Alexa দু’টি মহান নেয়ামত এবং তার প্রতি উদাসীনতা (পর্ব-৩)

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১০ ১৪২৬,   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

দু’টি মহান নেয়ামত এবং তার প্রতি উদাসীনতা (পর্ব-৩)

মাওলানা ওমর ফারুক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৭ ১৮ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩১ ১৮ আগস্ট ২০১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মৃত্যুর কামনা করো না: নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, কখনো মৃত্যুর কামনা করবে না, তুমি যতই বিপদগ্রস্ত এবং কষ্টে থাক না কেন। কখনো এ দোয়া করবে না যে, হে আল্লাহ! আমাকে মৃত্যু দিয়ে দাও। 

আরো পড়ুন>>> দু’টি মহান নেয়ামত এবং তার প্রতি উদাসীনতা (পর্ব- ২)

কেননা যদিও তুমি কষ্টে নিপতিত আছ; কিন্তু জীবনের এই মুহূর্তটি যা এখন সহজ লভ্য আছে এতে কোনো গ্যারান্টি নেই যে, কখন কোন নেকির তাওফিক হয়ে যায় এবং পরে ওই নেকির বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালার সীমানা পার হয়ে যাবে। এজন্য কখনো মৃত্যুর আকাক্সক্ষা করবে না; বরং আল্লাহ তায়ালার দরবারে সুস্থতা কামনা কর। এই দোয়া কর, হে আল্লাহ! আপনি জিন্দেগীর যে সময় দান করেছেন তা নেক কাজে এবং নিজ সন্তুষ্টিতে ব্যয় করার তাওফিক দিন।

হজরত থানভী (রহ.) এবং সময়ের মর্যাদা: জনাব ডা. আবদুল হাই সাহেব (রহ.)। তিনি বলেছেন, আমি স্বয়ং হজরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-কে দেখেছি যে, ইন্তেকালের সময়ে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং শয্যাশায়ী ছিলেন। চিকিৎসক ডাক্তাররা সাক্ষাত প্রার্থীদের সঙ্গে মেলামেশা থেকে নিষেধ করে দিয়েছিলেন। এটাও বলে দিয়েছিলেন যে, কথা যেন বেশি না বলেন। একদিন চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। শুয়ে শুয়ে হঠাৎ চোখ খুললেন এবং বললেন ভাই! মৌলভী মুহাম্মদ শফী সাহেবকে ডাক। তাই তাকে ডাকা হলো। তিনি যখন তাশরীফ আনলেন তখন বললেন, আপনি ‘আহকামুল কোরআন’ লিখছেন।

আমার এখন খেয়াল এল যে, কোরআনুল করিমের যে অমুক আয়াত আছে এর থেকে অমুক মাসয়ালা বের হয় এবং এ মাসয়ালা আমি এর আগে কখনো দেখিনি। আমি আপনাকে এজন্য বলে দিয়েছি যে, যখন আপনি এ আয়াতে পৌঁছবেন তখন এ মাসয়ালাটি লিখে নেবেন। একথা বলে চোখ বন্ধ করে শুয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফের চোখ খুললেন এবং বললেন, অমুককে ডাক। যখন ওই সাহেব এসে গেলেন, তাকে কিছু কাজের কথা বলে দিলেন। যখন বার বার এমন করছেন তখন মাওলানা শাব্বীর আলী সাহেব (রহ.) যিনি হজরতের খানকার সচিব ছিলেন এবং হজরত থানভী (রহ.) এর সঙ্গেও অন্তরঙ্গ ছিলেন। তিনি হজরতকে বললেন, হজরত! ডাক্তার ও চিকিৎসকগণ কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু আপনি লোকদের বার বার ডেকে ডেকে কথাবার্তা বলছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আমাদের প্রাণের প্রতি রহম করুন। তার উত্তরে হজরত ওয়ালা কেমন বিস্ময়কর বাক্য ইরশাদ করলেন যে, কথা তো তোমরা ঠিকই বলছ, কিন্তু আমি তো চিন্তা করছি। 

