Alexa এই শহরে থাকতে হলে কাটতে হবে শরীরের বিশেষ অংশ

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

এই শহরে থাকতে হলে কাটতে হবে শরীরের বিশেষ অংশ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৩ ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শহরের নাম ভিলা লে এস্ট্রেলা। এখানে বসবাস করতে হলে আপনাকে অস্ত্রোপচার করে বাদ দিতে হবে অ্যাপেনডিক্স! যাদের শরীরে এই বিশেষ অংশ রয়েছে তারা কোনোভাবেই বসবাসের অনুমতি পাবেন না। বৃদ্ধ, শিশুসহ সবার জন্যই একই নিয়ম; কিন্তু কেন এই অদ্ভূত নিয়ম?

অদ্ভূত এই শহরটি অ্যান্টার্কটিকা বা দক্ষিণ মেরুর বরফে ঢাকা কিং জর্জ দ্বীপে অবস্থিত। ছোট্ট এই শহরে বাড়িঘর একেবারেই হাতেগোনা। জনসংখ্যাও অনেক কম, তার মধ্যে বেশিরভাগই চিলির বিমানবাহিনী কিংবা নৌবাহিনীর সদস্য। এখানে রয়েছে একটি মাত্র স্কুল, একটি পোষ্টঅফিস আর একটি ব্যাংক। দোকানপাটও সেই অর্থে হাতে গোনা। তবে এখানে অন্য কোনো বিষয়ে অস্বাভাবিকতা না থাকলেও শরীরের মধ্যে অ্যাপেনডিক্স থাকলেই এই শহরে বসবাসের অনুমতি মেলে না।

এস্ট্রেলা শহরে বসবাসকারী সকলেই অন্য শহর থেকে অস্ত্রোপচার করে অ্যাপেনডিক্স বাদ দিয়েই এখানে এসেছেন। অদ্ভূত এই নিয়মের নেপথ্যে একটা যৌক্তিকতাও রয়েছে। এ শহরের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ২ দশমিক ৩ ডিগ্রি নিচে। শীত এলে এ তাপমাত্রা মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। প্রবল ঠাণ্ডায় বাস করার অনেক অসুবিধার মধ্যে অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিকূলতা। এখানকার সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটির দূরত্ব ৬২৫ মাইল। সেখানে মাত্র দু’জন চিকিৎসক আছেন। তারাও শল্যবিদ্যায় পারদর্শী নন। অস্ত্রোপচারে অভ্যস্ত না হওয়ার কারণে অ্যাপেনডিক্সের সমস্যা দেখা দিলে বা এতে সংক্রমণ হলে তা কেটে বাদ দিতে হয়।

ভিলা লে এস্ট্রেলা

অ্যাপেনডিক্স শরীরের একটি অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ। এটা এমন একটি অঙ্গ যা শরীর থেকে কেটে ফেললেও মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু অ্যাপেনডিক্সে কোনো সংক্রমণ হলে বা কোনো ক্ষত তৈরি হলে তার জন্য মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়। বৃহদান্ত্র এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের সংযোগস্থলে ছোট্ট একটি থলির মতো এই অঙ্গটিতে খাদ্যকণা বা ময়লা ঢুকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিতে পারলে তা প্রাণ সংশয়ের কারণ হতে পারে। তাই অ্যাপেনডিক্সের কারণে যাতে মানব দেহে বিপদ না আসে তার জন্যই এই শহরে বাস করার আগে অ্যাপেনডিক্স কেটে বাদ দেয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে এখানে।

আবহাওয়ার কারণে এ শহরে নতুন করে কোনো চিকিৎসক আসেন না। অত্যধিক ঠাণ্ডায় হাসপাতাল পরিষেবা গড়ে তোলাও কঠিন। কিন্তু এরপরও এই শহরে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কারণ হলো, এই শহরে থাকতে নামমাত্র খরচ হয়! শান্তিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অন্যান্য উপদ্রব কম। স্কুল-কলেজ, ডাকঘর, দোকান-বাজার সবই আছে এখানে। দীর্ঘদিন ধরে বাস করতে করতে ওই কয়েক ঘর অ্যাপেনডিক্সবিহীন বাসিন্দাও এই শহরের জীবনশৈলীতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে