ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পুড়িয়ে মারতে চাইলেন স্বামী, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:১৮, ২৩ এপ্রিল ২০২০
পুড়িয়ে মারতে চাইলেন স্বামী, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারতে চেষ্টা করা হয়েছে। এ  অভিযোগ উঠেছে তারই স্বামীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আইয়ুব নবীর বিরু‌দ্ধে গোপালপুর থানায়  মামলা হ‌য়ে‌ছে। দগ্ধ ওই গৃহবধূর চি‌কিৎসার দা‌য়িত্ব নি‌য়ে‌ছেন গোপালপুর থানার ওসি।

গত মঙ্গলবার সকা‌লে জেলার গোপালপুর উপ‌জেলার দক্ষিণ পাথালিয়া সওদাগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘ‌টে।

Advertisement

এ ঘটনায় বুধবার রাতে স্বামী আইয়ুব নবীর বিরু‌দ্ধে মামলা করা হয়। দগ্ধ গৃহবধূ শান্তা আক্তার উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের মোক্তার আলীর মেয়ে।

১২ বছর আগে একই উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া সওদাগর পাড়া গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আইয়ুব নবীর সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকে শান্তার বিয়ে হয়। সুখের সংসারে জম্ম নেয় দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে। কিন্তু অভাবের কারণে সংসার আর ভালো থাকেনি। তিন বছর আগে শান্তার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে বাড়ি আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় শান্তা।

পরে গ্রাম্য সালিশে নির্যাতন না করার অঙ্গীকারে আবার ঘরে ফেরেন শান্তা। তবে কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় আবার নতুন করে যৌতুকের জন্য নির্যাতন। শান্তার পরিবার তা দিতে না পারায় গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শান্তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী আইয়ুব নবী। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে গোপালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেণ। সেখানে একদিন রাখার পর বুধবার তার অবস্থার আরো অবনতি হলে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তাকে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য না থাকায় বুধবার রাতেই গ্রামের বা‌ড়ি‌তে ফিরে আসে। পরে থানায় গি‌য়ে তার স্বামীর বিরু‌দ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার বাদী শান্তার ভাই লতিফ জানান, তাদের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। তাই বোনকে গ্রামে নি‌য়ে এসে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা চালা‌নো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর থানার ওসি চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

গোপালপুরে থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। মানবিকবোধ থেকেই তার চিকিৎসার প্রাথমিক দায়িত্ব নিয়েঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামি পলাতক রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!