Alexa ক্লিয়োপেট্রার তৈরি দূর্লভ সুগন্ধীর রহস্য খুঁজে পেলেন গবেষকরা! 

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

ক্লিয়োপেট্রার তৈরি দূর্লভ সুগন্ধীর রহস্য খুঁজে পেলেন গবেষকরা! 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৭ ৩০ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৩:১৮ ৩০ আগস্ট ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সুগন্ধী শুধুমাত্র রূপচর্চার উপাদান নয়, অন্যকে প্রলুব্ধ এবং প্ররোচিত করার অন্যতম সামগ্রী, এমনটাই মনে করতেন রানী ক্লিওপেট্রা। তার সৌন্দর্য নিয়ে বিশ্ববাসীর জল্পনা কল্পনার শেষ নেই! মিশরের কিংবদন্তী এই রানী ছিলেন সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, প্রবল ব্যক্তিত্বময়ী এবং ক্ষমতার অধিকারী।

ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে গল্প, সাহিত্য, সিনেমার কোনো অভাব নেই। প্রাচীন যুগের ভাস্কর্য, চিত্র দেখে এত দিনে সবাই মোটামুটি জেনে গেছেন ক্লিওপেট্রার চেহারা কেমন ছিল। তবে, সাম্প্রতিক খননকার্যের দৌলতে জানা গেছে, ঠিক কেমন সুগন্ধী ব্যবহার করতেন এই পরমাসুন্দরী।

রসায়ন শাস্ত্রে বিশেষ পটু ছিলেন ক্লিওপেট্রা। তাই তিনি নাকি রোমান সেনাপতি মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে প্রথম বার দেখা করতে যাওয়ার আগে তার জাহাজের পালে সুগন্ধী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। যাতে অ্যান্টনি তাকে দেখার আগেই, তার সুগন্ধে মোহিত হয়ে পড়েন। ক্লিওপেট্রা নিজের নাকি একটি সুগন্ধীর ফ্যাক্টরি ছিল, যেখানে তিনি নিজেই নানা রকম সুগন্ধী তৈরি করতেন।

‘ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই’-এর গবেষক রবার্ট লিটম্যান এবং জে সিলভারস্টেন বহু বছর ধরেই প্রাচীন যুগের সুগন্ধী, বিশেষ করে ক্লিওপেট্রার সুগন্ধী নিয়ে গবেষণা করছেন। ‘তেল টিমাই’ খননকার্যের সময় তারা জানতে পারেন, মিশরের থিমুয়ে শহর (৪৫০০ খৃষ্টপূর্ব)-এ সুগন্ধী তৈরি হত। মেনডেসিয়ান ও মেটোপিয়ান, এই দুই ধরনের সুগন্ধী তখনকার নারীরা ব্যবহার করতেন।

খননের ফলে জানা গেছে, প্রাক রোমান এবং রোমান শাসনকালে কাচ এবং ক্লে বোতলে পাওয়া যেত সুগন্ধী। অ্যাম্ফোরা নামক কিছু বোতলে দুই হাজার বছরের পুরনো এমন কিছু সামগ্রীর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে যা দিয়ে একটা সময় এখানে সুগন্ধী তৈরি হত। এই তথ্যের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, এসব সামগ্রী দিয়েই ক্লিওপেট্রার সুগন্ধীও তৈরি হত।

ক্লিওপেট্রার সুগন্ধীর নতুন রূপ

এত যুগ পরে অ্যাম্ফোরায় পাওয়া তরলের গন্ধ পাওয়া সম্ভব নয়। কেমিক্যাল পরীক্ষা করে তাও জানা গেছে, কোনো ধরনের সামগ্রী দিয়ে তরলটি তৈরি করা হয়েছে। সেই সমস্ত উপাদান এবং গ্রিক বই, পুঁথি ঘেঁটে আরও কিছু উপাদান মিশিয়ে নতুন সুগন্ধী তৈরি করেছেন গবেষকরা। তবে তা ক্লিওপেট্রার সুগন্ধী কি না নিশ্চিতভাবে বলা এখনই সম্ভব নয়। মাইরিয়া-র (এক ধরনের কিশমিশ যা আরব ও আফ্রিকায় পাওয়া যায়) সঙ্গে অলিভ অয়েল, দারুচিনি, এলাচ মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ সুগন্ধী। 

আজকাল যে ধরনের সুগন্ধী পাওয়া যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘন ও চটচটে এই তরল পদার্থটি। তবে মাস্কি, স্পাইসি গন্ধটি একেবারেই অন্য রকম। আজকের পারফিউমগুলোর তুলায় এর গন্ধ অনেকক্ষণ স্থায়ী থাকবে বলেই দাবি করেছেন গবেষকরা। লিটমান সুগন্ধীটিকে ‘প্রাচীন মিশরের শ্যানেল ৫’ বলেও নাম দিয়েছেন। দুই হাজার বছর আগের গন্ধ শুঁকতে পেরে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত তারা।

তবে প্রাচীন মিশরের সুগন্ধী তৈরিতে সফল হলেও তা ক্লিওপেট্রার পারফিউম কি না, সেই নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কারণ তিনি তো সাধারণ মানুষ ছিলেন না, তাই মনে করা হচ্ছে, সেই সময় আমজনতা যেমন সুগন্ধী ব্যবহার করতেন, তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা হবে ক্লিওপেট্রার পারফিউম। পারফিউমার ম্যান্ডি অ্যাটেল, যিনি মমি নিয়ে গবেষণা করছেন তার মতে, ক্লিওপেট্রা নিজেই নিজের সুগন্ধী বানাতেন। সে যাই হোক, আপাতত এই আবিষ্কারেই খুশি গবেষকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস