Alexa নারী স্বাধীনতার প্রতীক স্কুটি

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

নারী স্বাধীনতার প্রতীক স্কুটি

লাইফস্টাইল ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০১ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্কুটি এখন নারীদের জন্য খুবই পরিচিত একটি নাম। এক কথায় নারীদের হাজার সমস্যার সমাধান স্কুটি। বিশেষ করে যেসব নারীরা চাকরি করেন তাদের জন্য এটি খুবই উপকারি। তাছাড়া গৃহিণীরাও সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যেতে এর ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিশবিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েরাও এখন অনায়াসে স্কুটি ব্যবহার করছেন। স্কুটি নারীদেরকে এগিয়ে নিয়েছে অনেকটা পথ আগে। তাই বলা চলে, নারী স্বাধীনতার প্রতীক স্কুটি।

রাজধানীতে যানজট ও গণপরিবহনের স্বল্পতার কারণে তুলনামূলক নারীদেরই বেশি ভুগতে হয়। বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, লোকাল বাসে সিট না পাওয়া, সিট খালি না থাকলে না ওঠানো, বাসে দাঁড়িয়ে থাকা, বাসে উঠতে না পেরে রিকশা কিংবা সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো- এ ঘটনাগুলো যেন নারীদের নিত্যদিনের রুটিনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া এই চলাচলের পথে নানা ভাবে নারীদের হেনস্থার স্বীকার হতে হয়।  

তাই তো সব সমস্যার সমাধানে চলার সঙ্গী হিসেবে অনেক নারী বেছে নিচ্ছেন স্কুটি। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী কিংবা চাকরিজীবী নারীদের দারুণ স্বস্তি দিচ্ছে এই বাহনটি। এর ফলে সময় ও টাকা দুটোই বাঁচে।

ফাইল ছবিস্কুটির সুবিধা
‘আগে যে গন্তব্যে যেতে ৫০ টাকা রিকশা ভাড়া লাগতো, এখন সেখানে যেতে ১০ টাকার তেল লাগে। দীর্ঘক্ষণ যানজটে বসে থাকতে হয় না। অনেক সময় বাঁচে। আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। মনে হয় এখন আমি সব পারব।’ লোকাল বাসে চলাচল যারা করে, কেবল সেসব মেয়েরাই জানে প্রতিনিয়ত কী রকম বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়। তাইতো স্কুটি উত্তম।   

কী কী আছে স্কুটিতে
স্কুটি তৈরিই হয় হালকা মেটাল দিয়ে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে কম। মোটরসাইকেলের চেয়ে স্কুটি চালানোও বেশ সহজ। স্কুটির গতি কিছুটা কম। প্রথমদিকে চালানো শেখার জন্য স্কুটির পেছনের চাকার সঙ্গে অতিরিক্ত দুটি চাকা লাগানো থাকে, যা পরে খুলে রাখা যায়। পার্কের সুবিধার্থে রয়েছে ইজি সেন্টার স্ক্যান্ড।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য আছে ৯০ মিলিমিটার চওড়া অ্যান্টি স্কিড টায়ার। ব্যাগ অথবা অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার জন্য এতে আলাদা চেম্বার যুক্ত করা আছে। তাই শুধু জিন্স প্যান্ট আর ফতুয়া পরেই নয়, স্কুটি চালানো যেতে পারে সালোয়ার-কামিজ এমনকি শাড়ি পরেও। রং ও ডিজাইনেও যথেষ্ট বৈচিত্র্য আছে। লাল, নীল, সাদা, হলুদ, পিংক ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের স্কুটি পাওয়া যায়। চাইলে পেছনে একটা ঝুড়িও সংযুক্ত করে নিতে পারেন।

কিছু বিড়ম্বনা
তবে কিছু বিড়ম্বনাও আছে। রাস্তায় স্কুটি চালানোর সময় প্রথম প্রথম সবাই এমনভাবে তাকায়, যা বিরক্তিকর। তাছাড়া ঠিকমতো সাইড দিতে চায় না। মেয়ে বুঝতে পারলে বাসগুলো ঘেঁষে দাঁড়ায়। আর তীর্যক মন্তব্য তো আছেই। কোনো কারণে হুট করে স্কুটিতে সমস্যা হলে রাস্তায় সবাই এমন করে যেন মেয়ে বলেই স্কুটি নষ্ট হয়েছে। তবু মনে হয়, স্কুটির সুবিধাই বেশি। এখন রাস্তায় রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে ট্রাফিক পুলিশ সবাই খুব সাহায্য করে। তাই সামর্থ্য থাকলে প্রতিটি মেয়ের উচিত স্কুটি চালানো শেখা। কারণ সময়, অর্থ ইত্যাদি তো বটেই, এর ফলে লোকাল বাসের অনেক বিড়ম্বনা থেকেও রেহাই মিলবে।

