ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভুট্টায় আগ্রহ বাড়লেও পাটে অনীহা কৃষকের

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১৮:২৫, ১৪ জুন ২০২০
ভুট্টায় আগ্রহ বাড়লেও পাটে অনীহা কৃষকের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন হওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। প্রত্যেক মৌসুমে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজার মূল্য কম থাকায় ধান চাষ করে প্রায় সময়ই তাদের লোকসান গুনতে হয়। তাই ধানের বিকল্প হিসেবে কম খরচে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তারা। 

অপরদিকে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকেরা। এক সময়ের সোনালি আঁশ খ্যাত পাটর চাষ এ অঞ্চলে অনেকটাই কমে গেছে। জমিতে স্বল্প সময়ে অধিক ফসল ফলানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, পাট পচানোর জন্য পানি সংকট, বিভিন্ন সময়ে দরপতনসহ নানা কারণে পাট চাষ যেন এখন কৃষকের অনীহা আর অবহেলায় পরিণত হয়েছে। 

কৃষকেরা জানান, প্রতি ১ বিঘা জমিতে গড়ে ৭ থেকে ৮ মণ পাট উৎপাদন হয়। আর প্রতি ১ মণ পাট সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এক্ষেত্রে বাজার মূল্য হিসেবে উৎপাদন খরচ বেশি হয় এবং অনেক সময় পাটের দরপতন ঘটে ও পাট পচানোর জন্য পানি সংকট হয় সে কারণে তাদের পাট চাষে অনীহা।

Advertisement

এদিকে উপজেলার অল্পসংখ্যক কৃষক যারা পাট চাষ করছেন তাদের মতে, জৈষ্ঠ মাস শেষ হয়ে এলেও তেমন বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় ও এলাকার বেশিরভাগ খাল, বিলে তেমন পানি না থাকায় চিন্তিত কৃষক। সে কারণে পাট পচানো নিয়ে শঙ্কায় কৃষক, এতে পাটের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিবনগর ইউপির ভুট্টা চাষি হামিদুল হক বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন হওয়ায় ভুট্টা চাষ করা লাভজনক। তাই তিনি এ মৌসুমে প্রায় ৬ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করে অধিক মুনাফা অর্জন করেছেন। 

খয়েরবাড়ী এলাকার শাহিনুরসহ একাধিক ভূট্টা চাষি জানান, এ এলাকায় ভুট্টার চাষ ব্যাপকহারে বাড়ছে, সে অনুযায়ী এ অঞ্চলে ভুট্টাভিত্তিক কোনো কলকারখানা গড়ে উঠেনি।

উপজেলার উত্তরকৃষ্ণ পুর গ্রামের কৃষক লক্ষী কান্ত রায় ও রঞ্জিত রায় জানান, বর্তমানে একজন দিনমজুরের দৈনিক হাজিরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এক বিঘা জমির পাট কেটে তা জাগ দিয়ে শুকিয়ে ঘরে তুলতে যে পরিমাণ দিনমজুর লাগে তাতে পূর্বের খরচ মিলিয়ে মণপ্রতি পাটের দাম পড়ে ১ হাজার টাকার বেশি। আবার পাট পচনের খাল-বিলগুলোর মধ্যে কতগুলোতে পানি নেই, কোনো কোনো খালে পানি থাকলেও মাছ চাষ করায় পানি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পাট জাগ দেয়া অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে,তাই পাট চাষে তেমন আগ্রহ নেই তাদের। তাই তারা নিজের প্রয়োজন মেটাতে স্বল্প পরিসরে এ বছর পাট চাষ-আবাদ করেছেন। প্রতি বছর মণ প্রতি পাটের বাজার মূল্য ১ হাজার থকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বেশি এবং বাজার মূল্য কম হওয়ায় তারা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

উপজলো কৃষি অফিসার হামীম আশরাফ বলেন, উপজেলার বেশ কিছু জায়গায় এ বছর ব্যাপকভাবে ভুট্টার চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ভূট্টার ফলন প্রায় ৯ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন, যা অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি ফলন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!