হজরত থানভী (রহ.) এবং নিযামুল আওকাত: হজরত থানভী (রহ.) এর এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্ণ নিযামুল আওকাত নির্ধারিত ছিল। এমনকি তার অভ্যাস ছিল যে, আসরের নামাজের পর স্বীয় স্ত্রীদের কাছে তাশরীফ নিয়ে যেতেন। তার দুই স্ত্রী ছিলেন। উভয়ের কাছে আসরের পর সাম্যতা ও ন্যায় বিচারের সঙ্গে তাদের কুশলাদি ও সংবাদ নিতেন এবং তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে চলে যেতেন। আর এটি মূলত রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লামের সুন্নত ছিল। হাদিসে এসেছে যে, রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাজ পড়ার পর এক এক করে সব পবিত্র বিবিগণের কাছে তাদের খবরাদির জন্য তাশরীফ নিয়ে যেতেন। আর এটা তার প্রতিদিনকার অভ্যাস ছিল।

আরো পড়ুন>>> ফজরের সুন্নাতের গুরুত্ব, মর্যাদা ও ফজিলত

এবার দেখুন! দুনিয়ার সব কাজও হচ্ছে, জিহাদও হচ্ছে, শিক্ষাও হচ্ছে, পাঠদানও চলছে, দ্বীনের সব কাজও হচ্ছে। পাশাপাশি বিবিগণের কাছে গিয়ে তাদের মনতুষ্টি করা হচ্ছে। হজরত থানভী (রহ.) নিজের জিন্দেগীকে রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লামের অনুসরণে তিনিও আসরের পর স্বীয় বিবিদ্বয়ের কাছে চলে যেতেন। কিন্তু সময় নির্ধারিত ছিল। যেমন পনের মিনিট এক বিবির কাছে বসতেন এবং পনের মিনিট অন্য বিবির কাছে বসতেন। যেহেতু তার অভ্যাস ছিল যে, ঘড়ি দেখে প্রবেশ করতেন এবং ঘড়ি দেখে বেরিয়ে আসতেন। এটি হচ্ছিল না যে, পনের মিনিটের স্থলে ষোল মিনিট হয়ে যাবে বা চৌদ্দ মিনিট হয়ে যাবে। বরং ইনসাফের চাহিদা মোতাবেক পুরো পনের মিনিট পর্যন্ত উভয়ের কাছে তাশরীফ রাখতেন, অবস্থান করতেন। মেপে মেপে একে মিনিটের হিসাব রেখে ব্যয় করা হত। দেখুন, আল্লাহ তায়ালা সময়ের যে নেয়ামত দান করেছেন, তাকে এভাবে নষ্ট করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বড়ই শক্তিশালী সম্পদ দিয়েছেন। এক একটি মুহূর্ত মূল্যবান এবং এ দৌলত জারি আছে। এটি বিগলিত হচ্ছে। কেউ কতই না সুন্দর বলেছেন, ‘যেভাবে বরফ প্রতি মুহূর্তে বিগলিত হতে থাকে। এভাবে মানুষের হায়াতও প্রতি মুহূর্তে গলছে এবং তা জারি আছে।’

কাজের তিন প্রকার: হজরত ইমাম গাযযালী (রহ.) বলেছেন যে, দুনিয়ায় যত কাজ আছে, তা তিন প্রকার। প্রথম কাজ হলো যাতে কিছু লাভ ও উপকার আছে, চাই দ্বীনের ফায়দা হোক অথবা দুনিয়ার ফায়দা হোক। দ্বিতীয় কাজ হলো যা ক্ষতিকর এবং ত্রুটিপূর্ণ। এতে হয়ত দ্বীনের ক্ষতি অথবা দুনিয়ার ক্ষতি বিদ্যমান। তৃতীয় কাজ হলো, যাতে কোনো ফায়দ নেই, ক্ষতিও নেই। দুনিয়ার ফায়দা নেই, দ্বীনের ফায়দাও নেই। দুনিয়ার ক্ষতি নেই, দ্বীনেরও ক্ষতি নেই; বরং এটি অপ্রয়োজনীয় কাজ। এর পর ইমাম গাযযালী (রহ.) বলেন যে, যতদূর পর্যন্ত ওই কাজগুলোর সম্পর্ক আছে, যা ক্ষতিকর তাতো প্রকাশ্য। তা থেকে বাঁচা জরুরি। আর যদি চিন্তা করে দেখ, তবে কাজের এই যে, তৃতীয় প্রকার, যাতে ক্ষতিও নেই লাভও নেই বাস্তবে তাও ক্ষতিকর। কেননা যখন তুমি এমন কাজে নিজের সময় লাগাচ্ছ যাতে কোনো ফায়দা নেই। অথচ ওই সময়কে তোমরা কোনো ভালো কাজে লাগাতে পারতে, যাতে উপকার হয়। তাহলে বলতে কী? তোমরা ওই সময়কে নষ্ট করে দিলে এবং সে সময়ের উপকারকে ধ্বংস করে দিলে।

