বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। সব সরকারি কর্মচারীকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার জন্য বলা হবে মর্মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ছক প্রস্তুতের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। ছক জারির পর সার্বিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে কর্মরত সকলের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হবে।
গত বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ক্রীড়াঙ্গন সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপসারণ করেছে। এরই মধ্যে তাদের কেউ কেউ অন্যত্র বদলি হয়েছেন।
এনএসসির সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮ অনুযায়ী জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে সার্বিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গকে তাঁদের নামের পাশে বর্ণিত ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন/বোর্ড/সংস্থার স্ব স্ব পদ থেকে নির্দেশক্রমে অপসারণ করা হলো।’
.png)
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান বলেছিলেন, সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এক্ষেত্রে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির জন্য এক সপ্তাহ এবং সম্পদ বিবরণী দাখিলের ফর্ম প্রস্তুত করার জন্য আরো এক সপ্তাহ সময় দরকার হবে। যারা সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৯৭৯ সালে সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছর পরপর সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার বিধান চালু করা হয়। জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এ এটি যুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের প্রতি বছর সম্পদের হিসাব নিজ দফতরে জমা দিতে হবে। তবে ২০০২ সালে ওই বিধিমালা সংশোধন করে এক বছরের পরিবর্তে প্রতি পাঁচ বছর পরপর কর্মচারীদের হিসাব জমা দেওয়ার বিধান চালু করা হয়। কিন্তু চার দশক ধরে এ নিয়ম পুরোপুরি প্রতিপালন করা যায়নি। এ ইস্যুতে এবার নড়েচড়ে বসেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।