চীনে তিন কোটিরও বেশি মানুষ গুহাবাসী

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭,   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

চীনে তিন কোটিরও বেশি মানুষ গুহাবাসী

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০০ ৬ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১২:০৫ ৬ এপ্রিল ২০২০

ছবি: পাহাড় কেটে তৈরি আলো ঝলমলে গুহা

ছবি: পাহাড় কেটে তৈরি আলো ঝলমলে গুহা

প্রাচীনকালে মানুষ গুহায় বাস করত এটা সবারই জানা! তবে আদিম কাল নয় বর্তমানেও মানুষ গুহায় বাস করে।

তাও আবার একজন কিংবা দুইজন নয় গুহার মধ্যে কোটি কোটি মানুষের বসবাস। ভাবতেই অবাক লাগে তাইনা? আরো অবাক করার মতো বিষয় হলো, এসব গুহার ভেতরের পরিবেশ। 

গুহার মধ্যে সুন্দর একটি ঘরকি নেই সেখানে! আলো ঝলমলে ঘর, আলিশান আসবাবপত্রসহ উঁচু সিলিং বরাবর ঝুলন্ত ঝাড়বাতি সবকিছুরই ব্যবস্থা রয়েছে গুহায়। চীনে তিন কোটিরও বেশি মানুষ গুহাবাসী। ভাববেন না যে তারা জায়গার অভাবে গুহাবাসী হয়েছেন! বরং বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে মালিকেরা গুহায় নিজের পছন্দ মতো ঘর তৈরি করে। অনেক মালিক তো আবার নিজের ঘরের মধ্যে সুইমিংপুলেরও ব্যবস্থা রেখেছেন। যদিও গুহায় ঘর আছে এমন অনেক মালিকই তা ভাড়া দেন। এসব ঘরের কদর অনেক বেশি। 

পাহাড় কেটে একটি বাড়ি তৈরি করা হয়েছেছোটবেলা থেকেই গুহাবাসী রেন শুহুয়া। তিনি বলেন, আমার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে গুহায়। ভাববেন না আবার যে, আমি গুহায় বন্দী অবস্থায় ছিলাম! সত্যি বলতে এখানে বসবাস করার মজাই আলাদা। গরমকালে ঠাণ্ডা আবার শীতকালে গরম অনুভূতি আপনি একমাত্র গুহাতেই পাবেন। বর্তমানে অনেক অভিনব নকশায় গুহাতে ঘর তৈরি হচ্ছে। এসব ঘরের সামনে উঠান, ফুলের বাগান, রোদ ঝলমলে বারান্দা সবকিছুরই সুযোগ রয়েছে।

পাহাড় কেটে তৈরি বিশাল এক গুহাইয়ানানের কাছে একটি গুহায় বসবাসরত ৪৩ বছর বয়সী কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তা চেন ওয়েই বলেন, প্রচুর লোক গুহা ভাড়া নিতে এখানে আসে। বর্তমানে কেউই উঁচু দালানে একঘেয়েমি জীবন কাটাতে চায় না। গুহায় বসবাস করার মধ্যে এক প্রকার রোমাঞ্চকর অনুভূতি রয়েছে। 

নিম্মবিত্তদের জন্যও রয়েছে স্বল্প মূল্যের গুহাচীনের স্থপতিরাও গুহায় বসবাসকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক বলে মনে করেন। তাদের মতে, গুহার জীবনধারাও আকর্ষণীয় হতে পারে। জিয়ানের গ্রিন আর্কিটেকচার গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক লিউ জিয়াপিং বলেছেন, বিভিন্ন আঙ্গিকে গুহার ভেতরে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, স্বল্পআয়ী বা কৃষকরা যদি গুহায় সামান্য অর্থ দিয়ে ঘর তৈরি করে তবে তারা আজীবন স্বাচ্ছন্দে বসবাস করতে পারবেন।

গুহাচীনের এসব গুহায় শুধু যে স্বল্পআয়ীরাই বসবাস করে তা কিন্তু নয়। সেখানে যেমন নান্দনিক ডিজাইনের ঘর রয়েছে তেমনই মধ্যবিত্ত ও নিম্মবিত্তদের জন্যও রয়েছে থাকার ব্যবস্থা। ৭৬ বছরের মা লিয়াংশুই বলেন, বর্তমানে জীবনধারা উন্নত হয়েছে। সবাই নিজেদের ঘরে ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনসহ টেলিভিশন রাখছে। তবে অনেকেরই সে সুযোগ নেই। কারণ তারা স্বল্পআয়ের মানুষ। 

এমন অনেক গুহা রয়েছে চীনেতিনি আরো বলেন, আমি সারা জীবন গুহায় জীবন কাটিয়েছি। বাকি জীবনও এখানেই পার করতে চাই। জীবন এখানে অত্যন্ত সহজ এবং আরামদায়ক। এখানে নেই কোলাহল বা গাড়ির কোনো শব্দ। চারপাশে শুনশান নিরবতা। বর্তমানে অনেক অবসরপ্রাপ্ত লোকেরাও গুহাবাসী হচ্ছেন।

খাড়া পাহাড়ের গায়ে তৈরি গুহালস অ্যাঞ্জেলস এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমানে চীনের বিভিন্ন গুহায় বসবাস করে তিন কোটিরও বেশি মানুষ। তাদের অনেকে বাস করেন শানক্সি প্রদেশে। কারণ সেখানকার গুহার মাটিগুলো সহজেই খনন করা যায়। চাইনিজ ভাষায় গুহাকে বলা হয় ইয়াওডং। পাহাড় কেটে বসবাস উপযোগী করে গড়ে তোলা হয় গুহাগুলো।

সূত্র: ডেইলিনিউজ  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস