ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

টানবাজার পার্ক উচ্ছেদ করলো নাসিক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০০, ২৬ আগস্ট ২০১৯
টানবাজার পার্ক উচ্ছেদ করলো নাসিক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টানবাজার পার্কের ২২১টি দোকান ভেঙে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এসব ভেঙে ফেলা হয়।

সূত্র বলছে, ৭০ বছর আগে শহরের প্রধান মার্কেট হিসেবে টানবাজার পার্ক পরিচিতি ছিল। এর পাশে ছিল নিষিদ্ধ টানবাজারের পতিতালয়। সেই থেকে পার্ক ও পতিতালয় উভয় নারায়ণগঞ্জের পরিচয় ছিল দেশব্যাপী। সেই পতিতালয় উঠিয়ে দেয়ার পর থেকে এই পার্কে ব্যবসায় ধস নামে। পরে পার্কের মালিক দোকান বিক্রি বা ভাড়া দিয়ে টানবাজার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেন।

এরপর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা পার্কটি আধুনিকায়ন করতে কাজ শুরু করেন তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন রূপান্তর হওয়ার পর এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ ও শহরের সবোর্চ্চ পার্কিং ব্যবস্থার কাজ শুরু করে মেয়র ডা. আইভী। এতে টানবাজার পার্কের মালিক সমিতির সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক বসে নাসিক মেয়রের। এ সময় ব্যবসায়ীরা কিছুদিন সময় চান। মেয়র তাদের সময় দিয়ে দ্রুত দোকান সরিয়ে নিতে বলেন।

উচ্ছেদ টিমের প্রধান নাসিকের সার্ভেয়ার আবুল কালাম জানান, দীর্ঘদিন সময় দেয়ার পর সোমবার থেকে টানবাজর পার্ক উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় তলা মার্কেট করা হবে। এর পাশাপাশি থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

টানবাজার পার্কের ২২১টি দোকানের মালিকরা নতুন ভবন তৈরির পর একটি করে দোকান পাবেন তবে কিছু শর্তের প্রেক্ষিতে। উচ্ছেদ চলাকালে কেউ আমাদের বাধা দেয়নি, বরং মালিকরাই দোকান উচ্ছেদে সহযোগিতা করেছে। ফলে আশা করছি দ্রুত সময়ে উচ্ছেদ পরিচালনা শেষ হবে।

টানবাজার পার্ক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হাজী হানিফ উদ্দিন সেলিম বলেন, আমরা নাসিকের এমন আচরণ আশা করিনি। মেয়রের সঙ্গে দেখা করে কিছুদিনের সময় চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি আজই (সোমবার) ভেঙে দিলেন। আমরা এমনিতেই ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। নাসিকের হাতিঝিল প্রকল্পের কারণে টানবাজার-মিনা বাজার ব্রিজটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে অনেক ক্রেতাই এখন আর এই পার্কে আসেন না।

বহুতল ভবনে দোকান দেয়ার ব্যাপারে তিনি জানান, দোকান দিবেন বলে জানিয়েছেন মেয়র। কিন্তু কিভাবে কোন নিয়মে তা দেয়া হবে বা কবে নাগাদ এই ভবনটি করা হবে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে আমরা ২২১ জন মালিক অনিশ্চিতায় মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!