শরণখোলায় এক ব্যবসায়ীর দাপটে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী!
বাগেরহাটের শরণখোলায় এক অবৈধ ব্যবসায়ীর দাপটে গ্রামের একাধিক পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার খোন্তাকাটা ইউপির উত্তর আমড়াগাছিয়া (ছয়ঘর) এলাকার দুই প্রবাসীসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা এমন অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তারা দাবি করেন, একই গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রশিদ খানের ছেলে মো. আসাদ খান কয়েক বছর আগে একটি অবৈধ করাত কল স্থাপন করে তাতে রাত দিন কাঠ চেরাই অব্যাহত রেখেছেন। ওই করাতকল (স-মিলটি) বসতবাড়ির পাশে স্থাপন করায় বিকট শব্দ দুষণ ও কাঠের পচা গন্ধে তাদের দৈনন্দিন জীবনে দিন দিন ভোগান্তি বাড়ছে।
.png)
এছাড়া ওই ব্যবসায়ী বসতবাড়ির পাশে কৃষি জমি দখল করে কয়েক বছর ধরে একটি অবৈধ ইটের ভাটা স্থাপন করে। ইট পোড়ানোর ফলে তার কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দিন দিন দূষিত হচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরেও পুনরায় ভাটা স্থাপন করেছেন। ওই ইট পোড়ানোর জন্য এরইমধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন তিনি।
ওই এলাকার এক সমাজসেবক জানান, ব্যবসায়ী আসাদ খানের ধারাবাহিক নির্যাতনের ফলে এলাকাবাসী এখন অনেকটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আইন কানুনের কোনো তোয়াক্কা না করে আসাদ বছরের পর বছর এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালালেও তার বিরুদ্বে কেউ পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ডালিম শিকদার বলেন, করাত কলে বেশি ক্ষতি না হলেও ইট-ভাটার কালো ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। তবে, উপজেলার সব অবৈধ ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রসাশনের মৌসুমের শুরুতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
ব্যবসায়ী আসাদ খান বলেন, করাত কল ও ইট-ভাটা ব্যবসা দুটোই বেআইনি তা আমি জানি। তবে অনেক টাকা দেনাগ্রস্ত থাকার কারণে কাঠ চেরাইয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এলাকায় একাধিক (স-মিল) করাতকল স্থাপিত হওয়ায় তাতেও তেমন লাভ নেই। নিজেদের মসজিদের জন্য কিছু ইট পোড়াতে চেয়েছিলাম। তবে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তা মনে হয় এ বছর আর হচ্ছে না।
এছাড়া দেনার টাকা পরিশোধ করতে পারলে মানুষ কষ্ট পায় এমন ব্যবসা আর করব না।
ইউএনও মোস্তফা শাহিন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।