ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

টাইগারদের বিপক্ষে পাকিস্তানের হারের কারণ বললেন লতিফ 

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ২৬ আগস্ট ২০২৪
টাইগারদের বিপক্ষে পাকিস্তানের হারের কারণ বললেন লতিফ 
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর আবারো যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে সুবাতাস। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ উপরে উঠে ষষ্ঠ স্থানে টাইগাররা। মুদ্রার উল্টা পিঠ দেখছে পাকিস্তান। ঘরের মাঠে ১০ উইকেটের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলটির ক্রিকেটাররা সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন।

ইতিহাসে নিজেদের অন্যতম বাজে পরাজয়ের শিকার হওয়া পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থক ও সাবেক ক্রিকেটাররা করছেন তির্যক মন্তব্য। সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের ফলের মূল কারণটাও বলে দিয়েছেন।

ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লতিফ বলেন, ‘দুনিয়া জানে পেস আক্রমণ আমাদের শক্তি ছিল। কিন্তু আমাদের সেরা ফাস্ট বোলাররা আর ভয়ংকর গতিতে বোলিং করে না। গতকাল এটি পরাজয়ের মূল কারণ ছিল। তাদের গতি অনেকটাই কমে গেছে।’ 

Advertisement

পাকিস্তানি পেসারদের চোটাক্রান্ত থাকা তাদের গতি কমিয়ে দিয়েছে বলেও মনে করেন লতিফ। এক সময় শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, খুররাম শাহজাদরা প্রতি ঘণ্টায় ১৪৫ মিনিট গতিতে বল করলেও এখন তা ১৩০-এ নেমেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসবের জন্য প্রশিক্ষক এবং ফিজিওকে দায়ী করেন সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

‘আপনি যদি একজন জোফরা আর্চারকে দেখেন, তিনি দুই বছর বিরতির পরে ফিরে এসেছেন। কিন্তু তার গতিতে এক বিন্দু হারাননি। জাসপ্রিত বুমরাহের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি একটি অপারেশন থেকে ফিরে এসে একই গতিতে বোলিং করেন। প্যাট কামিন্স চোটের কারণে দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। যখন তিনি ফিরে আসলেন, তার গতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। কেন আমাদের বোলারদের গতি কমে যাচ্ছে? স্পষ্টতই, আমাদের সাপোর্টিং স্টাফরা সঠিকভাবে কাজ করছে না।’ 

রাওয়ালপিন্ডির পিচ বুঝতে না পারা, বিশেষজ্ঞ স্পিনার না খেলিয়ে চার পেসার নামানোর মতো বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসছে। আবহাওয়া ও কন্ডিশন বুঝতে না বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়াকে লতিফ দায়ী করেন। 

‘বিশ্বের এই (উপমহাদেশ) অঞ্চলে, বল শীতকালে পেস বোলিংয়ে বেশি মুভ করে। এ সময় পিচের নিচে এবং বাতাসেও আর্দ্রতা থাকে। আমরা এখন আগস্টে মাসে রয়েছি, আবহাওয়া শুষ্ক। আপনি যদি আগস্টে খেলেন, তাহলে স্পিনার দরকার এবং আমাদের কাছে মানসম্পন্ন স্পিনার নেই। আমরা স্পিনার ছাড়াই টেস্ট খেলছিলাম। বৃষ্টি থাকলেও গরমের কারণে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে গিয়েছিল। এই গরম পরিস্থিতিতে সবুজ পিচও পেসারদের জন্য কাজ করে না।’ 

‘আমাদের ক্রিকেট মৌসুম এখন শুরু হওয়ার কথা নয়। সাধারণত অক্টোবরে শুরু হয় এবং আমরা দুই মাস আগে খেলা আরম্ব করেছি। পিচ যতই সবুজ হোক না কেন, তাপের কারণে এটি শুকিয়ে যায়। ফাস্ট বোলারদের কোনো সহায়তা হবে না। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ব্যাপারটা অন্যরকম হবে।’ 

পেসারদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন লতিফ। সাদা বলের ক্রিকেটে কার্যকর হলেও লাল বলে তারা একেবারেই নয় বলেও মন্তব্য করেন। তার সাফ কথা, ‘পাকিস্তানে টেস্ট ম্যাচের কোনো বোলার নেই। তারা টেস্ট ম্যাচে ৩০ ওভার বল করতে পারে না। এই ধরনের বোলিং দিয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ থেকে পাঁচ দিনের ম্যাচ একেবারে আলাদা। টেস্টে প্রতিটি সেশন আলাদা। বাংলাদেশ ভালোই মানিয়ে নিয়েছে। আমাদের আগের মতো মানসম্পন্ন স্পিনার আর নেই, তাই বল টার্ন করানোর বিকল্পও হাতে নেই। আমরা গতির উপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু কৌশলগুলো আমাদের বিপরীতে কাজে লেগেছে।’ 

‘আমাদের বোলাররা খুব কম বোলিং করেছিল, যখন বাংলাদেশ পুরোপুরি বল ছোড়ার দিকে মগ্ন ছিল। এটি আসল পার্থক্য তৈরি করেছিল। মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসানের মতো মানসম্পন্ন স্পিনারও রয়েছে তাদের। ব্যক্তিগতভাবে আমি দলে তাইজুল ইসলামকেও অন্তর্ভুক্ত করতাম।’ 

টসে জিতে আগে ফিল্ডিং নিয়ে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নেয় টাইগার বোলাররা। এ নিয়ে রশিদ লতিফের বিশ্লেষণ, ‘তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় বোলিং বেছে নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।  প্রাথমিক সাফল্য পাওয়া প্রমাণ করে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’

পাকিস্তানের ৬ উইকেটে ৪৪৮ রানে ইনিংস ঘোষণাটা সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটারের দৃষ্টিতে ছিল অতি তাড়াতাড়ি। আরো পরে সেটি দেওয়া শান মাসুদের দলের দরকার ছিল বলেই তিনি মনে করেন। 

‘ইনিংস ঘোষণার দরকার ছিল না। তাদের ৫৫০ রান করার লক্ষ্য থাকা উচিৎ ছিল। রিজওয়ান ১৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং শাহিন আফ্রিদি ৩০ রান নিয়ে ভালো ব্যাট করছেন। সেই ১০০ অতিরিক্ত রানের ঘাটতির জন্য আমাদের মূল্য দিতে হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কন্ডিশন ভালোভাবে বুঝেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে। তারা পাকিস্তানি বোলারদের মাটিতে নামিয়ে নামিয়ে বড় পুঁজি গড়ে।’
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/শুভ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!