হলে গৌরনদী হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করে। ওইদিন থানার এসআই আসাদুজ্জামান খান হাফিজের বাড়িতে এসে তাকে না পেয়ে তার পরিবারের ছয় সদস্যকে ১৪ দিন ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেন।

সেই দিন থেকে হাফিজ আত্মগোপনে থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরই থাকছেন। কিন্তু বিদেশফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মেনে অবাধে ঘোরাফেরার কারণে করোনারভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান জানান, ইতালী, গ্রীস, ওমান, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, সৌদি, ইরাক, ইরান, চীন, ভারতসহ বিদেশ থেকে ৫৪১ প্রবাসী গৌরনদীর আসার তথ্য পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২৩ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তালিকায় প্রবাসীর নামের সামনে পূর্নাঙ্গ ঠিকানা না দিয়ে খালি শুধুমাত্র গৌরনদী লেখা রয়েছে। তাই বিদেশফেরত বাকি ৪১৮ প্রবাসীর অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, অবস্থান নিশ্চিত হাওয়ার জন্য তাদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। তার ধারণা বিদেশফেরত বাকিরা গৌরনদীতে অবস্থান না করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১২৩ প্রবাসীর সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তাদের প্রত্যেককে ১৪দিন পারিবারিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ নেই। তাদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা গেলে সরকারিভাবে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

বিদেশফেরত বাকি প্রবাসীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের খুঁজছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। বিদেশফেরত বাকিরা গৌরনদীতে অবস্থান না করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জেলা সির্ভিল সার্জন জানান।

গৌরনদী ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, করোনা মোকাবিলার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউপি ও একটি পৌরসভার আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইসোলেশন হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশফেরত কারো শরীরে করোনার লক্ষণ না পাওয়ায় এখনো কেউ ভর্তি হয়নি বলেও জানান ইউএনও।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম