জাহাঙ্গীরের খাঁটি মধু, না কিনলে ঠকবেন
ধারালো দা, পাত্র, খড় হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটছেন। বাজারসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকায় গিয়ে হাঁক ছাড়ছেন- ‘খাঁটি মধু নিয়ে যান। ঠকবেন না।’
এভাবেই গ্রামে গ্রামে ঘুরে দীর্ঘদিন ধরে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম।
কথা হয় এ মধু বিক্রেতার সঙ্গে । তিনি জানান, ১০ বছর ধরে আখাউড়ার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে গাছ থেকে মৌচাক ভেঙ্গে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করছেন। এতে সংসারের অভাব কমেছে তার। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে নিয়ে সুখ-শান্তিতে কাটছে তার দিন।
জাহাঙ্গীর জানান, প্রতিদিন ২-৩টি মৌচাক ভাঙতে পারেন। অর্ধেক মধু গাছের মালিককে দিয়ে দেন। বাকিটা পাঁচশ টাকা কেজিতে বিভিন্ন বাজার ও মহল্লায় বিক্রি করেন। কখনো কখনো দাম কম নিলেও কাউকে ভেজাল মধু দেন না তিনি। সপ্তাহে ৩-৪ দিন মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করেন। প্রতিদিন ১৫০০-২০০০ টাকা আয় হয়। এতেই তার ছোট সংসার চলে।

এক সময় অভাবের সঙ্গে সংগ্রাম করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। জানালেন সে গল্প। তিনি বলেন, কোথাও কাজ পেতাম না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অভাবের সাগরে হাবুডুবু খেতাম। অনাহার ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। যেদিন কাজ পেতাম, সেদিন দু’বেলা খাবার জুটতো। এখন খাঁটি মধু বিক্রি করে সুখেই আছি। অন্তত না খেয়ে থাকতে হয় না।
আখাউড়ার গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, খাঁটি মধু পাওয়াই যায় না। বাজার থেকে মধু কিনে অনেকবার ঠকেছি। এখন জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে আধা কেজি মধু কিনে নিলাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেনা বেগম বলেন, জাহাঙ্গীরের মধু সত্যিই খাঁটি। আধুনিক ও সনাতন পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ মধুর পুষ্টিও প্রচুর। এছাড়া সুস্বাস্থ্য গঠন, রোগ প্রতিরোধ, ত্বকের সৌন্দর্য ও কোমলতা বাড়াতে মধু খুবই কার্যকর।