এটিও বাস্তবে বড় ক্ষতি: তার দৃষ্টান্ত এভাবে বুঝা যেতে পারে, মনে করুন এক ব্যক্তি এক দ্বীপের মাঝে গেল এবং ওই দ্বীপের এক কোনায় স্বর্ণের টিলা আছে। ওই টিলার মালিক তাকে বলল যে, যতক্ষণ আমাদের পক্ষ থেকে তোমার জন্য অনুমতি আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি তা থেকে যত ইচ্ছা স্বর্ণ বের করে নিতে পার। ওই সোনা তোমার হবে। কিন্তু আমি কোনো এক সময় তোমাকে হঠাৎ করে সোনা বের করতে নিষেধ করে দেব যে, এখন আর অনুমতি নেই। অবশ্য আমি তোমাকে এটা বলিনি যে, কোন সময় তোমাকে সোনা বের করতে নিষেধ করে দেয়া হবে। এরপর তোমাকে জোরপূর্বক ওই দ্বীপ থেকে বের করে দেয়া হবে। এ ব্যক্তি কী তার সময় নষ্ট করবে?

আরো পড়ুন>>> গুনাহ মোচনের ৪ উপায়

এ ব্যক্তি কী এ চিন্তা করবে যে, এখনো তো বহু সময় বাকী আছে। আগে কিছু সময় ভ্রমণ করে আসি তারপর স্বর্ণ বের করব। সে কখনো এমনটি করবে না; বরং সে তো একটি মুহূর্তও নষ্ট না করে এ চেষ্টা করবে যে, এখান থেকে যত বেশি বের করতে পারি তা বের করে নেব। এজন্য যে, যে স্বর্ণ বের করব তা আমার হয়ে যাবে। এখন যদি ওই ব্যক্তি সোনা বের করার স্থলে একপাশে পৃথক হয়ে বসে থাকে, তাহলে বাহ্যত এতে তো উপকারও নেই ক্ষতিও নেই। কিন্তু বাস্তবে তা বড়ই ক্ষতিকর। আর সে ক্ষতিটি হলো যেখানে বড় ধরণের উপকার অর্জনের সুযোগ ছিল, তা সে আলসেমী করে ত্যাগ করেছে।

এক ব্যবসায়ীর অসাধারণ ক্ষতি: মুফতি শফি (রহ.) এর কাছে এক ব্যবসায়ী আসতেন। তার অনেক বড় ব্যবসা ছিল। একবার সে এসে বলতে লাগল যে, হজরত! কী বলব, কোনো দোয়া বলে দিন। অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। শফি (রহ.) বলেন যে, আমার এটি শুনে বড়ই দুঃখ হলো, এই বেচারা না জানি কী কষ্টের মাঝে জড়িত হয়ে গেল? জিজ্ঞেস করলেন যে, কেমন ক্ষতি হয়ে গেছে? তিনি বললেন যে, হজরত একশত লাখ টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে। আব্বাজান বললেন, একটু বিশ্লেষণ করে বলুন, কী ধরণের ক্ষতি হয়েছে? কীভাবে হলো? যখন সে ওই ক্ষতির বিস্তারিত বর্ণনা দিল, তখন জানা গেল যে, একশত লাখ টাকার একটি পণ্য ক্রয়ের কথা ছিল তা হয়নি। তাছাড়া যে লাখ লাখ টাকা পূর্ব থেকে আসতে ছিল, তা এখনো আসছে। তাতে কোনো কমতি হয়নি; কিন্তু একটি পণ্য ক্রয় হওয়ার ছিল তা হয়নি। তা না হওয়ার বিষয়ে বললেন যে, এটা বড় ভীষণ ক্ষতি হয়ে গেল। আব্বাজান বলেন, এ ব্যক্তি লাভ না হওয়াকে ক্ষতি দ্বারা প্রকাশ করেছে অর্থাৎ যে লাভের আশা ছিল তা হয়নি। তার উদ্দেশ্য হলো এই যে, বড় ভীষণ ক্ষতি হয়ে গেল। এ ঘটনা বর্ণনার পর শফি (রহ.) বলেন যে, আফসোস! ওই দিনের বিষয়েও চিন্তা করতাম যে, যদি আমি এ সময়কে যথার্থভাবে কাজে লাগাতাম তাহলে তার মাধ্যমে দ্বীনের এবং পরকালের বড় উপকার হত, তা না হওয়ার কারণে এই ক্ষতি হয়ে গেল।