ফাইল ছবিচাইলেই পারবেন
বাংলাদেশে জিনান মোটরসের চেয়ারম্যান মুজাদ্দিদে আল ফাসানী জানালেন, স্কুটি চালানো শেখা কোনো কঠিন বিষয় নয়। যে কেউ চাইলে পারবে। আর যারা সাইকেল চালাতে পারে, তাদের জন্য তো খুবই সহজ। স্কুটিতে অটোগিয়ার থাকে। তাই ছেলেদের মোটরসাইকেলের মতো গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলা নেই। দুই হাতে ধরে ভারসাম্য বজায় রাখলেই চলবে। আরেকটা বড় সুবিধা হলো, সিএনজি গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় না।

কোথায় শিখবেন
ঢাকা শহরে অনেক জায়গায়ই মেয়েদের স্কুটি চালানো শেখানো হয়। কিছু কিছু কোম্পানি নিজেদের উদ্যোগেই কাস্টমারদের স্কুটি চালানো শেখায়। খুব কম সময়ে শেখা যায়। ফলে কারো তেমন কষ্ট হয় না। বাংলাদেশ উইমেন রাইডারস ক্লাব নামে পুরান ঢাকায় নারী বাইকার নিয়ে একটা ক্লাবও আছে। তারাও স্কুটি চালানো শেখায়। সেখান থেকেও শিখে নিতে পারেন।

দরদাম
বাংলাদেশে হিরো হোন্ডা, টিভিএস, ইয়ামাহা, জিনান, মাহিন্দ্রা, সিঙ্গার, সুজুকি ইত্যাদি ব্র্যান্ডের স্কুটি পাওয়া যায়। মগবাজারের সোনারগাঁও মোটর্সের ম্যানেজার আবদুল আউয়াল বলেন, ‘বর্তমান বাজারে যে কোম্পানির স্কুটিগুলো বেশি চলছে, তার ভেতর টিভিএস, হিরো, জিনান ও সুজুকি অন্যতম।

বাহনটি সাধারণত ৫০ থেকে ১৫০ সিসির হয়ে থাকে। দাম ৭৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে।’ শুধু মেয়েদের জন্যই তৈরিকৃত হেলমেটেও রয়েছে বৈচিত্র্যের ছাপ। অপেক্ষাকৃত ছোট ও হালকা এসব হেলমেটের দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা। বংশাল, তেজগাঁও, মিরপুর এলাকায় কোম্পানিগুলোর বেশ কিছু শোরুম আছে। তাছাড়া প্রায় সব বাইকের দোকানে এখন স্কুটি বিক্রি হয়।

বাংলামোটরের শফিক মোটরসের ব্যবস্থাপক মো. শফিক জানালেন, ‘কোম্পানি অনুমোদিত ডিলার থেকে কেনাই ভালো। আরেকটা বিষয়, বাজারে যেসব কোম্পানির পার্টসগুলো সচরাচর পাওয়া যায়, সেসব বাইকই কেনা উচিত।’

ফাইল ছবি

সতর্কতা
সাধের বাইকটি নিয়ে বের হওয়ার আগে রাস্তায় চলার নিয়ম-কানুনগুলো ভালোভাবে জানতে হবে। হতে হবে আত্মবিশ্বাসী। যে বাইকটি কিনতে চাচ্ছেন তার অ্যাকসেসরিসজগুলো মার্কেটে কেমন পাওয়া যায়, তা জেনে নেয়া দরকার। চালানোর সময় অবশ্যই মাথায় হেলমেট ব্যবহার করুন। হেলমেট কেনার সময় নিশ্চিত হোন, এটা আপনার মাথায় যথাযথভাবে আঁটে কি না। আঁটসাঁট হেলমেট অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বেশি খরচ হলেও ভালো মানের হেলমেট কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। হেলমেট যেন মাথা থেকে চোয়াল পর্যন্ত হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব সময় সঙ্গে রাখুন। নিয়মিত স্কুটির যত্নও নিতে হবে। প্রায় সব ধরনের পোশাক পরেই চালানো যায়। তবে যে পোশাক পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, সেটাই বেছে নেয়া ভালো। শাড়ি ও ওড়না পরে চালাতে হলে স্টার্ট নেয়ার আগে ওড়না, শাড়ির আঁচল ঠিক করে নিতে হবে। শাড়ি বা থ্রিপিস অস্বস্তিকর মনে হলে জিন্স বা গ্যাবার্ডিনের সঙ্গে শার্ট বা টি-শার্ট কিংবা ফতুয়া পরতে পারেন।

লেন পরিবর্তনের সময় সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য ডান ও বাঁয়ের ভিউ মিররের দিকে লক্ষ্য করবেন। মানসিকভাবে চাপে থাকলে স্কুটি চালানো থেকে বিরত থাকুন। গতি ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। এতে স্কুটি অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অনেকে গান শুনতে শুনতে বা কথা বলতে বলতে স্কুটি চালান। মনোযোগ নষ্ট হয় বলে এটা পরিহার করা উচিত। ঝোড়ো হাওয়ায় স্কুটির ভারসাম্য নষ্ট হয়। আর বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় ধীরে ধীরে স্কুটি চালাতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