Alexa কোনো টাকা নেই, পুঁজি কেবল বিশ্বাস

ঢাকা, শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৮ ১৪২৬,   ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

কোনো টাকা নেই, পুঁজি কেবল বিশ্বাস

এস আলম তুহিন, মাগুরা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৪ ৯ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

২৮ বছরের সংসার রেবেকার। স্বামী আব্দুল হালিম যখন বাসের সুপারভাইজার কিংবা দুবাই প্রবাসী ছিলেন, তখন সংসার ছিল সচ্ছলতায় ভরা। দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী গুরুতর আহত হওয়ায় তাকেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। তখন থেকেই তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি পাইকারিতে কিনে বিক্রি করছেন।

বর্তমানে রেবেকার সকাল হয় মাগুরার বিভিন্ন ক্ষেত থেকে সবজি কেনার তাগিদ নিয়ে। যেখানে পাইকারি দরে কেনেন লাউ, ফুলকপি, কুমড়া, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার মাগুরার নতুন বাজার হাটে এগুলো বিক্রি করেন।

সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে পিকআপ বোঝাই সবজি নিয়ে যান গাজীপুর, ঢাকার মিরপুর, আব্দুল্লাহপুর কাঁচাবাজারে। দুই বছর ধরে আট-দশজন পুরুষের মতোই পাইকারের কাজটি তিনি করছেন।

রেবেকা বলেন, মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা গ্রামে বাবার বাড়ি। আটাশ বছর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার সুবেদবাজারের আব্দুল হালিমের সঙ্গে বিয়ে হয়। সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর দীর্ঘদিন স্বামীর বাড়িতে সংসার করেছি।

তিনি আরো বলেন, দুই বছর আগে ফরিদপুরের কানাইপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় অচল হয়ে পড়েন স্বামী আব্দুল হালিম। সেই থেকে সংসারের দায়িত্ব আমাকে নিতে হয়। এরপরই সিলেট ছেড়ে মাগুরায় চলে আসি। মাগুরার শিবরামপুরে আরেফিন সালেহিন বিনা ভাড়ায় আমাদের থাকতে দিয়েছেন।

সবজি ব্যবসায়ী রেবেকা আরো বলেন, নিজের কোনো পুজিঁ নেই। ব্যবসার লেনদেন ভালো থাকায় সবাই বিশ্বাস করে বাকিতে সবজি দেন। পরে বিক্রি করে তাদের টাকা শোধ করি। সবজি কেনাবেচা মূলত দৈনিক ভিত্তিক। এ কারণে খুব একটা পুঁজির প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি সব কাজ নিজেই করি বিধায় বেশি লাভ হয়।

তিনি আরো বলেন, মাগুরায় দুদিন সবজি বিক্রি করে গড়ে পাঁচশ থেকে আটশ টাকা আয় হয়। ঢাকার পাইকারি বাজারে গেলে ১৫শ থেকে দুই হাজার টাকা লাভ থাকে।

সফল এই বিক্রেতা বলেন, কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ কোনো ভেদাভেদ নেই। মনে সাহস রাখি। রাতে কোনোদিন সমস্যা হয়নি। সমস্যায় পড়লে পুরুষরাই এগিয়ে আসেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যবসায়ীক কাজের ফাঁকে স্বামী, ছেলে-মেয়ের দেখাশোনার কাজ করতে হয় সমানভাবে। সামলাতে হয় রান্নার কাজ।

শিবরামপুরের কৃষি উদ্যোক্তা ফেরদৌস আহমেদ দিদার বলেন, খুব ভোরে আমার ও অন্যান্য ক্ষেত থেকে লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি সংগ্রহ করেন রেবেকা। তিনি একজন সফল ক্রেতা ও বিক্রেতা। তার কেনা সবজি ভালো হওয়ায় বাজারের ক্রেতাদের আগ্রহ অনেক বেশি ।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর