ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলায় ব্যতিক্রমী তিন উদ্ভাবনী প্রদর্শন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৬ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলায় ব্যতিক্রমী তিন উদ্ভাবনী প্রদর্শন

ইবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৮ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) তিন দিনব্যাপী বই ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন মেলার শেষদিন রোববার। সন্ধ্যা নামলেই বিদায়ের ঘণ্টা বাজবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে এবারের বইমেলার। মেলায় মোট ৪৫টি স্টলের মধ্যে ৫-৭টি স্টলে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ এবং জীব বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকটি বিভাগ প্রযুক্তি উদ্ভাবনী প্রদর্শন করছেন। 

এরইমধ্যে পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের উদ্ভাবন ছিল ব্যতিক্রমী। পরিবেশ সুরক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাদের উদ্ভাবিত তিন মাস্টার প্ল্যান মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। মেলার ২৯ নম্বর স্টলে সবসময় দেখা যাচ্ছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই কৌতুহল বশত এ উদ্ভাবনীর মূল রহস্য এবং খুঁটিনাটি জেনে নিচ্ছেন।

স্টলে অবস্থানরত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ইকো ফ্রেন্ডলি ইবি ক্যাম্পাস, ওয়েস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান প্লান এবং ওয়াটার ডিস্যালানাইজেশন অ্যান্ড হাইড্রোলেট্রিক পাওয়ার প্লান্ট নামের তিনটি উদ্ভাবনী প্রদর্শন করছেন তারা। 

প্রথম উদ্ভাবনী প্ল্যান সম্পর্কে তারা জানান, ক্যাম্পাসের ১৭৫ একরের প্রতি ১০০ মিটার পর পর ২টি করে ডাস্টবিন স্থাপন করতে হবে।

যার একটি পচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য (সবুজ ডাস্টবিন) অন্যটা অপচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য (লাল ডাস্টবিন)। পচনশীল বর্জ্যটি বায়োগ্যাস প্লান্টে স্থানান্তর করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন হল, বিভাগের নষ্ট পচনশীল বর্জ্যগুলোও বায়োগ্যাস প্লান্টে স্থানান্তর করতে হবে।

এসব ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের দাবি, বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনে সরবরাহ করা সম্ভব।

উপজাত বর্জ্য ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ বিভিন্ন বাগানের সার হিসেবে ব্যবহার সম্ভব। এছাড়া অপচনশীন বর্জ্য ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টে স্থানান্তর করার মাধ্যমে পুনঃব্যবহার এবং পুনঃ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্রতিটি বিল্ডিংয়ের উপর সোলার প্যানেল স্থাপন করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।

এতে করে নবায়নযোগ্য উৎস থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। কয়লা এবং গ্যাসের উপর চাপ কমার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও কমবে। এছাড়া রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং করার মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে করে ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে।

নতুন বিল্ডিং স্থাপনে ২৫% এর কম বনায়ন যেনো না হয় সেই উদ্দেশ্য বিল্ডিং এর ছাদে, ফাঁকা জায়গায়, বারান্দার পাথে বিভিন্ন ধরনের লতা বা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ লাগানো যায়। এতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়া রাস্তার পাশে ঘাস রোপণ করার মাধ্যমে ধুলাবালুর সমস্যা নিরসন সম্ভব বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

‘ওয়েস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্লান’ সম্পর্কে তারা বলেন, শহরের বর্জ্য পানিকে দূষণমুক্ত করার মাধ্যমে বসতবাড়ি উপযুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং ফসলী জমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। এটি বর্তমান গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল সমস্যা সমাধানে অনেকটা সাহায্য করবে।

‘ওয়াটার ডিস্যালানাইজেশন অ্যান্ড হাইড্রোলেট্রিক পাওয়ার প্লান্ট’ সম্পর্কে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, সমুদ্রের লবনাক্ত পানি থেকে লবন দূর করে খাওয়ার উপযোগী করা এবং উক্ত পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করাই এ উদ্ভাবনের মূল উদ্দেশ্য।

বিভাগের প্রভাষক ইনজামুল হক সজল বলেন, আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছি। আমাদের উদ্ভাবনীগুলো বর্তমানে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও এটার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে পারলে ক্যাম্পাসসহ সবখানে পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব হবে। পরিবেশ সুরক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যা যা করণীয় আমরা তার চেষ্টা অব্যহত রাখব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম