পুরুষের চুল পড়ার কারণ ও প্রতিরোধের উপায়
নারীর চুল পড়ার ধরনের তুলনায় পুরুষের চুল পড়ার ধরন কিছুটা আলাদা। নারীদের ক্ষেত্রে চুল মাথার মাঝখান থেকে পড়ে, আর পুরুষের ক্ষেত্রে পড়ে সামনের দিক থেকে।
তবে যেভাবেই চুল পড়ুক না কেন, চুল পড়ার কারণগুলো প্রায় একই রকম থাকে। তবে কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা একটু বেশিই পালন করে। ছেলেদের চুল পড়ার কারণ কী?
আসলে ছেলেমেয়ে উভয়েরই চুল পড়ে। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টি এত বোঝা যায় না। ছেলেদের বোঝা যায়। নারীদের চুল পড়ার ধরনটা অন্যরকম। তাদের চুল যেহেতু মাঝখান থেকে পড়ে, তাই তারা ঢেকে রাখতে পারে। আর পুরুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সামনে থেকে চুল পড়ে। তাই তারা চুল ঢাকতে পারে না।
এছাড়া পুরুষের হরমোনের কারণ থাকতে পারে। ছেলেরা যেহেতু বাইরে যায়, তারা দূষণের সংস্পর্শে বেশি আসে। এজন্য তাদের বেশি চুল পড়ে। কারণ ধুলাবালি আসলে চুলে ফলিকলকে ব্লক করে দেয়। এতে আর পুষ্টিটা ভেতরে যেতে পারে না। যেতে না পারলে খুশকি হবে। সেবোরিক ডার্মাটাইটিস হবে। এগুলো হয়ে চুল পড়ে।
কীভাবে চুল পড়া প্রতিরোধ করা সম্ভব?
পুরুষের চুল পড়া বা টাক সমস্যা রোধের কিছু উপায় হচ্ছে, খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া-
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন
আপনার চুল পড়া সমস্যা দূর করার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগে বেশি দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
চুলের আঁটসাঁট স্টাইল বাদ দিন
আপনি যদি চুলের আঁটসাঁট স্টাইল পছন্দ করে থাকেন তাহলে এখনই সাবধান হয়ে যান। চুলে আঁটসাঁট স্টাইল করলে শক্ত টানের ফলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া চুলের গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সেখানে আর চুল গজায় না।
কি খাচ্ছেন তাতে নজর দিন
সুস্থ এবং ঘন চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। চুলের বৃদ্ধির জন্য আমিষ খুবই প্রয়োজনীয়। তবে চুলের পাশাপাশি শরীরের খেয়াল রাখতে হলে অবশ্যই চর্বিহীন আমিষ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। মাছে প্রচুর পরিমাণ চর্বিহীন আমিষ থাকে। বাদাম পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য বীজে প্রচুর ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর স্নেহ পদার্থ থাকে যা চুলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও পুষ্টি যোগায়। এমনকি কিছু মশলা চুলের পক্ষে খুবই উপকারী, যেমন: দারুচিনি। বিভিন্ন খাবারে দারুচিনি ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
আপনার চুলের ২৫ শতাংশ গ্রন্থি পানি দ্বারা গঠিত। আপনার দেহে পানির অভাব দেখা দিলে চুলের গ্রন্থিগুলো দুর্বল হয়ে যায় ফলে চুলের ঘনত্ব কমে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া দেহে পানির অভাব দেখা দিলে নতুন চুলগ্রন্থি তৈরি হয়না ফলে মাথায় চুলের পরিমাণ বাড়ে না।
ভিটামিন সেবন করুন
মানসিক চাপ, জিনগত সমস্যা এবং বিভিন্ন রোগ ছাড়াও পুরুষদেহে ভিটামিনের অভাব চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। মাথায় টাক পড়া প্রতিরোধ করতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন নিয়মিত গ্রহণ করুন। যেমন- ভিটামিন বি আপনার মানসিক চাপের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ভিটামিন সি, ডি এবং ই আপনার দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করতে সহায়তা করে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
অনেকেই আছেন যারা চুল পড়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন। ফলাফল হিসেবে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে চুলপড়াজনীত নানারকম সমস্যা বেড়ে যায়। সুতরাং মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা এড়াতে নিয়মিত বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম করুন।
ধূমপান এবং মদ্যপানের পরিমাণ কমান
আপনি হয়তো জানেন যে অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের ফলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এগুলোর প্রভাব যে আপনার চুলের ওপর পড়ে তা হয়তো আপনি কল্পনাও করেননি। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান এবং মদ্যপান চুল পড়ার জন্য দায়ী। ধূমপানের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়।
নিয়মিত ব্যায়াম সাহায্য করতে পারে
নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে যেমন শরীর সুস্থ থাকে, তেমনি আপনার চুলের জন্যও উপকারী। ব্যায়ামের ফলে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা দূরে থাকে এবং শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় যা চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে।