ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

ডাকসুকে দলীয় কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছেন ভিপি নুর: ঐতিহ্য

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৫:১১, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯
ডাকসুকে দলীয় কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছেন ভিপি নুর: ঐতিহ্য
ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ডাকসু সদস্য রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য। ২২ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ভিপি নুর ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধি ওয়ায়েছ আরিফের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। 

নিরোর ভূমিকা পালন না করে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছুটে আসি
কথিত আছে, ‘রোম যখন পুড়ছিলো, নিরো তখন বাঁশী বাজাচ্ছিলো।’ ৬৪ খ্রিস্টাব্দে রোমের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আর নিরোর বাঁশি বাজানো নিয়ে প্রায় সব ঐতিহাসিকই একচেটিয়ে আজো নিরোকেই দায়ী করে থাকেন। ডাকসুতে সেদিন নিরোর মতো নীরব ভূমিকা পালন না করে, একজন দায়িত্বশীল নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছুটে আসি। ডাকসু ভবনের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ভিপি নুর ও তার অনুসারীদের সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে যাই।

ডাকসু ভবনে হামলার ঘটনাটি প্রথমে কীভাবে জানতে পারলেন?
সেদিন কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ ওপার থেকে ফোন আসে। রাইসা (ডাকসুর সদস্য) ও অর্নির (ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক) কাঁপা স্বর শুনতে পেলাম। তারা বললো ডাকসু ভবনে নাকি হামলা হয়েছে। আমরা এরমধ্যে আটকা পড়ে গেছি। এরপর হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসি ডাকসু ভবনের সামনে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ভিপি নুর ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরষ্পরকে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি করছিল। দুপক্ষেই ছিলো বহিরাগত। কোনো উপায় না পেয়ে নিজ বাইকের হেলমেট পড়া অবস্থায় হ্যান্ডমাইক নিয়ে দুপক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় তেড়ে এলো মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বুলবুল। সে আমাকে শাসিয়ে বলে উঠে, আমি কি ভিপি নুরের পক্ষ হয়ে কাজ করছি কিনা? আমাকে ‘শিবির’ বলেও মিথ্যা অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত সেই দফায় উভয় পক্ষই শান্ত হন।

ডাকসু ভবনে হামলায় শিক্ষার্থীদের মনে কি ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন?
২৮ বছরের বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আমরা এই এক বছরে ছোট ছোট নানান উদ্যোগসহ অনেক বড় উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। এতে অনেক সমস্যা, ধকলের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে কখনো কখনো। তবুও শেষদিন পর্যন্ত আমি আমার জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করে যাব। কিন্তু আমাদের পরিশ্রম ও কষ্টকে অনেকটা ম্লান করে দিলো ডাকসুর ভিপি। তিনি ডাকসুকে যেন তার দলীয় কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছেন। সেখানে তিন-চারজন ছাড়া প্রায় সবসময়ই বহিরাগতদের উৎপাত লক্ষণীয়।

ডাকসুতে যে কেউ আসতে পারে
নুর এখন ভিপি। তার কাছে যে কেউ আসতে পারে। তবে সেদিনের ঝামেলা ছিলো মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ভিপি নুর ও তার অনুসারীদের শত্রুতার ফসল। এ কারণে সেদিনের ঘটনায়
ভিপি নুরকেই দায়ী করবো। কেননা তিনি সেদিন দায়িত্বের পরিচয় দিতে পারেননি। 

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চই কতটুকু মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত?
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আসলেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে কতটুকু উজ্জীবিত? এ নিয়ে আমি সন্দিহান। মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র শব্দটিকে ব্যবহার করে তারা এহেন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত তা বেশ লক্ষণীয়। 

ভিপি নুরের মামলার তালিকায় আপনার নামও রয়েছে
ভিপি নুরকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই যে সেদিনকার সংঘর্ষে যদি আমার কোনো নিন্দনীয় ভূমিকা থাকে কিংবা তারা তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি পদত্যাগ করবো৷ তা না হলে, নুরকে বলবো ভিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদধারী ও সম্মানের জায়গাটিকে কলঙ্কিত না করে পদত্যাগ করুন।

ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কী বলবেন?
সৃষ্টিকর্তা সবাইকে এই সুযোগ দেয় না৷ শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার ভোটেই আমি আজ ডাকসুর সদস্য ঐতিহ্য। এটি শুধু দায়িত্ব নয়, আমানতও বটে। এজন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সমুন্নত রাখার জন্যে যদি আমাকে মামলা কিংবা হামলা মাথা পেতে নিতে হয়। তাতেও আমি রাজি এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। আর ভিপি নুর এই অসাম্প্রদায়িক ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছেন, তা কখনো সফল হতে দেব না। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!