জেইডন সিলসের বল জাকির হাসানের ব্যাটে লেগে ভেঙে দেয় স্টাম্প। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৩৪ বলে ১৫ রান করেন । আলজারি জোসেফের বলে গালিতে ক্যাচ তুলেও মিকাইল লুইস তালুবন্দি করতে না পারায় বেঁচে গিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। পরে অবশ্য দ্বিতীয় স্লিপে অ্যালিক অ্যাথানেজের হাতে ক্যাচ তুলে ৩৩ বলে ৫ রানে এই ওপেনার বিদায় নেন।
বাকি সময়টা অবশ্য পার করেছেন মুমিনুল হক (৭) ও শাহাদাত হোসেন দীপু (১০)। এই দুজনের সঙ্গে বাকি ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতার উপর অ্যান্টিগা টেস্টে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো নির্ভর করছে।
.png)
শনিবার স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে ২৫০ রান নিয়ে দিনের খেলা আরম্ব করেছিল। জাস্টিন গ্রেভস ১১ ও জশুয়া ১৪ রান নিয়ে ক্রিজে নামেন। দিনের প্রথম ওভারেই কোনো রান যোগ করার আগেই হাসানের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান জশুয়া।
জশুয়ার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন আলজারি জোসেফ। তবে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। তাকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন হাসান। দলীয় ২৬১ রানে ৩ বলে ৪ রান করে আউট হন জোসেফ।
এরপর ক্রিজে আসা কেমার রোচকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন গ্রেভস। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন গ্রেভস। প্রতিরোধ গড়েন এই দুই ব্যাটার। টাইগার বোলারদের হতাশ করে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করেন তারা।
কেমার রোচকে সঙ্গে নিয়ে টাইগার বোলারদের অসহায় করে রাখেন জাস্টিন গ্রিভস। অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে গড়েন সর্বোচ্চ ১৪০ রানের জুটি। এর আগের রেকর্ডটি ছিল জিম্বাবুয়ের হিথ স্ট্রিক ও ট্রাভিস ফ্রেন্ডের। টাইগারদের বিপক্ষে ২০০১ সালে করেছিল ১০৮ রান।
সাবলীল ব্যাটিংয়ে ১৮১ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন গ্রেভস। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তবে দলীয় ৪৩৮ রানে ২৫ বলে ১৮ রান করে আউট হন সিলস। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৪৫০ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। ১১৫ রানে অপরাজিত থাকেন গ্রেভস।
বল হাতে ৮৭ রান খরচায় ৩ উইকেট পাওয়া হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের কীর্তি গড়েন। জশুয়া ডি সিলভাকে আউট করে নতুন রেকর্ডের মালিক হন হাসান।এটি ছিল ২৪তম উইকেট। তার পথ ধরে ভাঙেন ১৬ বছরের রেকর্ড। পেছনে ফেলেন পেসার শাহাদাত হোসেনকে। ২০০৮ সালে ৯ টেস্টের ১৪ ইনিংসে ২৩ উইকেট নেন শাহাদাত।
২০২৪ সালে ৮ টেস্টের ১৩ ইনিংসে হাসানের উইকেট দাঁড়াল ২৫টি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে এক পঞ্জিকাবর্ষে কমপক্ষে ২০ উইকেট নেয়ার রেকর্ড রয়েছে আর দুজনের।
এর আগে ২০২২ সালে ইবাদত হোসেন ৮ টেস্টের ১৪ ইনিংসে নেন ২১ উইকেট। সৈয়দ খালেদ আহমেদ ২০২২ সালে ৮ টেস্টের ১৫ ইনিংসে তুলেন ২০ উইকেট। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক ক্যালেন্ডার বছরে টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারী স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ২০১৮ সালে ৭ টেস্টে শিকার করেন ৪৩ উইকেট।
তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসানের ঝুলিতে জমা পড়ে ২ উইকেট। একটি উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম।