এবারের দুটি পর্বের প্রথম পর্ব হয় ১০-১২ জানুয়ারি। এতে যোগ দেন মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা। ১৭ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের তিনদিনের ইজতেমায় যোগ দেন দিল্লির মাওলানা সা’দ অনুসারীরা।
চলছে বয়ান: দুইদিন ধরে মুসল্লিরা সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর বয়ান করা হচ্ছে। তাবলিগের ছয় উসুলের (মৌলিক বিষয়ে) ওপর আলোচনা চলছে। শনিবার বাদ ফজর বয়ান করেন মাওলানা মুরসালিন, তরজমা করেন মুফতি আজিম উদ্দিন।
.png)
তাশকিল: ইজতেমা শামিয়ানার উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি খিত্তায় তাশকিলের জন্য বিশেষ স্থান রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে ইচ্ছুকরা নাম তালিকাভুক্ত করে সেখানে অবস্থান করছেন। কাকরাইল মসজিদের মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্বীনের মেহনতে পাঠানো হবে।
বিদেশি মুসল্লি: ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনই জর্ডান, লিবিয়া, আফ্রিকা, লেবানন, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইরাক, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ৩৫ দেশ থেকে দেড় সহস্রাধিক মুসল্লি আসেন। ভাষাভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ময়দানে রয়েছেন বিদেশি মেহমানরা।
পানি: গাজীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, ইজতেমার প্রথম পর্বে অতিরিক্ত মুসল্লি আসার ফলে পানির কিছুটা সমস্যা হলেও দ্বিতীয় পর্বে অসুবিধা হবে না। পরবর্তীতে ইজতেমায় মুসল্লির সংখ্যা বাড়লে মাঠে পানির পাম্প বাড়াতে হবে। আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত অজু-গোসলের জন্য সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও যান চলাচল: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের মিরেরবাজার থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত, কামারপাড়া থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ও বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
তিনি বলেন, ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। শামিয়ানার ভেতরে ও বাইরে মুসল্লি বেশে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহস্রাধিক সদস্য রয়েছে ।
বিশেষ ট্রেন: আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে বিভাগ। মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে। ইজতেমায় আগত যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অতিরিক্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী রেলস্টেশন মাস্টার মো. হালিমুজ্জান।