স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরে বাস চলল এই গ্রামে!
দক্ষিণ ভারতের আর পাঁচটা গ্রামের মতোই ছিল মীনাক্ষীপুরম। পথঘাট, বিদ্যুৎ পরিষেবা, স্কুল, হাসপাতাল, টেলিযোগাযোগ–সবই হয়েছে সেখানে। হয়নি শুধু বাস-চলাচল। স্বাধীনতার ৭৩ বছর পর বদলাল এই ছবি। দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনিক স্তরে আবেদন ও নানা রকম চেষ্টার শেষে সোমবার ইচ্ছে পূরণ হলো গ্রামবাসীদের। তামিলনাড়ুর বিরুধুনগরের মীনাক্ষীপুরম গ্রামে চালু হলো বাস পরিষেবা।
জানা গেছে, আপাতত সকাল এবং সন্ধ্যায় দুটি করে বাস ওই গ্রামে যাওয়া-আসা করবে।
সোমবার যখন প্রথম বাসটি গ্রামে পৌঁছাল, তখন রীতিমতো উৎসবের মেজাজ দেখা যায় গ্রাম জুড়ে। যেন বহু দিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এই দিন। বাসটিকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে ফেলেন গ্রামবাসীরা। চালক এবং খালাসিকেও ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
অনেক বছর ধরে এই বাস পরিষেবার জন্য এলাকাবাসীকে আন্দোলন করতে হয়েছে। বারবার বিক্ষোভ এবং ধর্নাও দিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত বাস পরিষেবার জন্য। এত দিন ধরে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাশের গ্রামে গিয়ে তবে শহরে যাওয়ার জন্য বাসে চাপতে হতো এই গ্রামের বাসিন্দাদের।
শুধু তা-ই নয়। যারা গ্রামের বাইরে কাজ করেন বা গ্রামের বাইরে পড়াশোনা করেন, তাদের নিয়মিত যাতায়াত করার সময়ে নিত্য সমস্যা ছিল। রোজ রোজ কাকভোরে বেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে করে যেতে হতো পাশের গ্রামে। গাড়ি ভাড়া করলেও তার খরচ অনেক। পরিস্থিতি এতই খারাপ ছিল, যে গ্রামের বাসিন্দাদের আত্মীয়রাও গ্রামে আসতে চাইতেন না।
অবশেষে বদল হলো পরিস্থিতির। চলতে শুরু করল বাস। স্বাভাবিকভাবেই এতে খুব খুশি গ্রামবাসীরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সামান্য বাস-পরিষেবা পেতে এত দিন অপেক্ষা কেন করতে হলো মীনাক্ষীপুরমকে!
স্বাধীনতার পরে পেরিয়ে গিয়েছে ৭৩ বছর। খুব তাড়াতাড়িই ভারতে ছুটবে বুলেট ট্রেন। সফলভাবে চাঁদে পাড়ি দিয়েছে চন্দ্রযান-২। রোজ নতুন নতুন কোনো উন্নতির গল্প লিখছে দেশ। এ সবের মধ্যেও যে ভারতে এমন একটি গ্রাম লুকিয়ে ছিল, যেখানে রোববার পর্যন্তও বাস চলাচল পরিষেবা চালু ছিল না– এ যেন অবিশ্বস্য!
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