কাজের মেয়েকে গৃহকর্ত্রীর এ কেমন অমানুষিক নির্যাতন?
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাদিয়া বেগম (১৮) নামে এক কাজের মেয়েকে লাঠিপেটা ও গরম পানি ঢেলে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় সাদিয়াকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার পিতার নাম জামাল মিয়া। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার সিংগেরকান্দা গ্রামে তার বাড়ি। সাদিয়ার মা-বাবা বেঁচে নেই।

.png)
এ ঘটনায় আটক স্বামী-স্ত্রী হলেন- ভৈরব বাজারের গিয়াস উদ্দিন মিয়ার মেয়ে মেহেরুন্নেছা অপি এবং তার স্বামী উপজেলার শিমুলকান্দি গ্রামের হাজী উসমান গণির ছেলে তানভীর রাফসান সাদলী।
সাদিয়া জানায়, গেল সোমবার সন্ধ্যায় কাজের সময় একটি চুড়ি ভেঙে গেলে তাকে প্রথমে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। পরে শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়। ছুরি দিয়া কপালে আঘাত করে। গলায় ওরনা পেঁচিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। এরপর রাতে সে বাসা থেকে গোপনে পালিয়ে খালার ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, সাত বছর আগে সাদিয়া বেগম তার দূরসম্পর্কের এক খালার মাধ্যমে ভৈরব বাজারের গৃহকর্ত্রী মেহেরুন্নেছা অপির বাসায় কাজ করতে আসেন। প্রথম দিকে তাকে কাজের জন্য কোনো নির্যাতন করা হতো না। কয়েক বছর যাওয়ার পর কাজ করতে গিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় যখন-তখন তাকে মারধরসহ প্রায়ই তার হাতে গরম পানি ঢেলে দিতো। অনেক সময় তার হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারপিট করা হতো। তাকে কখনো বাসার বাইরে যেত দিতো না। এমনকি গৃহকর্ত্রী বাসার বাইরে গেলে তাকে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. ফেরদৌস হায়দার জানান, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতগুলো গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) বাহালুল খান বাহার জানান, কাজের মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর