ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ ধর্ম ]

দশ দিনে খতমে তারাবি পড়া যাবে?

মুফতী শহীদুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৫:৫১, ২৯ এপ্রিল ২০২০
দশ দিনে খতমে তারাবি পড়া যাবে?
তারাবির নামাজে একবার কোরআন খতম দেয়া সুন্নত।

অনেকে দশ দিনের খতমে তারাবি পড়েন। এর যৌক্তিক কারণও থাকতে পারে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, ইবাদত সুন্দর হলে যেমন আল্লাহ তায়ালা খুশি হন, খারাপ হলে তিনি অসন্তুষ্টও হন। হাদিসে এসেছে, ফেরেশতারা খারাপ ইবাদত আমলকারীর মুখে ওপর নিক্ষেপ করে।

আমাদের দেশের দশ দিনের তারাবিগুলো দ্রুত শেষ করার কারণে বিভিন্ন দিক থেকে ত্রুটিযুক্ত থেকে যায়। তাই এ ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো। ফতোয়াটি ২৪ এপ্রিল ২০১৭ এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষীতে দেয়া হয়েছিলো।

‘শরীয়তবেত্তাদের মতে, তারাবির নামাজে একবার কোরআন খতম দেয়া সুন্নত। দুই খতম দেয়া ফজিলতের বিষয়। আর তিন খতম দিতে পারা অতিউত্তম। তারাবির নামাজে তিন খতম দেয়ার পদ্ধতি হচ্ছে, প্রত্যেক দশকে এক খতম দেয়া। এ জন্য তারাবিতে তিন খতমের নিয়তে প্রতি দশকে এক খতম পড়া বা শোনা খুবই ফজিলতের বিষয়।

দ্বীনি বা দুনিয়াবি জরুরি কোনো কাজ থাকার কারণে কিছু লোক যদি দশ দিনে খতমে তারাবি পড়তে চায় তাতে শরয়ীভাবে কোনো সমস্যা নেই। বরং তারাবিতে এক খতম পূর্ণ করা সুন্নতের ওপর আমল হলো। তারপর সফর বা অন্যকোনো জরুরি কাজে লিপ্ত হলো। অবশ্য দশ দিন বা বিশ দিনে কোরআন খতম করার ক্ষেত্রে নিম্মোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি-

এক. কোরআন তেলাওয়াতের আদবগুলো রক্ষা করা :

সহিহ শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করা। অর্থাৎ হরফের উচ্চারণ ও তাজবীদের প্রতি লক্ষ্য রেখে পড়া। বর্তমানে কোনো কোনো হাফেজ সাধারণ মানুষকে খুশি করার জন্য বা তাদের চাপে খুব দ্রুত কোরআন তেলাওয়াত করে। যার কারণে হরফগুলো স্পষ্টভাবে আদায় ও  তাজবীদের প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুনগুলো মানা সম্ভব হয় না। এমনটা করা কখনো উচিত নয়। এতে নেকির পরিবর্তে গুনাহের আশঙ্কা রয়েছে।

দুই. তারাবি পূর্ণ রমজান মাস পড়া :

কিছু লোক মনে করে যে, তারাবির নামাজে কোরআন খতম করাই হলো নিয়ম। এ জন্য তারা দশ দিন বা বিশ দিনের তারাবিতে কোরআন খতম করে, রমজানের বাকি দিনগুলোতে তারাবি পড়া থেকে বিরত থাকে। শরীয়তে পূর্ণ রমজান তারাবি পড়া সুন্নাত। আর তারাবির নামাজে কোরআন খতম করা আলাদা সুন্নত। দশদিনে এক খতম পূর্ণ করার দ্বারা শুধু মাত্র একটি সুন্নত আদায় হবে। বাকি সুন্নত আদায় করতে হলে পুরা রমজান তারাবি পড়তে হবে। তাই ওজরের কারণে যারা দশ দিনে খতম পূর্ণ করেন, তাদের কর্তব্য হলো খতম শেষ হওয়ার পরও বাকি রমজান তারাবি চালিয়ে যাওয়া।

তিন. বিশেষ কারণ ছাড়া মসজিদের তারাবি না ছাড়া :

দশ দিনের খতমে তারাবি সাধারণত মসজিদগুলোতে হয় না। বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট, মার্কেট ইত্যাদিতে হয়ে থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জামাতের মতো, তারাবির জামাতও মসজিদেরটাই উত্তম। এ জন্য বাসা বাড়ি, দোকান, মার্কেটে দশদিনের খতমে তারাবিতে কেবল তারাই শরিক হবে যাদের দশ দিনে খতম শেষ হওয়ার পর কোথাও সফর বা জরুরি কাজ থাকে বা বেশি বেশি কোরআন পড়া বা শোনার ইচ্ছা থাকে। মসজিদগুলোতে সাধারণত এক খতম কোরআন পড়া হয়। বাকি লোকেরা মসজিদের জামাতে শরিক হয়ে তারাবির নামাজ আদায় করবে।

চার. অকারণে কাউকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়া :

দশ দিনের খতমে তারাবিগুলোতে ব্যাপকভাবে দেখা যায়, কিছু মানুষ প্রতি দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে রুকু পর্যন্ত বসে বসে গল্পগুজব করতে থাকে বা শুধু শুধূ বসে আছে। এতে তাদের কোরআন শোনা পূর্ণ হয় না। তাদের কারণে ইমাম ও অন্যান্য মুসল্লিদের নামাজে বিঘ্নতা ঘটে। এরা সাধারণত এমন লোকই হয়ে থাকে, যারা দশদিনে খতম শেষ করে, বাকি দিনগুলোতে একেবারেই তারাবি পড়ে না। এ জন্য ব্যাবস্থাপকদের উচিত, তাতে অকারণে কাউকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়া। বরং ওই সব লোকদের শরিক করা, যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কারণে সফরে যাবে। অথচ কোরআন শোনার প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

পাঁচ. মসজিদে এশার জামাত অংশগ্রহণ করা :

দশ দিনে খতমে তারাবিতে অংশগ্রহণকারীদের অভ্যাস হচ্ছে, তারাবির নামাজ দ্রুত শেষ করার জন্য এশার নামাজও মসজিদে রেখে বাসা-বাড়িতে পড়ে ফেলে। এমন করা উচিত নয়। বরং ফরজ নামাজ মসজিদে পড়ে, তারপর বাসা বাড়ি ইত্যাদিতে গিয়ে তারাবি পড়বে। কেননা, মসজিদের ফরজ নামাজের জামাত ছাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাধারণত মসজিদগুলোতে ফরজ নামাজের জামাত শুরু ওয়াক্তেই হয়ে থাকে। আর পাঁচ দশ মিনিট দেরী হলেও কোনো অসুবিধা নেই। তাই এক্ষেত্রে সতর্কতা কাম্য।’  

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএজে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!