এক বেনিয়ার ঘটনা: একটি ঘটনা। বেশ হাস্যরসের কিন্তু যদি আল্লাহ তায়ালা বুঝার জ্ঞান দান করেন তাহলে তা থেকেও কাজের কথা বের করতে পারেন। এক বুযুর্গ যিনি প্রসিদ্ধ হাকীম ছিলেন। তিনি একদিন এই কাহিনী শোনালেন যে, এক আতর ব্যবসায়ী ছিল যে ওষুধ বিক্রি করত। তার ছেলেও তার সঙ্গে দোকানে বসত। একদিন তার কোনো প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলো। তখন সে তার ছেলেকে বলল, হে ছেলে! আমার এক কাজে যেতে হচ্ছে। তুমি একটু দোকান দেখাশুনা করবে এবং সতর্কতার সঙ্গে মালামাল ইত্যাদি বিক্রি করবে। ছেলে বলল, ঠিক আছে।

আর ওই ব্যবসায়ী তার ছেলেকে প্রত্যেকটি জিনিসের মূল্য বলে দিল যে, এই জিনিসের মূল্য এত, এই জিনিসের মূল্য এত। এ কথা বলে ব্যবসায়ী চলে গেল। কিছুক্ষণ পর এক গ্রাহক এল এবং শরবতের দু’টি বোতল সে কিনল। ছেলে দু’টি বোতল একশ, একশ টাকায় বিক্রি করে দিল। কিছুক্ষণ পর যখন পিতা ফিরে এল তখন সে ছেলেকে বলল, কি কোনো কিছু বিক্রি হয়েছে? ছেলে বলল, যে অমুক অমুক জিনিস বিক্রি করেছি এবং এই দু’টি বোতলও বিক্রি করেছি। পিতা জিজ্ঞেস করল যে, বোতল কত টাকায় বিক্রি করেছ? ছেলে বল, শত শত টাকায় বিক্রি করেছি। এ জবাব শুনে পিতা মাথায় ধরে বসে গেল এবং ছেলেকে বলল, তুমি তো আমার শেষ করে দিয়েছ।

এই বোতল তো দুই দুই হাজার টাকার ছিল। তুমি শত শত টাকায় বিক্রি করেছ। বড়ই অসন্তুষ্ট হলো। তখন ছেলেও দুঃখিত হলো যে, আফসোস! আমি পিতার এত বড় ক্ষতি করলাম এবং বসে কাঁদতে লাগল এবং পিতার কাছে ক্ষমা চাইতে লাগল যে, আব্বাজান! আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি বড় ভুল করে ফেলেছি। আমি আপনার বড় ক্ষতি করে ফেলেছি। যখন পিতা এই দেখল যে, সে বড়ই দুঃখিত, চিন্তিত এবং অস্থির। তখন সে ছেলেকে বলল যে, এত বেশি চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। কেননা তুমি এই বোতল শত শত টাকায় বিক্রি করেছ। এই শত শত টাকার মাঝে থেকে আটানব্বই টাকা লাভ এখনো অবশিষ্ট আছে। বাকী তুমি যদি অধিক সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে তাহলে এক বোতলে দুই হাজার টাকা পাইতে। তাই সেটা ক্ষতি হলো। বাকী ঘর থেকে কিছু যায়নি।

যা হোক, ব্যবসায়ীর যদি লাভ না হয় তখন সে বলে যে, অনেক ক্ষতি হয়েছে ভাই। যখন দুনিয়ার ব্যবসার মাঝে এই নিয়ম আছে যে, লাভ না হওয়াই ক্ষতি। তাই হজরত ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন, দ্বীনের বিষয়ে এটা চিন্তা করে নাও, যদি সে জিন্দেগীর সময়কে এমন কাজে লাগিয়ে দেয় যাতে লাভ হয়নি তাহলে বাস্তবে এটিও ক্ষতি। লাভের ব্যবসা নয় বরং ক্ষতির ব্যবসা। এজন্য যে, যদি তুমি চাইতে তাহলে তা দ্বারা পরকালের বড় উপকার অর্জন করতে পারতে। এভাবে নিজের জিন্দেগী কাটিয়ে দেখ।   চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে