বাঙ্গির পচন রোগ বাছাই করবে ‘মলিকিউলার মার্কার’
বাঙ্গি গ্রীষ্মকালের সুস্বাদু একটি ফলা। আমাদের দেশের উল্লেখযোগ্য ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম বাঙ্গি। দেশের প্রায় সব জায়গাতেই কমবেশি বাঙ্গির চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে বাঙ্গির চাষ হয়ে থাকে। বাঙ্গি কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে তখন সবজি হিসেবে খাওয়া যায় এবং পাকলে হলুদ রঙের হয়।একটু বেশি পেকে গেলে বাঙ্গি সহজে ফেটে যায়।বাঙ্গিতে রয়েছে অনেক খাদ্য পুষ্টি। বাঙ্গি আমাদের দেহকে অনেক সতেজ রাখতে সাহায্য করে থাকে।
বাংলাদেশে চাষকৃত বেশিরভাগ ফসলই বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয় যা কৃষকদের জন্য লোকসানের। ফলে তারা নানা ধরণের রাসায়নিক ওষুধ ও কীটনাশক ব্যবহার করে যা পরিবেশ ও মানুষ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
বাঙ্গি ও তরমুজ জাতীয় ফসল চাষাবাদ করে ভালো ফলন পাওয়ার ক্ষেত্রে ফল পচনকারী রোগ একটি বড় বাধা। ফল পচনকারী এ রোগের সহনশীল জাত বাছাইয়ের আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনহেরিটেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব মলিকিউলার মারকারস লিঙ্কড টু ব্যাকটেরিয়াল ফ্রুট ব্লচ রেজিস্ট্যান্স ইন মেলন’। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সুনচন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে তার পিএইচডি’র বিষয়বস্তু হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে গবেষণ করেন যা ৩ টি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং আরও ১ টিতে সাবমিট করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এসিডোভোরাক্স সাইট্রুলি (Acidovorax citrulli) ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বাঙ্গি ফল পচনকারী রোগ হয়। এই ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্তকরণের জন্য গবেষণা করে ৩ সেট মলিকিউলার মারকার ডেভেলপ করা হয়েছে যার মাধ্যমে আক্রান্ত ফসলের ক্ষতি থেকে আগাম রক্ষা পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে এই ব্যাকটেরিয়ার দুইটি স্ট্রেইনকে ক্লোনিং এবং সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘ইউনিভার্সাল ডাটাবেস এনসিবিআই’ এ সাবমিট করা হয়েছে। বাঙ্গির ৩৫ টি এবং তরমুজের ৭৭ টি ইনব্রিড লাইন এই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে ইনুকিউলেশন করে ফল পচনকারী রোগ সহনশীল বাংঙ্গীর ৬ টি এবং তরমুজের ৪ টি ইনব্রিড লাইন শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাঙ্গি ফল পচনকারী রোগ প্রতিরোধকারী ১ সেট মলিকিউলার মারকার ডেভেলপ করা হয়েছে, যা দিয়ে আমরা আগাম বাংঙ্গী ফল পচনকারী রোগ সহনশীল জাত বাছাই করতে পারব এবং শনাক্তকরণের এই আধুনিক (পিসিআর) পদ্ধতিটি আমরা প্রথম উদ্ভাবন করেছি। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভাবে ফল চাষাবাদের আগেই জানা যাবে জাতটি ফল পচনকারী রোগ প্রতিরোধী কি না।