Alexa দালাল বাজারে একদিন

ঢাকা, রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৪ ১৪২৬,   ২০ সফর ১৪৪১

Akash

দালাল বাজারে একদিন

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৮ ১০ অক্টোবর ২০১৯  

দালাল বাজার জমিদার বাড়ির মূল অংশ

দালাল বাজার জমিদার বাড়ির মূল অংশ

উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস অনেক পুরনো। যার প্রমাণ স্বরূপ জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম ‘দালাল বাজার জমিদার বাড়ি’। প্রায় ২৫০ বছর আগে নির্মাণ করা জমিদার বাড়িটি এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই রয়েছে ইতিহাস বিজড়িত বিশাল এক দীঘি; নাম ‘খোয়া সাগর দীঘি’।

প্রায় শত বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহাসিক এ দু’টি নিদর্শন হতে পারে লক্ষ্মীপুরের সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র। পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করার মাধ্যমে এটি সম্ভব। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও দারুণ আগ্রহ রয়েছে। অনেকদিন আগে থেকেই লক্ষ্মীপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা প্রায়ই এখানে ঘুরতে আসছেন। চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের অনেকে এ স্থানটি পছন্দ করেছেন বলেও জানা গেছে।

প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে পরিত্যক্ত রাজ গেইট, রাজ প্রাসাদ, অন্দরমহল প্রাসাদ, শান বাঁধানো ঘাট, নাট মন্দির, পূঁজা মন্ডপ, বিরাটাকারের লোহার সিন্দুক, কয়েক টন ওজনের লোহার ভীম, বিশাল বাগান ও জমিদার বাড়ির প্রাচীর প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে ছোট-বড় তিনটি পুকুর। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় বিচার আসন ও নৃত্য আসনটি চুরি হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় চারশ’ বছর আগে জনৈক লক্ষ্মী নারায়ণ বৈষ্ণব কলকাতা থেকে লক্ষ্মীপুরে কাপড়ের ব্যবসা করতে আসেন। তার উত্তর পুরুষরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক এজেন্সী এবং পরে জমিদারী লাভ করেন। ১৭৬৫ সালে সর্বপ্রথম লক্ষ্মী নারায়ণ বৈষ্ণবের নাতি (পুত্রের সন্তান) গৌর কিশোর রায় রাজা উপাধী লাভ করেন। সেই সময় ‘খোয়া সাগর’ নামক দীঘিটি খনন ও জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। তবে তৎকালীন স্থানীয় লোকেরা জমিদারদেরকে ব্রিটিশদের ‘দালাল’ বলে আখ্যায়িত করেন। যেকারণে জমিদার বাড়ি সংলগ্ন এলাকাটি দালাল বাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিদার বংশধররা এ অঞ্চলে বসবাস করতেন।

জমিদার বাড়ির একাংশ

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্মীপুরের এই দু’টি ঐতিহ্যবাহী জায়গাকে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা গেলে দেশীয় পর্যটন সমৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমিদার বাড়ি ও দীঘিটি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা, পরিচালনার জন্য লোকবল নিয়োগ করা, সরকারিভাবে রেস্ট হাউজ নির্মাণ করা এবং ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সব রকমের সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়াও খোয়া সাগর দীঘিতে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা করলে স্থানটি পর্যটকদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও খোয়া সাগর দীঘি। সম্প্রতি আইনী জটিলতা নিরসন হওয়ার পর প্রাচীন এ নিদর্শন দু’টি সংস্কারে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, পরিকল্পিতভাবে দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও খোয়া সাগর দীঘিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। এখান থেকে রাজস্ব আয়ের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। এরইমধ্যে পর্যটকদের উপস্থিতি আমাদের আশান্বিত করেছে।

যেভাবে যাবেন

লক্ষ্মীপুর জেলা শহর থেকে দালাল বাজার যেতে সিএনজি কিংবা বাসে জন প্রতি ভাড়া মাত্র দশ টাকা। বাজার থেকে প্রায় ২৫০ গজ পূর্বে ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের উত্তর পাশে ‘খোয়া সাগর দীঘি’। এ দীঘিতে জমির পরিমাণ প্রায় ২২ একর। দীঘি বরাবার মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে জমিদার বাড়ির মঠ, স্থানীয়দের কাছে যা মঠবাড়ি বলে পরিচিত। সেখান থেকে দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের পেছন দিয়ে ‘জমিদার বাড়ি’ যাওয়া যাবে। পায়ে হেঁটে পাঁচ মিনিটের রাস্তা এটি। দালাল বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশেই পুরনো জমিদার বাড়িটি। সূত্র: বাসস।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে