ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

দিনাজপুরে প্রতিপক্ষের দোকান ও বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট

দিনাজপুর প্রতিনিধি  
প্রকাশিত: ২০:০৭, ১২ মে ২০২০
দিনাজপুরে প্রতিপক্ষের দোকান ও বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট
দিনাজপুরে প্রতিপক্ষের দোকান ও বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট

দিনাজপুর বিরলের ফরাক্কাবাদ ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম্য পুলিশ ও একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জেরে গ্রাম্য পুলিশ ও তার শ্যালকের বসতবাড়ি ও মুদি দোকান লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে দুবৃর্ত্তরা।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বসতবাড়ির আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ ও দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

জানা গেছে, একই গ্রামের ইউপি সদস্য শাহিন আলম ও গ্রাম্য পুলিশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মামলা মকদ্দমা চলছে। এরই জেরে গ্রাম্য পুলিশ ও তার শ্যালকের বসতবাড়ি ও দোকানের উপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে বিরল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে দুপুর পর্যন্ত আসেনি বলেও অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। 

এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাম্য পুলিশ শরিফুল ইসলাম ও তার শ্যালক দবির উদ্দীন ও কপিল উদ্দীদের পরিবারের লোকজনেরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

গ্রাম্য পুলিশ শরিফুলের মা শরিফা বেগম জানান, সোমবার রাতে একদল সন্ত্রাসী দেশিয় অস্ত্র নিয়ে প্রথমে গ্রাম্য পুলিশ শরিফুল ইসলামের বাড়ির সামনে দোকান ভাঙচুর করে পরে বাড়িতে থাকা দোকানের মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। এরপর গ্রাম্য পুলিশ শরিফুলের শ্যালক কপিল ও দবির উদ্দীনের বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে ৩ ঘন্টা ব্যাপি টিনের বাড়ি-ঘর কুপিয়ে নষ্ট করে এবং আসবাপত্র ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।

গ্রাম্য পুলিশ শরিফুল ইসলামের শ্যালক হারুন জানান, ইউপি শাহিন আলমের বাড়ি আমার ভাইয়ের বাড়ি পাশাপাশি। একটি গাছের ডাল কাটা নিয়ে দুই পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া চলছে। সেই ঝগড়া থেকে মারামারি এরপর মামলা চলছে। সেই মামলা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মামলা আপোষ করার জন্য একাধিকবার চাপ 
প্রয়োগ করেছে তারা। কিন্তু আমরা মেনে না নেযায় ভাইয়ের বাড়িতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

শাহিন আলমের চাচি রোকশানা বেগম জানান, দুইদিন আগে আমার ভাতিজা ইউপি সদস্য শাহিন আলমকে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে শরিফুল চৌকিদার, তার শ্যালক কফিল উদ্দীন, দবির উদ্দীন, ফয়সাল দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মেম্বারকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চৌকিদারের বাড়িতে হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেননা বলে জানান।

বিরল থানার ওসি আবু নাসের হাবিব জানান, দুই পক্ষ থেকেই থানায় মামলায় হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ইউপি সদস্য শাহিন আলমকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তার পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কফিল উদ্দীন নামক একজন স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করেছে। তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!