এক্স-রে মেশিন যখন নিজেই রোগী!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা অসহায়, গরিব ও সাধারণ রোগীরা।
দীর্ঘদিন মেশিন বিকল থাকার ফলে বাধ্য হয়ে আগত রোগীদের উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে অতিরিক্ত মূল্যে তাদের এক্স-রে করতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে পৌর শহরসহ উপজেলা ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ২শ’ থেকে আড়াইশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। চিকিৎসা নিতে ওইসব রোগীদের মধ্যে অনেকের এক্স-রে এর প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
২০১৫ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি উন্নতমানের এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়। শুরুতে এই মেশিনটি বেশ ভালোভাবে চললেও গত দুই বছর ধরে এটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পরও এক্স-রে মেশিন মেরামত না করায় রোগীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকা থেকে আসা মো. রফিজ উদ্দিন জানান, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছেলের হাতের এক্স-রে করাতে এসে জানতে পারলাম মেশিনটি বিকল। তাই চিকিৎসক অন্য জায়গা থেকে করাতে বলেন। বাধ্য হয়ে বাহির থেকে ৪শ’ টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হয়েছে।
আফিয়া খাতুন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেলে ডা. দেখানোর জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। চিকিৎসক পা এক্স-রে করানোর কথা জানান। কিন্তু মেশিন না থাকায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করাতে হয়। এখানে ব্যবস্থা থাকলে আমাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হতো না।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যান্ড রেডিওলোজিস্ট গকুল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, অনেক রোগী এখানে এক্স-রে করাতে আসেন। কিন্তু করাতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যান। গত দুই বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এ পযর্ন্ত এক্স-রে মেশিনটিকে তিনবার মেরামত করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুর রহমান বলেন, এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হবে।